সংসারটা ধরে রাখাও কম যোগ্যতার নয়

শাশ্বতী বিপ্লব: একটা অনর্থক সম্পর্ক মানুষ কেন বয়ে বেড়ায়, সেই প্রশ্ন উঠেছে বেশ জোরেশোরে। কী সেই পাহাড়সম বাধা যা টলেও টলে না, সরেও সরে না! পেছন থেকে টানে কৃষ্ণগহ্বরের মতো। কেনই বা সেই টান অস্বীকার করা যায় না!একান্নবর্তী পরিবার ভাঙ্গছিলো অনেকদিন ধরেই, এবার ভাঙ্গছে একক পরিবারও। স্বামী-স্ত্রী, সন্তান মিলে যে ছোট পরিবার, তাও যেন টিকতে চাইছে না। পড়ে পড়ে মার খাওয়া আর কতো? ডাক উঠেছে বেরিয়ে আসার।

মেয়েরা ভাবছে, সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, বেরিয়েও আসছে। ডিভোর্স বা তালাক এতোদিন যেনো একচেটিয়া ছেলেদের অধিকারে ছিলো। এখন মেয়েরাও বের হয়ে আসতে শুরু করেছে ট্যাবু ভেঙ্গে। ভালোবাসাহীন, অন্তঃসারশুন্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায় অস্বীকার করছে মেয়েরা। তাদের সাহসিকতাকে স্যালুট।

Marriage 1এর বিপরীতে, ভেঙ্গে দেয়ার সকল যোগ্যতা সত্ত্বেও যারা প্রাণপণ ধরে রাখতে চান বা ধরে রাখেন সংসারটাকে, তারা আজ সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাদেরকে “অর্থৈনিতিক” সক্ষমতার দাড়িপাল্লায় মেপে বা “সাহসহীনতার” বা “আত্মমর্যাদাবোধ হীনতার” ট্যাগ দিয়ে বড্ড সরলীকরণ করে ফেলছি নাতো? কিংবা সরলীকরণ করে ফেলছি ভালো থাকার সংজ্ঞাটাকে? ভেবে দেখা দরকার।

বৈরি এই সমাজে, একা থাকা কিংবা সংসারে টিকে থাকা দুটোর কোনোটাই কম যোগ্যতার নয়। নয় কম চ্যালেঞ্জেরও। অনেকেই সকল যোগ্যতা থাকার পরও স্বেচ্ছায় সংসারে টিকে থাকার যুদ্ধটাকেই বেছে নেন।

কেন? কারণ, সংসারে ভালোবাসা যেমন শেষ কথা নয়, তেমনি শেষ কথা নয় বিয়ে ভাঙ্গাটাও। সম্পর্ক ভেঙ্গে দেয়ার পরবর্তী কনসিকোয়েন্স সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকা এবং করণীয় নিয়ে ভাবাটাও জরুরী।

কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে ভেঙ্গে দেয়াই দস্তুর। না ভাঙ্গাটাই বরং অসম্মানের। আবার কিছু কিছু বিচ্ছেদ আমাদের তৈরি করা, আরোপিত। যেগুলো চাইলেই আটকানো যায়। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সন্তানের জন্য।

হ্যাঁ, সন্তানের জন্য। একটি বিয়ে সবচাইতে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে সেই সংসারে সন্তান জন্মানোর পর। সন্তান এমন একটি সম্পর্কের সুতো তৈরি করে যেখানে দায়ভার বর্তায় দুজনের উপরই। দুটি মানুুষ নিছক স্বামী-স্ত্রী থেকে অভিভাবক হয়ে উঠে। সন্তানের মঙ্গলই তখন প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ ছাড় দেয়ার নামই অভিভাবকত্ব।

নারী-পুরুষ নির্বশেষে মানুষ যখন বিয়েটা ভেঙ্গে দেয়ার জন্য উঠে-পড়ে লাগে, তখন তারা শুধুমাত্র নিজেকে দেখতে পায়। সে নিজে কী পেল না, তার কোন স্বপ্নটা পূরণ হলো না, সেটাই বড় হয়ে ওঠে। ভাবে সন্তানকে ঠিক ম্যানেজ করে নেবে। এইতো সাময়িক ঝড়টা কেটে গেলেই সন্তানের জীবনের ঝড়টাও থেমে যাবে।

কিন্তু যায় না। ভেঙ্গে যাওয়া পরিবারের সন্তানেরা সারাটা জীবন এর কুফল বয়ে বেড়ায়। এর ছাপ পড়ে তাদের মানসিক গড়নে, তাদের আচরণে। এমনকি তাদের ভবিষ্যত দাম্পত্য জীবনেও।

বিবাহ এবং বিবাহ বিচ্ছেদ দুটোই অনিশ্চিত যাত্রা, একধরনের অনুমান। সে আপনি ভালোবেসেই বিয়ে করুন বা পরিবারের পছন্দে। আপনি জানেন না আপনার জন্য কি অপেক্ষা করে আছে।

Shaswati 4সবচেয়ে নাজুক অবস্থা তৈরি হয় আপনি যখন আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একজনকে ছেড়ে এলেই যে বাকী জীবনটা একা থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আবার বিয়েই করতে হবে, এমনও কোন কথা নেই। কিন্তু যেটাই করুক না কেন সেখানে সময় নেয়ার এবং বিবেচনাবোধ কাজে লাগানোটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে আত্মসম্মানবোধ থেকে একটি সম্পর্ক ভেঙ্গে গেলো, সেই আত্মসম্মানটা বাঁচিয়ে রাখাটা জরুরী। নইলে শুধু ভাঙ্গা গড়ার খেলাই সার হবে।

একটা সম্পর্কে ভালোবাসা নেই জেনেও যখন সম্পর্কটা টিকে যায়, তার সাথে জড়িয়ে থাকে বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষাপট। নিজেকে, বিশেষ করে সন্তানকে, সেই সংকটের মুখোমুখি করতে চান না অনেকেই। একটি অসুখী সংসারও সন্তানের জন্য সংকটময় নিঃসন্দেহে। তবে, এই দুটো সংকটের মধ্যে কোনটি শুভতম সেটা বিবেচনার দাবী রাখে।

যেহেতু, এর কোন অব্যার্থ উত্তর নেই, তারা টিকে থাকার সিদ্ধান্ত  নেন। দু’একটি সফলতার উদাহরণ ছাড়া (যারা অধিকাংশই বিদেশে থাকেন), চারদিকের সম্পর্ক ভেঙ্গে বেরিয়ে আসা মানুষগুলোর অসুখী, হতাশাগ্রস্ত মুখ তাদের নিরুৎসাহিত করে।

তারা জানেন, শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতাই শেষ কথা নয়। তারা যোগ-বিয়োগ করেন এবং এই আপাত অসুখী সম্পর্কটা ভাঙ্গার চাইতে সংসারে থেকেই যুদ্ধটা লড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যে অচলায়তনকে সম্পর্ক ভেঙ্গে দেয়ার মাধ্যমে আঘাত করা যায়, সেই অচলায়তনে সম্পর্কের ভেতর থেকেও পরিবর্তনের সূচনা করা যায়। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের কৌশল ভিন্ন। কেউ দাপটের সাথে মোকাবেলা করেন, কেউ বা নীরবে। কেননা, প্রতিটি দাম্পত্য সম্পর্ক যেমন স্বতন্ত্র, তার সমস্যাগুলোও তেমনি স্বতন্ত্র। ভিন্ন ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতা, ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা। কিন্তু তারা সবাই দশভূজা। তাদের প্রতিও আমার স্যালুট রইলো।

সবশেষে Dmitri Shostakovich এর একটি সনেট দিয়ে শেষ করবো।

Last June my parents got divorced. So now

I see my dad on weekends. My best

Friend. My good angel. So anyhow,

He lives with his girlfriend, and I’m his weekend guest.

It works out ’cause I love her and her three

Boys. But my mom says I can’t go there

Weekdays ’cause my grades will slip. Really.

But she’s got rights, and I don’t have a prayer.

Why is it parents have the right to split

When they have kids? Why don’t they have to wait?

Why are they so free to choose, while it

Becomes our job to learn to bear our fate?

Right now right through my heart there runs a wall

That I did not erect, as I recall.

শেয়ার করুন:
  • 3.8K
  •  
  •  
  •  
  •  
    3.8K
    Shares

In any case, separation must be the last option, since it puts enormous psychological stress on the children. My opinion always goes for staying together. To sustain a marriage, or to get it back from the state of “on the rock”, couples may try to be very good friends to each other. They may even start addressing each other like friends, and do things what two friends do to each other. This is one of the best solutions for a nice conjugal life, I believe.
Best luck, all the couples.

No, you couldn’t get it. You have mentioned some quite prevalent situations, but they are not pertinent here. It’s not about continuing the relationship or breaking up. It’s about recognising the struggles of  the women who continue the fight, who don’t let it go unchallenged. Please, don’t generslise everything.

Divorce is one of the right choice for many but everyone may not necessarily need to go for that. There are many good examples of women who haven’t left the bettle, rather changed the situation in favor of them from their own position and capacity.

You might have not read the full nerrative carefully, I assume. You might have missed out the para:

কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে ভেঙ্গে দেয়াই দস্তুর। না ভাঙ্গাটাই বরং অসম্মানের। আবার, কিছু কিছু বিচ্ছেদ আমাদের তৈরি করা। যেগুলো চাইলেই আটকানো যায়।

So, I didn’t mean everyone. You know what, it’s easy to say someone to go for divorce but diffucult to assure that that would be the best decision for them. “One size doen’t fit all”. Divorce is not a “magic bullet” for fixing up every relation. Hope you understand.

Thanks for your reaction Mr. Fardin. Take care.

What a piece of garbage! Ok, I get it, you want us to stop criticizing the women that are staying in a bad relationship for the sake of children or society or something like that. If anyone wants to be in torture or in an unhappy environment, others really don’t have a say in it, unless that person is mentally unbalanced. But have you thought even once what this article gonna do? It’s gonna inspire the long living male chauvinists and pro-male-dominating women to tease and taunt and torture the already victim women! It’ll give those inhuman mammals a new inspiration to blame the victims more. Do you think girls break a relationship for fun? Are you one of those “society aunties” who think that a divorced woman did it for fashion? You are a woman too, you know that when a girl gets married ho much hope and dream she carries in her head and mind. Do you think these girls smashes all these for naught? If yes, then YOU are what is wrong with this society! Thanks for nothing.

ডিভোর্স একটা অপশন, কিন্তু একমাত্র অপশন নয়। এবং সম্ভবতঃ সহজতর অপশন।

যারা এই সহজ অপশনটায় না গিয়ে শিড়দাঁড়াটা সোজা করে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে যুদ্ধটা করে যান, তাদেরকে রিকগনাাইজ করা, সম্মান দেখানো, তাদের যোগ্যতাকে স্যালুট জানানো আপনার কাছে “খেদা হাতি” মনে হয়!! বাহ্, ভালো বলেছেন।

নিজের মতের সাথে না মিললেই অন্যের মত খারিজ হয়ে যায় না। ভালো থাকবেন Asma Sultana.

আপনিও লিখুননা আপনাদের কথা। উইমেন চ্যাপ্টার সেটাও ছাপবে আশা করি।আমরা আপনাদের অপারগতা বা সীমাবদ্ধতার কথাও শুনতে চাই, বুঝতে চাই যৌক্তিকভাবে।

আসলে কি বলুনতো, আমরা সবাই একটা সিস্টেমর শিকার। ফেমিনিজম সেই সিস্টেমটাকেই বদলানোর কথা বলে। যেহেতু, এই সিস্টেমের কারণে নারীরাই বেশি নিগৃহিত হন, সেকারণে নারীদের কথাই বেশি শোনা যায় বা বলার প্রয়োজন পড়ে।

ফেমিনিজম আদতে নারী-পুরুষ দুজনের কথাই বলে। নারীবাদ আসলে মানবতাবাদেরই অপর নাম।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যখন এই সিস্টেমটা বদলাতে চাইবে, তখনই সত্যিকারের পরিবর্তন আসতে বাধ্য।

ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে এবং লেখাটা পুরোটা পড়ে শেষ করতে পারছি। In general, আমি feminism টাইপ লেখা পড়তে পারি না কারণ feminism টাইপ লেখাটে সব দোষ থাকে ছেলেদের। লেখক / লেখিকারা এইটা বুজতে পারে না শুধু এক হাতে তালি বাজে না এবং একজন কে বড় করার জন্য অন্য জন কে ছোট করার দরকার পড়ে না । সেই দিক থেকে এই লিখা টা বাতিক্রম। আরও ভালো লাগত লেখিকা যদি উল্লেখ করতেন সন্তান এর দিক চেয়ে, সব রকম অপশন থাকা সত্ত্বেও, একটা ছেলেকে সংসার টিকিয় রাখার জন্য কি পরিমান মানসিক যন্ত্রণার/ নির্যাতন এর মধ্য দিয়া জেতে হয়। এক দিকে মা বাবা ভাই বোন অন্য দিকে বউ বাচ্চা। মা বাবা ভাই বোন এর pressure বউ কেন অ্যাডজাস্ট করে না ঐ দিকে বউ আর শাশুড়ির pressure আমি কেন শাশুড়ির পয়দা হই না/ মা বাবা ভাই বোনকে কেন ভুলে যাই না। অবশ্য ছেলেদের এই অবস্তা প্রকাশ পায় না কারন এখন ছেলে/ মেয়ে সবাই feminist! আমি কাউকে ই দোষ দেই না, সব দোষ আমার, কারন অপশন থাকার পর ও গার্ল ফ্রেন্ড নেই নাই, বিয়ে জন্য হা করে বসে ছিলাম …। হা হা হা …। এখন বিয়ে এর খায়েশ পূরণ হইছে ।
অফtopic: just মন খারাপ করা কথা লিখলাম , সবার অবস্তা এই রকম হয় না, আমার পরিচিত অনেক এই আছেন যারা পারস্পরিক বোঝাপড়ায় অনেক অনেক ভাল আছেন ।

সময়ে সাথে সাথে সব কিছুই বদলে যায়। গ্রীষ্মের পরে আসে আকে বসন্ত। রুক্ষতা ঘুছে যায়। সে সময়ের জন্য ধৈর্য ধারন করে প্রতীক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অনেকেই সন্তান সামাজিকতার কথ া ভেবে নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে প্রতিকূল এক সংসারে পড়ে থাকে। অধিকাংশেরর ক্ষেত্রে তাদের এ ধৈর্য এক সাময় তাদের জন্য সুখের বসন্ত এনে দেয়। তার উদাহরণ অসংখ্য বিদ্যমান আমাদের সমাজে। অন্যদিকে যারা আত্মমর্যাদাবোধ, স্বাধীনচেতা মানসিকতার ছাড় দিতে ব্যর্থ হয়ে নতুন নীড়ের সন্ধানে বের হন। তাদের অধিকাংশে আক্ষেপটা সবার নজরে আসে না। তাই ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পা বাড়ানোর আগে বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে আনার চেষ্টা অবশ্যই বীরত্ব সূচক। জীবন সংহারী প্রতিকূলতা হলে অনিশ্চয়তায় পা বাড়ানোই শ্রেয়। সর্বোপরি, জীবনের এ কঠিন সিদ্ধান্ত অবশ্যই গুণীজনদের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.