আপনাদের দৃষ্টি পরিবর্তনের অপেক্ষায়…..

আফরিন জাহান পুষ্পিতা: কয়েকদিন ধরে একটা ব্যাপার দেখছি। আমি সেভাবে কখনো লিখিনি এসব বিষয়ে কিন্তু ছোট থেকেই সচেতনতার ঘাটতি ছিল না আমার পরিবারে। যাই হোক যা বলছিলাম, ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের মানুষ থাকে। সবার মানসিকতা এক হবে সেটা ভাবাও অন্যায়। যেমন কোনো একটা মেয়েঘটিত ঘটনা হলো, অমনি দুই দল হয়ে গেল -এক দল দুষবে মেয়েটিকে (পুরো মেয়ে জাতিকেই বলবে আসলে), আরেক দল বলবে, সমাজটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার ইসলামিক ভাষণ দিবে।

pushpita
আফরিন জাহান পুষ্পিতা

তা দিক, কিন্তু আমার কথা হলো এই যে আমরা বলছি এতোকিছু, আমরা কি ঘটনা হওয়ার আগে পারতাম না আটকাতে? দাঁড়ান বুঝিয়ে বলছি, যেমন কোন একটা মেয়ের ভিডিও বের হলো সবাই এমন আচরণ করবে যেন ভিডিওতে শুধু মেয়েটাই ছিল, আর তার সাথে ছিল এক অদৃশ্য মানব!!! ছেলেটারও যে এখানে ভূমিকা ছিল তা যেন কারো চোখেই পড়ছে না! এখন কথা হলো ওই মেয়েটা ( with অদৃশ্য মানব!!!) যেটা করেছে এটা করার সাহস বা পরিস্থিতি পেল কিভাবে? প্রথমত, ছেলে ও মেয়েটার পরিবারের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। অনেকে বলবে বন্ধু-বান্ধবের প্রভাবসহ অনেক কিছু। কিন্তু আমি বলবো, হতেই পারে না।

কারণ আমি নিজে এমন একটা পরিবারে আছি যেখানে আমাদের যেমন স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তেমনি কিছু অনুশাসনও থাকে। আমাদের বেশভুষাও অনেক আধুনিক। কিন্তু আমি তো কখনো এমন কিছু করার চিন্তা করতে পারিনি। তাহলে এতোদিনে আমারও কিছু প্রকাশ হয়ে যেত। আমার কি অত্যাধুনিক বন্ধু নেই? অনেক আছে। তাই এক্ষেত্রে কোনো অজুহাত চলে না।

এরপর আছে সমাজ। এটা সেই সমাজ যেখানে ছোটো থেকে ছেলেরা শেখে যে এটা পুরুষশাসিত সমাজ, এখানে তারা যা করবে তাই ঠিক এবং মেয়েরা হলো ভোগ সামগ্রী আর সংসার বৃদ্ধি করার মেশিন। ব্যতিক্রম আছে, তবে আমি সেদিকে যাচ্ছি না। কারণ এটা হলো গড় মানসিকতা। তো সমাজের ভূমিকাও দেখলাম। এখন এরপর যদি দুইজনের মধ্যে এমন কোনকিছু প্রকাশ পায় বা ঘটে তো এর দায়টা কে নেবে?  পরিবার? সমাজ (পুরুষশাসিত)?
নিতে হবে শুধুমাত্র মেয়েটাকে। হয়তো কষ্টে সে আত্মহত্যা করবে। কেউ আবার সাহস করে টিকে থাকবে আর প্রতিনিয়ত তথাকথিত সুশীল সমাজের গালি খাবে। ছেলেটার দিকে তাকাবেই না কেউ, সেতো অদৃশ্য মানব!!!

সামাজিক আইন সবাইকেই মানতে হবে ছেলে বা মেয়ে সবাইকে। যেই ব্যতিক্রম করবে হয় তাকেই দুষবেন, আর নাহলে কাউকেই না। যদি না পারেন, তো মুখে কুলুপ দিয়ে রাখুন, কেউ তো আপনাকে সমালোচনার মহা দায়িত্ব দেয় নাই। এমন না যে রাস্তায় কোন উগ্র (আপনার চোখে) পোশাক পরা মেয়ে দেখলে আপনার দৃষ্টি তার শরীরে ঘোরে না, তাই না?  মেয়েটা খারাপ, তো আপনি ভালো থাকুন।

আমার এতো কথার একটাই কারণ ছিল, যে, আমাদের সমাজের মেয়েদের এমনভাবে রাখা হয় এবং দেখা হয় যে মেয়েরা বাধ্য হয় ভাবতে যে তাকেই সবকিছু মানতে হবে, তাকেই ঘরে বসে থাকতে হবে। বাইরে গেলে যে যাই বলুক এটা তাকে শুনতেই হবে ভেবে নিতে হবে। ছেলেরা যাই করুক তারা পুরুষ (শারীরিকভাবে)!    অতএব, তুমিই সাবধান থাকো, নাহলে তোমারই সমস্যা!

আমি আশা করছি সেদিনটা খুব জলদি আসুক যখন এই মানসিকতা বদলাবে। যাতে আমার দুটো ভাগ্নি (আমার মেয়ে) এবং আমার ভবিষৎ প্রজন্ম রাস্তায় বের হয়ে ভয়ে না থাকে যে কখন তাকে কোনো খারাপ পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়….।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.