রেশমি আক্তারের ফেসবুকে পর্নব্যবসা

মারজিয়া প্রভা: ব্যবসাটা কিন্তু নতুন নয়। এই এক দুই বছর আগেও যেকোনো ওয়েবসাইটে গেলে একটা মেয়ের ছবি ফুটে উঠতো।

“আমি ইহিতা বলছি। আমার সঙ্গে লাইভ চ্যাট করুন”। তারপর কিছু যৌন-উত্তেজক কথা। আগ্রহবশত একদিন আমি নক করি, ধাম করে অন্য সাইট আসে সেখানে রেজিস্ট্রেশন করার কথা বলে। আর অবশ্যই সাইট রেজিস্ট্রেশনের জন্য কয় ডলার জানি চেয়েছিল। আমি বুঝলাম পর্নাসক্ত মানুষ তো বিশ্বে কম না! তাই বিজনেস ভালোই চলে।

সাইটে স্ট্রিক্টলি বলা আছে, ১৮ বছর বয়স হতে হবে ইউজারকে। ১৮ বছরের নিচে এক্সেস নাই। অনেকে মিথ্যা বয়স দিয়ে যে করে না, তা নয়। কিন্তু সাইটের ইথিক্স অবশ্যই গ্রহণযোগ্য, তারা তাদের কাস্টমারের বয়সের রেঞ্জ ঠিক করে দিয়েছে।কিন্তু ফেসবুকে রেশমি আক্তার কী করছেন? ফেসবুক এখন ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত ইউজার অনুমোদন দিয়েছে। তার মানে অবশ্যই ফেসবুকে পর্নব্যবসা গ্রহণযোগ্য না। এই অনুযায়ী রেশমি আক্তার অপরাধ করছেন।

কী করেছেন রেশমি আক্তার

reshmiফেসবুকে লাইভ আসার পর যত্রতত্র মানুষ লাইভ ভিডিও শুরু করেছে। রেশমি শুধু তাদের আরেক ধাপ বাড়িয়ে ছাড়িয়ে গেছে। স্ট্যাটাস দিয়েছে, “আমি নুড লাইভে আসবো। আমাকে এতো নাম্বারে বিকাশ করো ৫০০ টাকা”। ২৫,০০০ টাকা তার বিকাশে আসার পর জাস্টিস ফর উইম্যান এর সহায়তায় তার বিকাশ আইডি বন্ধ করা গিয়েছে।

তারপরেও তো রেশমির কাজ বন্ধ হয়নি! শুধু তাই নয়, সে প্রতিনিয়ত তার ন্যুড ভিডিও দিচ্ছে, পিকচার আপলোড করছে। ফোন নাম্বার দিয়ে কাস্টমার সংগ্রহ করছে।

সেক্স ওয়ার্কারদের সঙ্গে আমার কিছু কাজ আছে, অনেকটা সময় তাদের সাথে কাটানোর সুযোগ আমার হয়েছে। তাদের অনেকের পেশাদারিত্ব নৈতিকতা খুব বেশি। নিজ ঘরে ১৩ বছরের ছেলে থাকে, তাই বয়স্ক লোক ছাড়া তারা কাস্টমার নেয় না। নিজেদের ছেলের কথা ভেবে তাদের বিবেকে লাগে। ঘুষ খাওয়া আর না খাওয়ার মতোই পেশাদারিত্বের এই বিবেক।

কিন্তু রেশমি কী করছেন? ফেসবুকে ১৬ বছরের নিচে প্রচুর ছেলে আছে। পাবলিকলি তাদের কাছে টাকা চাচ্ছেন। ফেসবুকে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে আচরণ করছে।

reshmi-2২০১২ সালের প্রণীত আইনের ১৩ নং ধারা অনুযায়ী এই আচরণ অপরাধ।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ১৩ নং ধারায় বলা হয়েছে, “কোন ব্যক্তি রাস্তায় বা জনসাধারণের ব্যবহার্য স্থানে অথবা গৃহ অভ্যন্তরে বা গৃহের বাহিরে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে মুখের ভাষায় বা অংগভঙ্গি করিয়া বা অশালীন ভাব-ভঙ্গি দেখাইয়া অন্য কোন ব্যক্তিকে আহবান করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন”।

ফেসবুকে রেশমি আক্তারের এই আচরণ অপরাধ আইন অনুযায়ী তার শাস্তি প্রাপ্য।

কে এই রেশমি আক্তার?

reshmi-3রেশমি আক্তার বর্তমান এফডিসি অনুমোদিত বাংলাদেশের বি গ্রেডের শিল্পী। যার পরবর্তী তিন নাম্বার মুভি বের হচ্ছে ‘পৃথিবীর নিয়তি’ নামে।

পোস্টারে বলা আছে, মুভিটি এতিম বাচ্চাদের সাহায্য বানানো হচ্ছে। অথচ বাচ্চাদের মনে নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে এমন দৃশ্য নিয়েই মুভিটি। অদ্ভুত হিপোক্রেসি না! মুভিটাতে রেশমি আক্তার বা রেশমি অ্যালোনের একটি গান দেখে আসতে পারেন। https://www.youtube.com/shared?ci=b7MIgSq19o4

সিল্ক স্মিতা এককালে সফট পর্ন করেছে। এখন তাকে নিয়ে ‘ডার্টি পিকচার’ মুভি হচ্ছে। এখন রেশমি সিল্ক স্মিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করলে কিচ্ছু করার নেই। হয়তো সেও আশা করছে ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে মুভি হবে!

বাংলাদেশে পর্নগ্রাফিক আইন

reshmi-porno-2অনলাইনে পর্ন ব্যবসা বিশ্বের বহু দেশের জন্য অনুমোদিত হলেও আমাদের দেশের জন্য নয়। এমনকি আমাদের দেশে অ্যাডাল্ট ফিল্মও অপরাধ। চলচ্চিত্র ১৯১৮ এর আইন অনুসারে বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের পর্ন ফিল্ম, ছবি বানানো বা এতে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য।

বাংলাদেশের পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ২৯২, ২৯৩ এবং ২৯৪ এর ধারা অনুসারে পর্ন জাতীয় ছবি, অডিও, লেখা, বই, বা যেকোনো ধরনের পর্নগ্রাফি বানানো বা প্রচার সংরক্ষণ, এ জাতীয় কোন কাজ করা, অংশ নেওয়া বা এই ধরনের কাজে অংশ নেওয়াতে বাধ্য করা সম্পূর্ণরুপে শাস্তিযোগ্য এবং নিষিদ্ধ। ৫৭ ধারার আইন অনুযায়ী, এর শাস্তি দশ বছরের কারাদণ্ড অথবা দশ কোটি টাকা অর্থদণ্ড।

আমি একাধিকবার নিজে বলেছি, বিশ্বাস করি। সিনেমায় যৌনতা আসতেই পারে প্রয়োজনে। কিন্তু এই প্রয়োজন কতটুকু তাও চিহ্নিত করতে হবে।

১৬ বছরের নিচে কোন মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা হলেই সেইটা রেইপ, মেয়ের সম্মতি থাকলেও। তাহলে ১৬ বছরের ছেলেকে পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে কাস্টমার বানানোটা কেন অন্যায় হবে না?

ফেসবুকে রেশমি আক্তার পর্ন ব্যবসা চালাতে পারেন না। কারণ ফেসবুকে এবং বাংলাদেশে প্রকাশ্য পর্ন ব্যবসা অনুমোদিত নয়।

রেশমি আক্তারকে কি সজাগ করা হয়েছে এই বিষয়ে? এই যে প্রতিদিন তিনি অবৈধ উপায়ে টাকার বিনিময়ে নোংরা লাইভ ভিডিও করছেন। এটা অপরাধ!  যদি না জানানো হয়ে থাকে, তবে তার সজাগ থাকা উচিত। কারণ আজ অথবা কাল। আইন অনুযায়ী তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.