র‌্যাগ নিয়ে খটকায়? আসুন চটকাই -১

শাশ্বতী বিপ্লব: র‌্যাগ নিয়া বহুত চটকাচটকি হইতেসে। ভাবলাম আমি আর বাদ যাই ক্যান? তাই আমিও চটকাইতে বসলাম আরকি! জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বা সংক্ষেপে জাবি নিয়ে আমার অতি উচ্ছ্বাস নাই। তাই ইচ্ছা করেই কিছু বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কারণ কান টানলে মাথা আসে, আর মাথা আসলে সাথে মাথার মালিকও আসে। তখন ব্যাপক ক্যাঁচাল হয়। কিন্তু অতি উচ্ছ্বাস না থাকলেও স্বাভাবিক ভালোবাসা ও আবেগ আছে। যেমন সবারই থাকে ফেলে আসা দিনগুলোর প্রতি।

ju-8সংস্কৃতি বদলায়, ওটা বদলানোরই জিনিস। কিন্তু তারপরও প্রত্যেকটা “পাবলিক” বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বেসিক জিনিস থাকে যেটা উল্টায়া পাল্টায়া মোটামুটি একই থাকে। ঠিক ইংরেজি 69 এর মতো। এই বেসিক চরিত্রের একটা হলো, জাবিতে “ভাবের” বেইল নাই। মানে হইলো, কেউ যত বড় কেউকেটাই হোক না কেন, “ভাব” নিতে গেলেই ধরা খাবে।

যে কারণে সারাজীবন নগর সুবিধায় মানুষ হওয়া তথাকথিত “স্মার্ট” কারো সাথে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পড়তে আসা তথাকথিত “ক্ষ্যাত” কারো মিশতে কোন অসুবিধা হয় না। যার হয় তার জন্য জাবি’র মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় না। ওইসব আলগা পোষাকি চামড়া খুইলাই এখানে থাকতে হয়। কেউ সেটা যত তাড়াতাড়ি হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে, ততই তার মঙ্গল। সাধারণের সাথে সাধারণভাবে মিশতে পারাটাই অসাধারনত্ব এখানে 🙂

র‌্যাগ হইসে কি হয় নাই, সেইটা বিচার করা আমার কাজ না। অভিযোগ দাখিল হইসে, তদন্ত চলতেসে, চলুক তার মতো। সত্য মিথ্যা শীঘ্রই জানা যাবে আশা করি। কোন অন্যায় হয়ে থাকলে বিচার হবে। সেইটা নিয়া আমার কোন আপত্তি নাই।

কিন্তু আমার আপত্তি আছে জাবি’র বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের “গেলো, গেলো’ রব নিয়া। কি আজব কান্ড! কিছু একটা হইলেই নাকি জাবি’র “মান-সম্মান” সব ভেসে যেতে থাকে। তাইলে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এবং বর্তমান জাবিয়ানরা কি ঘোড়ার ঘাস কাটে? এযাৎকালে বহু লিজেন্ডারী ক্যারেক্টার বের হইসেন জাবি থেকে। যাদের জনপ্রিয়তা ঈর্ষা করার মতো এবং তাঁরা স্ব স্ব মহিমায় উদ্ভাসিত। কিন্তু তাঁদের কারো “আলগা ভাব” ছিলো না।

ju-6এইসব ত্রাহি ত্রাহি চিৎকার শুনে মনে হয় জাবিয়ানরা সবাই “কন্যা সন্তানের” সেই পিতামাতা যারা সারাক্ষণ মেয়ের “ইমেজ” নিয়া পেরেশান থাকে। কোনভাবেই যেন কোন বদনাম না হয়। ভুল হয়ে গেলে ধামাচাপা দেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে। তাদের মেয়ের সম্মান এমনই এক ঠুনকো জিনিস, কেউ একজন “ফুঁ” দিলেই সেইটা নড়বড়ে হয় যায় (!)।

আজ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগরে ভর্তি করার জন্য শিক্ষার্থীর অভাব পড়সিলো, এমন তো শুনি নাই। তাইলে, ভর্তি পরীক্ষার ঠিক আগ মুহুর্তে “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নানা বদনাম রটানো হয়” – এই হাইপেথিসিস নিয়া এতো মাথা ঘামানোর কী আছে? এর প্রবক্তা কে আমার জানা নাই। তবে, যেই হোক, সে ওই মেয়ের অভিভাবকের মতো ধরেই নিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগরের “সুনাম” এক ফুৎকারে গুড়িয়ে যাবার মতো কিছু একটা।

Shaswati 5
শাশ্বতী বিপ্লব

আরে ভাই, আমাদের দেশে এমনিতেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ কম। প্রতি বছর যত ছাত্রছাত্রী পাশ করে, তার অধিকাংশই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হইতে পারে না। না, মেধার অভাবে না, সীটের অভাবে। ২০১৫ সালে জাহাঙ্গীরনগরে স্নাতক প্রথম বর্ষে আসন সংখ্যা ৪২০৩। এই বছরও কমবেশি এরকমই হবে নিশ্চই। যেহেতু হলের সীটের বিপরীতে ভর্তি করা হয়।

এই বছর এইচ এস সি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার কত জানেন? ৭৪.৭০ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। কাজেই “এই সেই” রিউমার শুনে শখ করে কেউ যদি জাবিতে ভর্তি না হওয়ার বিলাসিতা দেখায়, তাইলে বুঝতে হবে পাবলিক নয় কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই তার লক্ষ্য। আর তা যদি হয়, তবে তো ভালোই। সেই জায়গায় মেধাবী কেউ, যার সঙ্গতি কম সে পড়ার সুযোগ পাবে, তাইনা।

(চলবে)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.