অকাল গর্ভপাত ও মানসিক সমস্যা

abortionউইমেন চ্যাপ্টার: অকাল গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা যেকোনো মেয়ের জন্য অত্যন্ত মর্মন্তুদ, এমনকি স্থায়ী মানসিক বিকারগ্রস্ততারও আশংকা থাকে। এসময় সাধারণত রাগ-ক্ষোভের জন্ম নেয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং গর্ভপাতের জন্য নিজেকেই অভিযুক্ত করার একটা প্রবণতা দেখা দেয় অধিকাংশ মেয়ের মধ্যে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অকাল গর্ভপাত খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। প্রতি পাঁচজন মেয়ের একজনকে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে।

পাশ্চাত্যের চিকিৎসকরা বলছেন, গর্ভপাতের সমস্যাকে একক সমস্যা না দেখে সমষ্টিগতভাবে বা পারিবারিকভাবে এর মোকাবিলা করা উচিত। পরিবারের সবারই উচিত এসময় মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো, তাকে মানসিক শক্তি ও সাহস জোগানো। নয়তো স্থায়ী কোন প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যত মাতৃত্বে।
বিভিন্ন কারণেই হতে পারে অকাল গর্ভপাত। সব ভ্রুণই আবার একরকম নয়। নষ্ট ভ্রুণও আছে। আর সেগুলো একধরনের গর্ভপাতই। এটা সাধারণত ঘটে থাকে গর্ভাবস্থার বিষয়টি বুঝে উঠার আগেই। মোলার প্রেগন্যান্সি, কেমিক্যাল প্রেগন্যান্সি এবং এমব্রায়ো টক্সিক ফ্যাক্টর (ইটিএফ) গর্ভপাতের অন্যান্য কারণ। এই কারণগুলো গর্ভপাতের দিকেই এগিয়ে যায়। তাছাড়া অনেকসময় গর্ভপাত হয় ঠিকই, কিন্তু গর্ভাবস্থার কিছু কিছু লক্ষণ তখনও থেকে যায় শরীরে। একে বলে মিসড মিসক্যারেজ।

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণই গর্ভপাতের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। বিশ সপ্তাহের পর গর্ভপাতকে ‘মৃতপ্রসব’ বলা হয়। এটা ঘটে থাকে গর্ভাবস্থার অনেক পরের দিকে, আর এ ধরনের গর্ভপাত মেয়েদের মনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। যেসব মেয়ের প্রায়ই গর্ভপাত ঘটে থাকে, তাদের সবসময়ই চিকিৎসকদের অধীনে থাকা উচিত বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ফার্টিলিট নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের চিকিৎসাধীন থাকতে হবে। শুরুতেই চিকিৎসা না করালে বহু গর্ভপাত পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.