পুলিশসহ সব পিতাকে বলি, শিশুটি আপনারও

দিলশানা পারুল: বাঙালী সর্বংসহা। আমাদের চামড়া এখন প্রায় গন্ডারের চামড়ার মতো। কিন্তু প্লিজ আর যাই করেন ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য বিষয়কে গা সওয়া হয়ে যেতে দিয়েন না। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, করতে চাই এই সামাজের বেশিরভাগ পুরুষ এখনও পিতা অথবা বড় ভাই অথবা প্রেমিক স্বামী।

এই সমাজের পুরুষের ধর্ষকামিতাই একমাত্র পরিচয় না। আমি দূরের বিপ্লবের চেয়ে এই মুহূর্ত কাছের সমাধানে বেশি বিশ্বাসী। আমি বিশ্বাস করতে চাই আপনাদের মাঝে অনেক পিতা আছেন যারা তার মেয়েটির মুখের কথা মনে করে ধর্ষণ বন্ধের জন্য পলিসি ডায়লগ শুরু করবেন।

dilshana-parul
দিলশানা পারুল

আমি বিশ্বাস করতে চাই সংসদে তিনশ আসনে যারা বসে আছেন প্রত্যেকেই পিতা অথবা মাতা অথবা প্রপিতামহ। তিনি তার পরিবারের শিশুটির মুখ মনে করে এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নেবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি পুলিশের মাঝে পিতার সংখ্যাই বেশী।

সবচেয়ে অগ্রণী হবেন পুলিশ মহল, এই জায়গায় তাদের যে ভূমিকা সেটা আর কেউ করতে পারবে না। ধর্ষণের এবং নারী নির্যাতনের যদি বিচার না হয়, অপরাধী যদি ধরা না পড়ে, তবে শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা কেন, এই মহামারি কেউ ঠেকাতে পারবে না। সমালোচনা না সমাধানের পথে সবাইকে একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ার বিকল্প নাই।

ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনে বা শাহবাগে যারা আন্দোলন করেন, তাদের প্রতিবাদের তো প্রয়োজন আছেই, কারণ এইটা সরকারের সামনে এবং সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রয়োজনীয় প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করে।

কিন্তু প্রেসক্লাবের সামনের মানববন্ধন দেখে পার্বতীপুরের ধর্ষক মনে মনে হাসে। সে খুব ভালো করেই জানে শত মাইল দূরের আন্দোলন তার টিকিটাও ছুঁতে পারবে না। এলাকায় এলাকায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এলাকার নারীদের এমন রুদ্রমূর্তি নিতে হবে যেন ওই এলাকার কোন পুরুষ শুধুমাত্র মায়েদের ভয়েই এমন সাহস আর না করে। আর্তকান্না না, আসলেই কচু কাটার বটি দিয়ে তাড়া করা উচিত।

তবে সবচেয়ে বড় দায় আসলে পুলিশের, কাজেই দায়িত্বটা তাদেরই নিতে হবে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সরকার থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতিটা প্রত্যন্ত অঞ্চলের থানায় তা পৌঁছে দিতে হবে। প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয় হবে:

  • ধর্ষণের মামলা যেকোনো থানায় যেকোনো পরিস্থিতিতে বিনা বাক্য ব্যয়ে নিতে হবে।
  • ধর্ষিতা এবং তার পরিবারকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীকে ধরতে হবে।

উপরের তিনটি কাজ সম্পাদনে যদি কোন ধরনের কোন অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় এক দিনের নোটিশে কর্মরত অফিসারকে বরখাস্ত করা হবে এবং পুলিশের ডিআইজি নিজে যদি বিষয়টি প্রতিনিয়ত মনিটর করেন, তাহলে ফলাফল আসবে না কেন?                  

শেয়ার করুন:
  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.