শাহবাগে গণ সংলাপ: জামাত-শিবিরের নিষিদ্ধের দাবী

994819_10201550452992948_1764328707_nউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (০৬ জুলাই): জামাত-শিবির বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি সংগঠন। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের বিরোধীতা করে পরিপন্থি কজকর্মে লিপ্ত। এখন তারুণ্যের জাগরণে ভীত হয়ে একাত্তরের মত এবারো আবার শেষ আশ্রয় হিসেবে ধর্মটাকেই ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করছে তারা। দেশের সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি নষ্ট করে মওদুদীবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা।

তারা দেশের শান্তি নষ্ট করতে সর্বদা তৎপর। তাই এদের নিষিদ্ধ করা এখন সময়ে দাবী। এবং এটাও নিশ্চিত করতে হবে এদের ভটে যেন কেউই ক্ষমতায় না আসতে পারে।

গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত ‘জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক গণসংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে শুক্রবার বিকেল ৫টায় এ গণসংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

গণ সংলাপে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ড. আনিসুজ্জামান, ড. আবুল বারাকাত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ, সাংবাদিক হারুন হাবিব, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী, শাহ সুফি ড. ইমদাদুল হক।

গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সমন্বয়ক মারুফ রসুলের সঞ্চালনায় গণ সংলাপে বক্তারা জামাত-শিবির নিষিদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, তরুণ প্রজন্ম চাইলে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ হওয়া কোনো ব্যাপারই নয়। তরুণ প্রজন্ম আজ চাইলে কালই তারা অটোমেটিক নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন নাস্তিক শব্দটা হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের লাস্ট ট্রামকার্ড। ধর্ম কেবল জামায়াত-শিবির যারা করে তাদেরই আছে? আমাদের দেশে যতো কোরআন পোড়ানো হয়েছে, বিশ্বের আর কোনো দেশে এতো কুরআন পোড়ানো হয়নি। কিন্তু এসব জঘন্য অপরাধ করলেও তাদের কিছু হয় না।

যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করা সবারই ধর্মবিশ্বাস রয়েছে উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, আমরা কি ছাত্ররা দোয়া চাইতে আসলে তাদের জন্য দোয়া করি না? আমরা আমদের মায়ের কাছে দোয়া চাই না? আমার মা কি জায়নামাজ নিয়ে আমার জন্য দোয়া করতে বসে যান না? আমাদের ধর্মে হিন্দুরা পাশে থাকতে পারে, বৌদ্ধরা কাছে থাকতে পারে। এটিই আসল ধর্ম।

তাঁর বক্তব্যে তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের বর্তমান সময়ের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমরা গণজাগরণ মঞ্চের মেয়েদের নাম লিখে দামি পত্রিকা ছাপাই। আমার জরিপ করে বোঝাতে চাই যে, গণজাগরণ মঞ্চের কথা বাংলাদেশের মানুষ জানে না। এ সময় তিনি আর প্রথম আলোয় লেখা না দেয়ারও ঘোষণা করেন। তাঁর এমন সিদ্ধান্তকে ব্যাপক করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানায় উপস্থিত জনতা।

তারুণ্যের প্রশংসা করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘ইয়াং জেনারেশনের মধ্যে হাংকি-পাংকি নাই। তারা জানে, বোঝে। ইয়াং জেনারেশন কোনো বিষয়ে অভিযোগ করে না। এরা কাজ শুরু করে দেয়।’

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার নিজ বক্তব্যে বলেন, সরকারে যারা থাকবেন আর যারা বিরোধী দলে থাকবেন তাদের উভয়কেই হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকেই তাদেরকে চলতে হবে।

ডা. ইমরান বলেন, বাংলাদেশের কোনো দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে কি না তা নিরুপিত হবে তারা জামায়াত-শিবিরকে রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে রাখে কি না।

ড. আবুল বারাকাত বলেন, এদেশের মানুষ ধর্মভীরু, কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। মৌলবাদীরা ধর্মকেই ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে মৌলবাদী অর্থনীতি কায়েম করার কৌশল নিয়েছে।

মৌলবাদি অর্থনীতি কায়েমের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, হিসেব করে দেখেছি, দেশে ১২৫টি জঙ্গি সংগঠন, তাদের রয়েছে ২৩১টি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, কয়েকটি ট্রাস্ট ফাউন্ডেশন। এর সঙ্গে এনজিও, মিডিয়া, আইটি, প্রতিষ্ঠান দিয়ে তারা মৌলবাদী অর্থনীতি কায়েম করার প্রচেষ্টায় রত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কোনো বিরোধী পক্ষ কোনো রাষ্ট্রে রাজনীতি করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেও জামায়াত রাজনীতি করছে। জামায়াত একটি বেআইনি সংগঠন। এরা রাজনীতিতো দূরে থাক, স্বাধীন দেশে এদের অস্তিত্বই থাকতে পারে না। যুদ্ধাপরাধের দল হিসেবে জামায়াতের নাম এসেছে। এজন্য জামায়াতের বিচার করতে হবে।

সাংবাদিক হারুন হাবিব তাঁর বক্তব্যে আশংকা প্রকাশ করেন, যদি কোনো কারণে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করে রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা হয় তাহলে বাংলাদেশে যে অবাধ গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িকতা বিরাজমান তা ভুলুণ্ঠিত হবে।

এ ছাড়াও গণ সংলাপে আগত দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বক্তারা।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.