মিশেল ওবামা এবং আমাদের খাদিজা, রিশারা

নাসরীন মুস্তাফা: আমেরিকার ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা’র একটি ভাষণ ভাইরাল হয়ে গেছে, যেখানে তিনি যা কিছু বলেছেন তা আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনীত প্রার্থী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন এবং প্রতিপক্ষ দল রিপাবলিকান থেকে মনোনীত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ছাড়িয়ে সত্যিকার অর্থে বিশ্বজনীন হয়ে উঠেছে।

কেন এবং কিভাবে ভাষণটি ভীষণভাবে নাড়া দিতে পেরেছে, তা বুঝতে হলে মিশেল ওবামার ব্যক্তিত্ব, আবেগি উপস্থাপনা ছাপিয়ে তিনি কী বলেছেন, তাতে কান পাততে হবে।

তিনি কাকে নিয়ে বলেছেন, সবাই বুঝেছে, যদিও তিনি সেই ‘তার’ নামটি একবারও উচ্চারণ করেননি। মিস্টার ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েক মাস ধরে নারীবিষয়ক আপত্তিকর উক্তি যেভাবে ছড়িয়েছেন, তাতে নাম উচ্চারণ না করলেও সবাই বুঝেছে, মিশেল ওবামা কাকে নিয়ে বলেছেন। তিনি আসলেই কী বলেছেন, তার চুম্বক অংশের বাংলা অনুবাদটা দিতে চাই এখানে।

michelle-obama-2‘…এখানে আমি খানিকটা গুরুগম্ভীর হয়ে যাচ্ছি, কেননা আমার মনে হয় যে ইতোমধ্যে অমার্জিত হয়ে পড়া নির্বাচনের একটি অমার্জিত সপ্তাহ পার করলাম বলে মেনে নিতে পারি। ব্যক্তিগতভাবে এই সপ্তাহটি আমার কাছে বিশেষভাবে চমকপ্রদ ছিল, কেননা এই সপ্তাহ ছিল গভীর বৈপরীত্যের।

দেখুন, মঙ্গলবারে, হোয়াইট হাউজে আমরা বিশ্ব কন্যাশিশু দিবস এবং কন্যাশিশুর শিক্ষার অধিকার বিষয়ক আমেরিকান সরকারের কর্মসূচী ‘লেট গার্লস লার্ন’ উৎসব উদযাপন করলাম। দারুণ ছিল সে উদযাপন। এটাই ছিল ‘লেট গার্লস লার্ন’-এর জন্য ফার্স্ট লেডি হিসেবে আমার সর্বশেষ আয়োজন। কিছু অসাধারণ তরুণীর সাথে সময় কাটাতে আমার খুব ভাল লেগেছিল, আমেরিকার এবং সারা বিশ্বের কম বয়সী এমন কিছু নারী, যাদের সাথে আপনার দেখা হয়েই যাবে।

আর আমরা কথা বলেছিলাম তাদের আশা আর স্বপ্ন নিয়ে। আমরা কথা বলেছিলাম তাদের অনুপ্রেরণা নিয়ে। দেখুন, এই মেয়েদের অনেকেই কেবলমাত্র স্কুলে যাওয়ার জন্যই অচিন্তনীয় বাধার সম্মুখীন হয়েছিল, তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল, তাদের পরিবার আর সম্প্রদায় থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকিও ছিল।

আমি তাই ভেবেছিলাম, এই তরুণীদের মনে করিয়ে দেওয়াটা জরুরি যে তারা কতখানি মূল্যবান আর দামি। আমি চেয়েছিলাম, তারা বুঝতে পারুক যে কোন সমাজে নারী আর কন্যাশিশুর সাথে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই সে সমাজের মাপকাঠি। আর আমি তাদের বলেছিলাম, সম্মান আর শ্রদ্ধামিশ্রিত ব্যবহার পাওয়ার প্রত্যাশা তারা করতেই পারে, এবং আমি এ-ও বলেছিলাম যে যদি কেউ তাদেরকে অসম্মানিত বা অবমূল্যায়ন করে, তবে তাকে ভুলে যাওয়া উচিত, এবং তাদের উচিত নিজেদের কথা এই বিশ্বের সবাইকে শুনিয়ে দেওয়া।   

এবং আমি হাঁটছিলাম ভেতরে অনেক অনুপ্রেরণা ধারণ করে, যেন মনে হচ্ছিল সেই তারুণ্যময় মানুষগুলো দ্বারা আমি অনুপ্রাণিত হতে পেরেছি আর এই মেয়েদের জন্যই আমি উন্নত হয়েছিলাম। সে দিনটি ছিল মঙ্গলবার।   

michelle-obamaআর এখন, আমি এখানে, একটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে, যেখানে ক্রমাগতভাবে আমাকে শুনতে হচ্ছে নারীদের সম্বন্ধে বেদনাদায়ক, ঘৃণামিশ্রিত ভাষা- সেই ভাষা যা আমাদের অনেকের কাছেই কষ্টকর, এ অনুভূতি কেবলমাত্র নারী হিসেবে নয়, বরং অভিভাবক হিসেবেও। কেননা আমরা আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে চেষ্টা করছি, আর যত্নের সাথে বড় করে তুলতে চাইছি, আর শ্রদ্ধেয় বয়স্কজন যারা নাগরিক হিসেবে ভাবছেন, আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের উচিত মানুষের শালীনতার মৌলিক মান বজায় রাখতে পারা।  

এই নির্বাচনে সত্যটা এ-ই যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে একজন আছেন আমাদের, যিনি তার গোটা জীবনে আর এই ক্যাম্পেইনে নারীদের নিয়ে এমন কিছু বলেছেন, যা এতোটাই জঘণ্য, এতোটাই অসম্মানজনক, যার কোনো কিছুই আজ এখানে উদ্ধৃত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এবং গত সপ্তাহে আমরা এই প্রার্থীকে নারীকে যৌন হয়রানি করতে পারায় সত্যিকার অর্থেই আস্ফালন করতে দেখেছি। এরপরও আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমি বলছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নারীর প্রতি যৌন হয়রানির সমর্থনে আস্ফালন করেছেন।

আমাকে বলতেই হবে যে এ নিয়ে না ভেবে আমি পারছি না। এসব আমার ভেতরটাকে এমনভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে, যা আমি ভাবতেও পারিনি। আর তাই এরকম কিছুই ঘটেনি ভেবে সান্ত্বনা পেতেই যখন ভাল লাগছিল, আর এখানে এলাম আমার স্বাভাবিক নির্বাচনী বক্তব্য দিতে, তখন সব কিছুই অন্তত একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে নিয়ে পরবর্তী বিষয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়াকে মনে হ’ল অসততা আর কপটতার উদাহরণ হয়ে যাবে।

এটা এমন কিছু যা আমরা অগ্রাহ্য করতে পারি না। এটা এমন কিছু নয় যা আমরা ন্যাকাড়া দিয়ে মুছে ফেলতে পারি, দুঃখজনক নির্বাচনী মৌসুমে আরো অন্যান্য বিরক্তিকর ফুটনোট যেভাবে মুছে ফেলা যায়। কেননা এ কেবল মাত্র ‘অশ্লীল কথোপকথন’ ছিল না, কেবল লকার-রুমের পরিহাসই ছিল না। এসব ছিল এক ক্ষমতাধরের ব্যক্তিগত বক্তব্য যা মুক্তভাবে এবং প্রকাশ্যে তার যৌনশিকারী আচরণকে তুলে ধরেছে, আর সত্যিকার অর্থে নারীকে চুমু দেওয়া এবং নারীর শরীর হাতড়ানো নিয়ে আস্ফালন করা হয়েছে, আর এসবই করা হয়েছে এতটা অশ্রাব্য ভাষায়, যে, আমাদের অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম আমাদের সন্তানদের নিয়ে, যারা টিভি খোলা থাকায় এসব শুনছিল।

michelle-3বিষয়টা আরো খারাপ হয়ে গেল, কেননা এখন এটা খুবই স্পষ্ট যে এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা অসংখ্য উদাহরণের মধ্যে একটি, যা থেকে বোঝা যায় সারা জীবন তিনি কিভাবে নারীর সাথে ব্যবহার করেছেন। আমাকে বলতেই হবে, যখন আমি এসব শুনেছি, আমি এতোটাই ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছিলাম, মনে হয় আপনারা অনেকেই সেভাবে অনুভব করেছেন, বিশেষ করে নারীরা। আমাদের শরীর নিয়ে নির্লজ্জ উক্তি। আমাদের আকাঙ্খা আর বুদ্ধিমত্তার প্রতি অশ্রদ্ধা। একজন নারীর সাথে চাইলেই যা কিছু করা যায়, এমনই বিশ্বাস।

এটা নিষ্ঠুরতা। এটা ভয়ানক। আর সত্যটা হচ্ছে, এটা কষ্টদায়ক। এটা কষ্ট দিচ্ছে। যখন আপনি নিজের মতো করে পথ চলছেন আর কিছু লোক আপনার শরীর নিয়ে নোংরা শব্দ ছুঁড়ে দিতে থাকলে আপনার যেরকম অসুস্থ, ডুবে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়, এটা সেরকমই। অথবা আপনি যখন দেখেন কাজের ক্ষেত্রে কোন এক ব্যক্তি আপনার একটু কাছে ঘেঁষে দাঁড়ায়, একটু দীর্ঘ দৃষ্টি দেয় যা আপনার নিজের ভেতরে অস্বস্তির অনুভূতি এনে দেয়।

এ অনুভূতি আতঙ্ক আর উল্লঙ্ঘনের, যা অনেক নারী অনুভব করেন যখন কেউ তাদেরকে আঁকড়ে ধরে বা তাদের উপর বলপ্রয়োগ করে এবং তারা না বললেও এতে কান দেয় না- আমরা এরকম কিছু জানি প্রতিটা দিন ঘটছে কলেজ ক্যাম্পাসে এবং অসংখ্য জায়গায়।

আমাদের মা-দাদিমারা তাদের সময়ের যেসব গল্প বলতেন, মনে পড়ে যায়, যখন অফিসে বস নারী অধীনস্তকে বলতে এবং করতে পারতেন যা খুশি মন চায়, কঠোর পরিশ্রম করার পরও তাদেরকে প্রতিটা প্রতিবন্ধকতা লাফিয়ে পার হতে হতো নিজেকে প্রমাণ করার জন্য, যা কখনোই যথেষ্ট হতো না।

আমরা ভাবতাম এসবই প্রাচীন ইতিহাস, আমরা কি তা-ই ভাবতাম না? কত শত মানুষ এই ধরনের সন্ত্রাস আর অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করা এবং অসম্মানের সমাপ্তি ঘটাতে কত বছর ধরে কত পরিশ্রমই না করেছেন, কিন্তু আমরা এখন এখানে, ২০১৬ সালে, আর আমরা নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিদিন ঠিক এসবই শুনছি।

আমরা এতে ডুবছি। আর আমরা সবাই তা-ই করছি, যা নারীদের সব সময়ই করতে হয়। আমরা আমাদের মাথাকে পানির উপর ভাসিয়ে রাখতে চাইছি, অন্তত চেষ্টা করছি এর ভেতর দিয়ে যেতে, চেষ্টা করছি এমন ভান করতে যে, সত্যি সত্যিই এতে কিছু যায় আসে না, এর কারণ হয়তো বা  নারীকে দুর্বল দেখানোর মতো ধারণা স্বীকার করে নেওয়াটা কষ্ট দেবে বলে ভাবছি।

হয়তো আমরা সমালোচিত হতে ভয় পাচ্ছি। হয়তো এসব অনুভূতিকে গিলে ফেলতে ফেলতে আর চুপ থাকতে থাকতে এতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি, কেননা মানুষ প্রায়ই তার বিষয়ে আমাদের কথাকে নিতে চায় না বলে দেখেছি। অথবা হয়তো আমরা বিশ্বাস করতে চাই না যে, এমন কিছু লোক এখনও আছে যারা আমাদেরকে নারী হিসেবে খুব সামান্যই ভাবে। অনেকেই এসবকে দেখছেন  আরেকটা দিনের খবরের শিরোনাম হিসেবে, যেন বা আমাদের অবমাননার বিষয়টি ফুলানো ফাঁপানো অথবা অন্যায্য, যেন বা এটাই স্বাভাবিক, রাজনীতি, সব সময় যেমনটি ঘটে আর কি।

nasrin-mustafa
নাসরীন মুস্তাফা

কিন্তু, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিশ্চিত হউন। এটা স্বাভাবিক নয়। সব সময়ের মতো এটা রাজনীতি নয়। এটা অসম্মানজনক। এটা সহ্য করা যায় না। কোন্ দলে আপনি আছেন- ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান, স্বতন্ত্র-বিষয়টি মোটেও সেরকম নয়, কোন নারীই এভাবে অপমানিত হতে পারেন না। আমাদের কেউ-ই এই ধরনের নির্যাতন আশা করি না।

আমি জানি, এটা নির্বাচনী প্রচারণা, কিন্তু এটা রাজনীতি সম্পর্কিত নয়। এটা মানবিক শালীনতার মৌলিক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। এটা ঠিক এবং বেঠিকের সাথে সম্পর্কিত। আমরা আর সহ্য করে যেতে পারি না, অথবা আমাদের সন্তানদের সামনে আর এসব উন্মুক্ত করতে পারি না- আর এক মিনিটের জন্য তো নয়ই, চার বছরের জন্যও ছেড়ে দিতে পারি না। এখন সময় আমাদের সবার দাঁড়িয়ে বলা যে, যথেষ্ট হয়েছে। এখনি এসব থামতে হবে।

কেননা, ভেবে দেখুন। নারী হিসেবে এই সবকিছুই আমাদের কাছে কষ্টদায়ক যদি হয়, আমাদের সন্তানের ক্ষেত্রে কী হবে ভেবেছেন কি? আমাদের ছোট্ট মেয়েগুলোর কাছে কী বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে, যখন ওরা শুনছে যে ওদের কেমন দেখতে হওয়া উচিত বা কিভাবে আচরণ করা উচিত? পেশাজীবী হিসেবে, মানুষ হিসেবে তাদের মূল্যবোধ বিষয়ক, তাদের স্বপ্ন আর অনুপ্রেরণা নিয়ে কী শিক্ষা তারা পাচ্ছে?

এসব কিছু আমাদের দেশের পুরুষ এবং ছেলেশিশুদেরকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত  করছে? কেননা, আমি আপনাদের বলতে পারি আমার জীবনে যে পুরুষটি আছেন, তিনি নারীদের নিয়ে এভাবে কথা বলেন না। আর আমি জানি, আমার পরিবার অন্যরকম কিছু নয়। একে যদি প্রাত্যহিক লকার-রুমের বাতচিত বলে উড়িয়ে দেই তো সব জায়গায় বাস করতে দেখা সব ভদ্র পুরুষদের অপমান করা হবে।      

যে পুরুষকে আপনি চেনেন, আমি চিনি, তারা নারীর সাথে এভাবে ব্যবহার করেন না। তারা স্নেহময় পিতা, নিজেদের কন্যারা নারী সম্পর্কিত এই ধরনের নোংরা কথায় জড়িয়ে পড়ছে ভেবে অসুস্থবোধ করেন। তারা স্বামী এবং ভাই এবং পুত্র, যারা নারীর প্রতি অসম্মান, অবমূল্যায়ন, অশ্রদ্ধার প্রদর্শনকে সহ্য করতে পারেন না। আর আমাদের মতো এই পুরুষরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এই নির্বাচনের প্রভাব আমাদের পুত্রসন্তানদের উপর কিভাবে পড়বে, ওরা কিভাবে রোল মডেল ঠিক করবে, কিভাবে বুঝবে পুরুষ মানে কী!

সত্যি বলতে কি, কিছু দিন আগে কেউ একজন আমাকে একটি গল্প বলেছিল। গল্পটি তার ছয় বছরের পুত্রসন্তানকে নিয়ে। ছেলেটি একদিন টিভিতে সংবাদ দেখছিল, তারা সবাই মিলেই সংবাদ দেখছিলেন। আর সেই ছোট্ট ছেলেটি, অপ্রত্যাশিতভাবে বলেছিল, ‘আমার মনে হয় হিলারি ক্লিনটনই হবেন প্রেসিডেন্ট।’ তখন ওর মা বলেছিলেন, ‘কেন তুমি এ কথা বলছো?’  তখন এই ছয় বছরের বালক বলে, ‘কেননা, তার প্রতিপক্ষ ব্যক্তিটি কাউকে বলছেন ‘পিগি’। তুমি এমন  কাউকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে পারো না, যে অন্যকে ‘পিগি’ ডাকে।’

এমনকি একজন ছয় বছরের শিশুও ভালো জানে। ছয় বছরের শিশুও জানে যে বড়দের ব্যবহার কিরকম হতে হয়! এভাবে কোন ভদ্র মানুষ আচরণ করে না। আর অবশ্যই এমনটি কারোর সাথে মানায় না, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চাচ্ছেন।

আসুন আমরা খুব স্পষ্ট হই। শক্তিশালী পুরুষ- এরা সে-ই পুরুষ, যে কি না অন্যদের রোল মডেল- নারীকে নিচে টেনে আনে নিজেকে শক্তিশালী ভাবতে পারার কোন প্রয়োজন তার নেই। যে মানুষ সত্যিই শক্তিশালী, তিনি অন্যদের টেনে তোলেন। যে মানুষ সত্যিই ক্ষমতাধর, তিনি অন্যদের সাথে মিলে থাকেন।’

মিশেল ওবামা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে যা যা বলেছেন, তা কি খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে আধমরা করা বদরুলের সাথে যায়? ঘরে ঘরে বদরুল, বদরুলের ছেলে, বদরুলের বাপ যখন নারীকে অপমানিত করার মাধ্যমে নিজেকে শক্তিশালী ভাবতে পছন্দ করে, তখন মিশেল ওবামা আর ভিনদেশি কেউ থাকেন না, ঘরে ঘরে হাহাকার করতে থাকা অপমানিত মা-বোন-স্ত্রী-কন্যাসম চিরপরিচিত কেউ একজন হয়ে ওঠেন, যারা বহু বহু বছর ধরে প্রতিবাদের ভাষায় বলেই চলেছেন, বদরুল, বদরুলের ছেলে, বদরুলের বাপেরা কানেও নিচ্ছে না। কানে নিলে যদি শক্তি কমে যায়! আর তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পরা নারীকে যা খুশি তা-ই বলছেন, যা খুশি তা-ই করছেন বা করতে চাইছেন।

আমেরিকার শিশুরা ভুল বিষয় শিখছে বলে মিশেল ওবামা’র চিন্তা মিলে যায় আমাদের চিন্তার সাথে। বদরুল যখন খাদিজাকে কোপায়, ওবায়দুল রিশাকে কোপায়, প্রেম করেনি বলে কোপানোর যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতে চায় বদরুল-ওবায়দুল আর তা মিডিয়াতে ভালই কভারেজ পায়, তখন আমাদের পুত্ররা কী শেখে আর কন্যারাই বা কী শেখে, ভেবে দেখা দরকার নয় কি?

এতোকাল বদরুল-ওবায়দুলরা একলা কোপাচ্ছিল। এবার কোপা-পার্টির নেতা হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে বদরুল-ওবায়দুলদের বুক ফুলিয়ে কোপানোর সময় কি এসে গেল?

মিশেল ওবামা যেমনটি বলছেন, সেভাবে আমিও বলি। ভেবে দেখুন।

শেয়ার করুন:
  • 53
  •  
  •  
  •  
  •  
    53
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.