যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন, হিলারি বনাম নারীর ক্ষমতায়ন

লীনা পারভীন: নারীর ক্ষমতায়ন এখন সারা বিশ্বের একটি আলোচিত বিষয়। কর্পোরেট জগতে এটি দারুণভাবে আলোচিত এবং সমালোচিত টার্ম। ভাবখানা এমন যেন শারীরিকভাবে একজন নারীকে উচ্চপদের আসীন করেলেই নারীর ক্ষমতায়ন হয়ে যায়। সেই নারী এবার নিজে এ বিষয়ে সচেতন হোক আর নাই হোক।

hillari-3প্রফেশন বা ক্যারিয়ার এমন একটি বিষয় যেখানে একজন মানুষ লেগে থাকলে এবং নিজের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেলে এক সময় না একসময় সে উচ্চ পদে যাবেই। তবে হ্যাঁ একটি বিশেষ স্তরের পর নারীদেরকে আর উপরে উঠানো হবে কীনা সেটা নির্ধারণ করে পুরুষনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাই। সেখানে একজন নারীর ইচ্ছা অনিচ্ছা বা যোগ্যতার কোনো মাপকাঠিই বিবেচ্য নয়।

নারীরাও তাই তার ক্যারিয়ারের উপড়ে উঠার জন্য মাঝে মাঝেই প্রচলিত যে কাঠামো আছে তার ছাঁচে নিজেকে ফিট করানোর লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হয়। সেখানে কেউ এগিয়ে থাকে আর কেউ বা পিছিয়ে পড়ে।

আমাদের দেশের অনেক নারীরাই আশা করেছিলেন, আমেরিকায় যদি হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হিসাবে আসে, তবে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর (!) দেশটির নেতা হবে একজন নারী আর এতে করে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে নারীর ক্ষমতায়নের ধারণা বা চূড়ান্ত অর্থে নারীবাদীরা স্বপ্ন দেখার একটি অবলম্বন হিসাবে ভাবতে চাইছিলেন। আমি জানি আমার এই ভাবনার সাথে অনেকেই দ্বি-মত করবেন।

নির্বাচনের ফলাফলের পরই আমি আমার অনেক বন্ধুদের স্ট্যাটাসে দেখেছি তারা যারপর নাই হতাশ। কেউ বা লিখেছেন তার হৃদয় ভাঙ্গার গল্প। একজনের দেখলাম কান্নাকাটির অবস্থা, রাতের খাওয়াও অনেকে বাদ দিয়েছিলেন কষ্টে।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, হিলারি নিজে কী নারীবাদে বিশ্বাস করেন? তিনি কতোটা নারী হিসাবে প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলেন, আর কতটা পুঁজিবাদী কাঠামোর প্রতিনিধি হিসাবে? এই প্রশ্নগুলো যদি আমরা বিবেচনা না করি তাহলে নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতা বিষয়গুলো বোঝার ক্ষেত্রে একই ভুল ঘুরেফিরে হয়ে যাবে।

leena-pervin-2
লীনা পারভীন

একটি রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারিত হয় তার অর্থনৈতিক কাঠামোর দ্বারা। স্বাভাবিকভাবেই পুঁজিবাদী রাষ্টের চরিত্র কখনই উদারনৈতিক বা সাম্যবাদী হবে না। আর পুঁজিবাদে নারীও একটি পণ্য হিসাবেই বিবেচিত হয়।

আজকে আমাদের দেশে যারাই নারীবাদ বা নারী ইস্যুতে কাজ করছেন তাদেরকে এই একটি বিষয় খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে। রাষ্ট্রের চরিত্রের উপর নির্ভর করে সে তার নাগরিকদের কীভাবে বিবেচনা করবে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় একজন নারীও সেই একই ধারার বাহক না হলে তাকে ক্ষমতার মসনদে কেউই গ্রহণ করবে না।

হিলারির ক্ষেত্রেও আমেরিকান জনগণের মনোভাবের কোন ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে আমি মনে করি না। ভোগবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীদেরকে বড়জোর ভোগ্যপণ্য হিসাবেই ভাবা যায় তাকে ক্ষমতাশীল ভাবা যায় না, আমেরিকার নির্বাচন থেকে এটাই পরিষ্কার।

শেয়ার করুন:
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.