বিকৃত পুরুষদের প্রতিরোধ করা হোক পরিবার থেকে

সাকিনা হুদা: আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে সভ্যতার বিকাশ ঘটেনি, বিজ্ঞানের নানা আবিস্কার হয়নি, ছিল না কোন শিক্ষার আলো। তাই সে যুগে অসভ্যতা, বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা স্বাভাবিক ছিল। যুগে যুগে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। আমরাও সেই গতিতেই সভ্য হচ্ছে। কিন্তু সত্যিই কি হচ্ছি?

আমি ছোটবেলা থেকে দেখেছি নারীর প্রতি, শিশুদের প্রতি, বিশেষ করে মেয়ে শিশুর প্রতি পুরুষের বর্বরতা, হিংস্রতা, কুৎসিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং পাশবিকতা। কিছুদিন আগেও ছিল না এতো সংবাদ মাধ্যম। ছিল না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। জনসংখ্যার এত বিপুল সমারোহও ছিল না।

Adamএখন যে জঘন্য পাশবিক ঘটনাগুলো ঘটছে, আমি বিশ্বাস করি, সে যুগেও এইসব ঘটনা ঘটতো। মানুষের মুখে মুখে এরকম ঘটনা জানা যেত। এখন জনসংখ্যা এতো বেশি, ঘটনাও তাই অগনিত। এখন সংবাদ প্রচারের মাধ্যম ঘরে ঘরে। তাই কোন ঘটনাই চাপা থাকছেনা। প্রচারিত হচ্ছে, দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে।

আমি বলতে চাই, এখন যেমন কিছু সংখ্যক অসভ্য, বর্বর, চরিত্রহীন পুরুষের দেখা মেলে, তেমনি আগের যুগেও এ ধরনের পুরুষের সংখ্যা কম ছিল না। জনসংখ্যার তুলনায় সেটিকে গড়ে সেভাবেই নির্ধারণ করা যায়।

যে পুরুষ বর্বর, দুশ্চরিত্র, সে যে যুগেই জন্মাক না কেন, যতই লেখাপড়া শিখুক না কেন, দেশ-বিদেশ পরিভ্রমণ করুক না কেন, সৎ ব্যাক্তিদের সংস্পর্শে আসুক না কেন, সে কখনোই সুস্থ সুন্দর মানসিকতার পরিচয় দেবে না। সুযোগ পেলেই সে নরপশুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। স্থান-কাল-পাত্র কোনকিছুই তার বিবেচনায় থাকবে না। সুশিক্ষার মাধ্যমে, সদুপদেশ দিয়ে এরকম হিংস্র জঘন্য লম্পটদের থামানো যাবে না, যদি না কঠোর শাস্তির পাশাপাশি ঘরে ঘরে এটি প্রতিরোধের আগুন জ্বলে ওঠে, এমন বিধান করা হয়।

যে ব্যক্তি এ ধরনের চরিত্রের, তার স্ত্রী যদি তা জেনে থাকে, যদি তার পিতামাতা, ভাইবোন, পাড়া প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন সহকর্মি অথবা বন্ধুরা যদি তার চরিত্রের এই অন্ধকার দিকটি সম্পর্ক ওয়াকিবহাল থাকে, তবে তাদেরকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।

Sakina Huda
সাকিনা হুদা

যে ব্যক্তি নারী ও শিশুদের প্রতি এ ধরনের পাশবিক কাজ করে, সে কখনোই মাত্র একদিনই ওই আচরণটি করবে না। নিশ্চয়ই তার পূর্বের অনেক লাম্পট্যের কাহিনী তার সঙ্গীসাথী আত্মীয়স্বজনরা জেনে থাকবে। সুতরাং প্রত্যেকের উচিত এসব ব্যক্তিদের সমাজ থেকে পরিবার থেকে তার কর্মস্থল থেকে সতর্ক করা, তার ব্যপারে অন্যকে সচেতন করা এবং প্রয়োজনে তাকে উচ্ছেদ করা।

পরিবার থেকে পাওয়া শাস্তি এসব পুরুষের শুধু প্রাপ্যই নয়, এটি সমাজের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত প্রতিটি কর্মস্থলে যেকোনো প্রকারের অশোভন ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণকারীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা অবশ্য প্রয়োজন। যেসব পরিবারে এ ধরনের যৌন বিকৃত ব্যক্তি আছে, তাদেরকে মানসিকভাবে শক্ত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হতে হবে, এবং উক্ত ব্যক্তির ব্যাপারে অনমনীয় মনোভাব ধরে রাখতে হবে।

শুধু সরকার শাস্তির বিধান করলেই বর্বর কাণ্ড বন্ধ হবে না। সামাজিকভাবে, পারিবারিকভাবে এর বিরুদ্ধে শক্ত ও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে, তবেই এইসব বিকৃত পুরুষদের চরিত্রের নোংরামি কমলেও হয়তো কিছুটা কমতে পারে।  

শেয়ার করুন:
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares

লেখকের মূল ভাবনার সাথে একমত। কিন্তু লেখক যেভাবে আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ বলে শুরু কুরলেন, সেই ক্ষেত্রে বলতে চাই আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগ বলে কিছু ছিল না। যতদিন এইসবে বিশ্বাস থাকবে , মুক্তি নাই! 

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.