মেয়ে, লেখাটি তোমার জন্য

পৃথা শারদী: প্রিয় মেয়ে,আমার ভালবাসা নিও। হয়তো বা তুমি জন্মাওনি, হয়তো তুমি জন্মেছো, হয়তো বা তোমার জীবনের সায়াহ্নে তুমি, হয়তো তুমি আমারই আরেক রূপ, আজ তোমাকে তোমার জীবনের গল্প বলি, তোমার সেই একঘেঁয়ে জীবনের গল্প।

জানো তো তুমি? যদি তোমার জন্ম হয় আর পাঁচটা ছেলের পর, তোমায় বলা হয় একঘর আলো করা মানিক। যদি তোমার জন্ম হয় আরো পাঁচটা মেয়ের পরে, তবে সেই আতুর ঘরেই তুমি যদি মরে না যাও, বা তোমাকে মেরে ফেলা না হয়, তবে আমি নিশ্চিত তুমি হও বোঝা, তোমার লেখাপড়া, তোমার বিয়ে, তোমাকে পার করে দেয়ার চিন্তা শুরু হয় জন্মের পরপরই।

pritha-sharodi
পৃথা শারদী

এ গেলো জন্মের ঠিক পরের ব্যাপার। ধীরে ধীরে বড় হও, গায়ের রঙ কচি হলুদের মতো না হয়ে হচ্ছে উজ্জল বাদামী কিংবা কালো। সবার নজর পড়ে তোমার ওপর। জামা কিনতে গেলে বলছে, এই জামাটা নিও না, এমনিতেই রঙ চাপা, আরো চাপা লাগবে।

বাসায় কেউ বেড়াতে এলে বলে, ইশ্ টমেটো খাও না কেন? গায়ের রঙ ভেতর থেকে ফুটে উঠবে, জেল্লা বাড়বে। গাজর খাও! নিয়মিত দুধ খাও। ভেতরের কালো রঙ কেটে যাবে। কেউ কেউ তিনবেলা জোর করে ধরিয়ে দিতে চায় ফেয়ার এন্ড লাভলী কিংবা পন্ডস হোয়াইট বিউটি। তুমি অবাক চোখে তাদের দিকে তাকাও! সবার চোখে অসুন্দর ধরা পরে মেয়ে তুমি মেনে নিয়েছো তুমি কালো, তুমি অসুন্দর।

কেউ তোমার খুব সুন্দর টলটলে মুখখানা দেখে না, একজোড়া ভাসা ভাসা চোখ দেখে না, তোমার কিছুই কারো ভালো লাগে না। কেন??

কারণ তুমি যে কালো! কালো চামড়া তোমার সবটা নিয়েছে, আবেগ অনুভূতি সবটা ঢাকা পড়ছে এই চামড়ার আড়ালে, হয়তো বা তোমার মনের সেই অপার সৌন্দর্যটুকুও, যার ছিটেফোঁটাও নেই কোনো ধবধবে চামড়ার নারীর মাঝে! আহা! সে শুভাকাঙ্খীরা যদি বুঝতেন তাদের কালো মনের চিন্তা-ভাবনার চেয়ে তোমার কালো চামড়াই যে কতটা ভালো !

বয়ো:সন্ধিকালে তোমার মুখে ব্রণ ওঠে, দাগ হতে থাকে দু’একটা। কিশোরকালের প্রথম অনুভূতিতে যে ছেলেগুলো তোমাকে পছন্দ করতো, তারা দূরে সরে যেতে থাকে, তোমার দাগ ফেলা মুখশ্রী দেখে। তুমি আবারো নিজেকে অসুন্দর ভাবো। ছোট্ট ছোট্ট অপমানে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যে তুমি নিজের কাছেই নিজে ছোট হয়ে যাও।

ছোট্ট মেয়ে, কতই বা বয়স তোমার? দশ-এগার?

তবুও রাস্তায় বের হলে বাসায় বারবার তোমাকে বলে দেয়া হয় মাথাটা নিচু করে চলতে। চার-পাঁচ বছর বয়সে তোমাকে ছুঁয়ে দেয় মামা-চাচা-নানা নামের পিশাচেরা ভয়াবহভাবে, তুমি বুঝতেও পারো না কী হচ্ছে তোমার চারপাশে, ভয়ে কাঠ হয়ে থাকো। তের কিংবা বারো বছর বয়সে যখন কিনা তোমার বুকের ওপরের দুটো মাংসের পিণ্ড ঠিকমতো পরিস্ফুটিত হয়নি, তখন থেকেই তোমার বুকের ওপর ঝোলে চার হাতের এক ওড়নাবাইরে গেলে পরতে হয় চার-পাঁচ পট্টির কাপড়, অন্তর্বাস, বহির্বাস সবকিছুর পরেও কিছু নোংরা হাত তোমার নিতম্ব-উরু-পিঠ-কাঁধ-বুক আলগোছে ছুঁয়ে যায়, তুমি চুপ করে থাকো, খুব শান্ত বয়ে যাওয়া মৃতপ্রায় নদীর মতো।

তোমায় শেখানো হয়েছে,”সহ্য গুণ বড় গুণ, মেয়েরা সহ্য না করলে টিকে থাকে না”, তুমি সহ্য করে যাও দুটো মরে যাওয়া চোখ মেলে। কিছু ছুঁয়ে যায় না আগের মতো তোমাকে

আচ্ছা মেয়ে, যে দেহে তোমার এই হৃদয় আছে, সে শরীরের মাপ জানো তো? ঠিক আঁকাবাঁকা পাহাড়ী ঢালের মতো শরীর হবে তোমার, হ্যাংলা হলেও হবে না, মোটা হলেও হবে না। তোমার শরীরটাই যে সব! তুমি খাটো? লোকে তোমায় বলে, তুমি ছোটবেলায় ভালমন্দ খাওনি। তুমি লম্বা? লোকে বলে বিয়ের জন্য বর খুঁজতে হবে, বকের মতো মেয়েকে কে বিয়ে করে!

কতো সমস্যা তোমাকে নিয়ে! তোমার এই শরীরটাকে নিয়ে! অবশ্য হবেই না বা কেন! জানো তো মেয়ে? শরীর ছাড়া পুরুষ যে বশ মানে না! যে শরীর দেখলে কাম না জাগে, সে শরীরে পুরুষ আসে নাকি ভ্রমর হয়ে? এই এক জীবনে পুরুষই সব। মেয়ে, তোমার চুলে খোপা হয়তো? যে খোপায় জড়ানো যায় কাঠগোলাপের মালা? হয়না বুঝি ? ছোট চুলের মেয়েরা যে লক্ষ্মীমন্ত হয় না রে মেয়ে! চুল বড় করো , সংসারের কল্যাণে চুল কেটো না, তোমার কেশে লক্ষ্মী বিরাজমান।

শোনো মেয়ে, তরুণী হলেও ,সাবলম্বী হলেও একা কোথাও যেও না তুমি, হেসে হেসে দুটো কথাও বলো না ছেলেদের সাথে। বাপের বয়সী যে বুড়ো বস, তোমার হাসিকে ধরে নেবে আহবান হিসেবে। কারো সাথে প্রাণ খুলে মিশতে চাও, ছেলেদের সাথে একা ঘুরতে যেতে চাও? তাকাও তো, চারপাশে একবার। দেখো, সবার চোখে কী ঘৃণা! কী লজ্জা তোমার জন্য!

মেয়ে রে! তুমি জিন্স পরলে তোমায় দেখে ছেলেরা পাগল হয়, তুমি শাড়ি পরলে, আঁচলের এক চিলতে ফাঁকায় তোমার কোমরের খোলা চামড়ায় ছেলেরা আটকে পরে, হিজাব পরেও রক্ষা হয় না তোমার। বারবার তুমি তটস্থ থাকো ব্রা এর স্ট্রিপ নিয়ে, ওড়না নিয়ে, নিজের শরীর নিয়ে নিজেই হও বিব্রত। তোমার হাতের ছোঁয়ায় পশুর মতো কামার্ত হয় পুরুষেরা, হায়নার মতো চড়াও হয় সুযোগ বুঝে। তাও তোমার চরিত্রে সবাই দেয় কালিকেন? পণ্য যে তুমি মেয়ে, সারা শরীরে যৌনতা তোমার।  মানুষ ছিলে কি কোনদিন?

মেয়ে, সিগারেট-মদ-গাঁজা খাও নাকি এসব তুমি? খেও  না। সিগারেট, মদ এসব তোমার জন্য নয়ভালঘরের মেয়েরা মদ ছুঁয়ে দেখে না। সিগারেটে দুটো টান ? এসব তো ছেলে ছোকরার কারবার। কেন করো এসব ? জানি কোথাও লেখা নেই সিগারেট মদ গাঁজা মেয়েদের খেতে নেই মানা। কিন্তু কোন ভালো (!) মেয়ে তো খায় না এসব ! কেন খাবে তুমি ? কেন হবে খারাপ মেয়ে ?

শোনো মেয়ে,রাতের বেলা বাসায় ফিরে এসো ঠিক সূর্য ডোবার আগে,সূর্য ডোবার পরে ঘরে ফিরলে রাতের কালো রঙ তোমার ফকফকে সাদা চরিত্রে কালো কালি ফেলবে।মেয়ে মানুষের চরিত্রে কালি পরলে,আর যে ওঠে না।দুশ্চরিত্রা নারীর এই সমাজে থাকা দায় ! সন্ধ্যের পর চারুকলায় বসে আড্ডা দেয়া , কয়েকটা বন্ধুর সাথে সিনেমা দেখা , রাত বিরেতে কারো কাধে হাত দিয়ে ছবি তোলা,এসব কিছু ভদ্রঘরের মেয়েরা করেনা।এগুলো করে বখে যাওয়া মেয়েছেলেরা,যাদের কো্ন পিছুটান থাকেনা । তোমার তো খুব পিছুটান , তোমার জীবনের ভার তুমি নিয়েছ কবে ? তোমার জীবন চলে অন্যের আকা ছকে ।

চ্যালেঞ্জিং পেশায় যেও না তুমি,দা বটি খুন্তী নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিও। যদি স্কুবা ডাইভিং করতে ইচ্ছে করে , যদি পুলিশ হয়ে একশনে যেতে ইচ্ছে করে , যদি রাত তিনটার সময় ল্যাবে বসে টুকিটাকি কাজ সাড়তে ইচ্ছে করে , যদি বেদুইনের মত ঘর পালাতে ইচ্ছে করে তাহলে নিজেকে হেসে বোলো , আমি মেয়ে,আমার জন্য এসব নয়।

women-orangeঅভাগী মেয়ে,তোমার জন্য সব নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা।ঠিক পঁচিশে বিয়ে,তোমাকে হতেই হবে এক কুমারী নারী,বাসর রাতে যেন তোমার ছিন্ন সতীচ্ছেদের রক্তে সাদা বিছানা উজ্জল লালে রঞ্জিত হয়ে বিজয়ী হয়।বিয়ের আগে অন্য কারো ভালোবাসা হয়ে থাকা,নিজের পছন্দের কাউকে নিজের মতো করে পেতে চাওয়া,এ দুহসাহস এ সমাজে তুমি দেখিও না।ভালবেসে যেও শুধু এক পুরুষকে, নইলে লোকে তোমাকে বেশ্যা বলবে,মাগী বলবে,খানকী বলবেকোন পুরুষবাচক শব্দ নেই যেসব শব্দের ! পুরুষেরা যে খারাপ হয় না রে!খারাপ হয় মেয়েরা ।

বিয়ের পর সেবা কোরো প্রাণভরে শ্বশুরবাড়ীর,মা বাবাকে দেখতে ইচ্ছে হলে ছুটে যেও না বাপের বাড়ি । ঝাল যদি না খায় তোমার সঙ্গী,মানিয়ে নিও তারই সাথে।শাশুরি মানেন না বাবার সাথে খুনসুটি?বলেন তুমি তার বাড়ীর বউ?হোয়ো না আর বাবার সেই ছোট্ট মেয়ে,পর হয়েছ বিয়ের পরে।জানো না কি , শ্বশুরবাড়ি ভুল করলেও শ্বশুরবাড়িই ঠিক?তোমার রাত জেগে বই পড়ার অভ্যেসখানি,বারান্দায় গিয়ে আকাশ দেখার বিলাসীতাকে পুড়িয়ে দিও চুলোর আগুনে।ভালো বউ যে হতেই হবে তোমাকে!মানিয়ে চলো মেয়ে মানিয়ে চলো,এবার তুমি বঊ হয়েছ ,মানিয়ে চলে মরে যেয়ো তাও ভালো বউ হয়ে মোরো,খারাপ হয়ো না।

মেয়ে,তুমি জনমদোষী । তোমার জীবনে সব একবারের জন্য।ভালোবাসা ঠিক একটাবারের জন্য,বিয়ে ঠিক একটাবারের জন্যই।বিয়ের পরে চরম অশান্তি,শুধু অশ্রদ্ধা আর অবহেলা,কোন সম্মান নেই,দাতে দাঁত চেপেও আর দিন কাটে না।ছাড়তে চাইছ সংসার তুমি। ছাড়াছাড়ি ? সে কপাল করে তুমি আসোনি। জানো না বুঝি?এ সমাজে ডিভোর্সীদের স্থাণ ঠিক কোথায়? এর থেকে পরে পরে নিদ্রাহীন রজনী কাটিয়ে যাও,হাসব্যন্ডের পরকীয়া দেখেও চুপ করে থাকো,না মেলে শরীরের সুখ!না মেলে মনের। তবুও তুমি মরে পচে জীবন কাটাও,মেয়ে তো তুমি,না ? শরীর বলে কিছু থাকলেও সুখ তাকে পেতে হবে এমন কথা কোথাও লেখা নেই,আর মন ? আত্নসম্মান ? আছে নাকি এসব তোমার ??????? রাগ হয় খুব তোমার সব দেখেশুনে ? রাগ কোরো না । জানো না,“ছেলেরা রাগলে হয় বাদশা আর মেয়েরা রাগলে হয় বেশ্যা

চাকুরী করছো নাকি?পড়তে  যেতে ইচ্ছে হচ্ছে নাকি ????? বিয়ের পরে ইচ্ছে হচ্ছে নাকি ঝাড়া হাত পা দিয়ে সংগীর সাথে ঘুরে বেড়াতে ? সন্তান সন্ততিহীন জীবন কাটাতে ????? পারবে না মেয়ে । জরায়ু তোমার,সন্তানকে পৃথিবীতে আনার জন্য সম্মতি সর্বপ্রথম তোমার চাই , সেই তোমাকেই বাদ দিয়ে তোমার জরায়ুতে ঢালা হচ্ছে নিষিক্ত শুক্রাণু!ঠিক ক্যারিয়ারের শুরুতে তোমার অমতে জন্ম নেয় তোমার সন্তান, মা হিসেবে সুখী তুমি কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভাবলে না!মেয়ে মানুষের আবার ক্যারিয়ার!

আহারে মেয়ে ! মায়া হয় তোমার জন্য

জানি আমার কথাইয় কিছু বদলাবে না।

তাও বলি মেয়ে,সারাজীবন বাঁচলে তো অন্যের মতো করে নিজের মতো বাঁচো তো একবার,ঠিক নিজের মতো।গায়ের চকচকে বাদামী চামড়া নিয়েই কাটাও না হয় এই একটা জীবন, মুখে থাকুক না দু একটা দাগ,গোটা দশেক ব্রণ ! ভালোবাসার মানুষ যদি ফিরে যায়,লোকে যদি দূর দূর করে,যদি বলে অসুন্দর বলুক না!না হোলো,তোমার মতো এক কালো মেয়ের বিয়ে,নাই বা ভালোবাসল সে মানুষ!শোন মেয়ে,যে মানুষ বাহির দেখে ভালবাসে সে মানুষের ভালোবাসা আর যাই হোক না কেন ঠিক ভালোবাসা নয়

যাকে ভালবাসেছ সে বারবার দূরে ঠেলে দিচ্ছে ? দিক না ! কষ্ট পেয়ো না ,তোমাকে পাবার জন্য অনেকেই ব্যাকুল,একটু খুঁজে নাও ।

বিয়ের আগে কারো সাথে শরীরে শরীর মিশিয়ে দিচ্ছো? দাও না  ! বিয়ের পরে কারো সাথে শরীরের সুখে ভাসছো?তাও তুমি করতে পারো। তুমি বিয়ের মাধ্যমেই তোমার কুমারীত্ব বিসর্জন দেবে,তাই সই!যদি একাই থাকতে চাও কারো সাথে শরীরের সুখ না মেশাতে তাইই হোক তবে!যা খুশি করে যাও মেয়ে,এই জীবন শুধু তোমার ।

সালোয়ার কামিজ পরতে ইচ্ছে করছে না ? নাই বা পরো,শাড়িতেই মানানসই ??? তাহলে শাড়ীই সই ! ওড়নার ঝামেলা ভালো লাগে না আর ? ফেলে দাও!শরীর তোমার , যতটা ইচ্ছে ঢাকো ,যতটা ইচ্ছে খুলে দাও । ইচ্ছে হলে শুকিয়ে কাঠ হও,ইচ্ছে হলে মোটা হও,তোমার শরীরে তোমার অধিকার চলবে ,অন্য কারো নয়।ইচ্ছে হলে হা হা করে হেসে পাশের মানুষগুলোকে চমকে দাও,কষ্ট হলে হাউ মাউ করে কেদে সবটা ভুলে নতুন করে শুরু করে দাও,রাগ হলে চিৎকার করে জানিয়ে দাও তোমারও রাগ আছে,তুমিও রাগতে পারো।ঘরে ফিরছো দেরী করে?এসো ই না !

বয়স পেড়িয়ে যাচ্ছে,বিয়ে করছো না ??? কোরো না বিয়ে।বয়সের আগেই বিয়ে করে নিচ্ছো?করে নাও ! চুটিয়ে সংসারে,চিংড়ীর মালাইকারী রেধে খুশীতে তুমি ডগমগ?বাহ !মন্দ কি!ঠিক যাতে তোমার সুখ তাই করে বেড়াও।হাসব্যান্ড যোগ্য সম্মানটুকু দিচ্ছেন না,দুটো লাথি মেরে বের হয়ে এসো ,সারা পৃথিবী তোমার অপেক্ষায় বসে আছে ।

সারা দুনিয়া চষে বেড়াতে চাও ? বেড়াও না !পড়াশুনা করতে চাও ? করো না!একা থাকতে চাও?থাকো না ! হাজারবার ভালবাসার মানুষ বদলাতে চাও?বদলাও না!একটা মেকাপ ফাউন্ডেশন কিনতে যদি তুমি পাঁচবার মত বদলাও পাশে কাকে রাখবে তার জন্য তো মতের অদল বদল হতেই পারে!ক্ষতি কি তাতে ! একবার ভালবাসার মানুষ নিয়ে তার সাথে চুটিয়ে সংসার করে গাদাখানেক ছেলেমেয়ের মা হতে চাও,তাইই হয়ে যাও !

যা ভালো লাগে তাই করে যাও ।  

লোকে তোমায় গালি দেবে,লোকে তোমায় মহাপাতকীনি বলবে,লোকে তোমায় দেখে নোংরা কীটের মতো ঘৃণা করবে,আবার তোমার সাফল্যে লোকেরা তোমার কাছেই ফিরে আসবে 

মেয়ে,এই মস্ত দুনিয়াটা তোমারও,এই সুন্দর মায়াময় বিকেলগুলো ঠিক যতনা তোমার পাশের বাসায় থাকা ছেলের ঠিক ততটা তোমারও।এই পৃথিবীতে তুমি এক বিশাল সত্তা,ঠিক নিজের মতো করে বাঁচো মেয়ে।মায়ের জন্য বেঁচে থেকো না,বাবার জন্য বেঁচে থেকো না,ভালোবাসার মানুষের জন্য বেঁচে থেকো না,শুধুমাত্র নিজের জন্য বাঁচো মেয়ে,শুধু নিজের জন্য বাঁচো,তুমি যদি বাঁচো,নিজেকে নিজে সাহায্য করে যাও ।

ভয় পেয়ো না মেয়ে ,ভালভাবে জীবন কাটিয়ে যাবার পূর্ণাঙ্গ অধিকার জীবন তোমায় দিয়েছে , তাকে অবহেলা কোরো না ।

প্রাণ ভরে বাঁচো মেয়ে। জয় তোমারই হবে।

শুভকামনায়,

মেয়ে ।

শেয়ার করুন:
  • 190
  •  
  •  
  •  
  •  
    190
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.