ভিড়ে হারানো সেই মেয়েটা…..

জাহান রিমা

জাহান রিমা: বোধের উদয় হয়নি তখনো, ধর্ম শিক্ষা দরকার আছে। বাবা একটা হুজুর রেখে দিলেন ঘরে। আলিফ থেকে লাম খসলেই আমার সাত বছরের কোমল শরীর ধরে সে হুজুর বলতো- ঠিক করে পড়। সেই ধরাটা ভিন্ন ছিলো। সর্ষের ভেতর ভূত থাকে। কেউ জানে তো, কেউ জানে না।
দৌড়ে গিয়ে আয়না দেখি দগদগে ঘা, শরীর কী ছাই, মনে সেটা।

শোনো তবে;

ফ্রক ছেড়েছি সবে ক’দিন। বয়স কত? বারো-তেরো। কে জানে না? সবাই জানে,গণিত টিচার অনেক ভালো। এতোই ভালো ক্লাসের ভেতর যেখানে বসি,সেই টেবিলে দু হাত দিয়ে আগলে রেখে অংক দেখে। কী অসহায়..অংক শেষে টেবিল থেকে মাথা উঠাবো? সাধ্য আছে ? মাথাটা ঠিক ঐ হারামীর বুকের কাছে। হাহ! কার কাছেতে নালিশ করি ? শিক্ষক আমার! মুখ ও মুখোশ এক জীবনে মেয়েদেরই চেনা থাকে।
শুনবে আরো? উত্তর বাড়ির বড় ভাইটা আইনে পড়ে। এতোই বড়, মা কখনোই বারণ করেনি কোথাও যেতে বদমাশটার সাথে। একদিন এক সন্ধ্যা বেলা..জোর করে সে। সে কী কান্না আমার, দরজা বেঁধে। চুমু দিলে বাচ্চা হয়ে যায়। পরের ক’ মাস ভয়েই কাটে। হাহ! ভাবো একবার- এই দেশের আইন কাদের হাতে?
ভাবছি অদ্যবদি।
কথাগুলো বলা মেয়েটার সাথে আকাশপথে দেখা। দেশান্তরি।
পাশাপাশি বসা হতোনা যদিনা ডুবাই ট্রানজিটে কষে একটা চড় পড়তো অসভ্য এক ছেলের গালে। দাবী করে বসে আমাদের পাশেই তার বসার আসন। বাহ রে বাহ..দুইটা মেয়ের পাশে বসে যদি করা যায় এক আধটু নোংরামি। মন্দ হয়না ভ্রমন। তাইতো দেশান্তরীর হাতটার ল্যান্ডিং স্পট একেবারে অসভ্যটার গালের উপর! উচিত শিক্ষা।
আমি দেখি,
দেশান্তরি নামের মেয়েটা এখন প্রতিবাদের ভাষা জানে, জানে না শুধু কীভাবে শৈশব থেকে সেই নোংরা ক্ষত মুছে ফেলতে হয়। বিমান মাটিতে ছুঁলে মেয়েটা হারিয়ে যায়…..জানি না কোথায় দেশান্তরীর ঠিকানা। আমি শুধু জানি; ভিড়ে হারানো সেই মেয়েটাই বাংলাদেশের প্রতিটা মেয়ে।

শেয়ার করুন:
  • 367
  •  
  •  
  •  
  •  
    367
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.