বয়ো:সন্ধিকালে ছেলেদের জানাটা জরুরি

শিল্পী জলি: বয়ো:সন্ধিকালে আমাদের দেশের মেয়েরা বড়দের কাছ থেকে একটু- আধটু সাহায্য পেলেও ছেলেরা তেমন কোনো সাহায্য পায় বলে শুনিনি। অথচ এটি জীবনের অতি সাধারণ একটি ধাপ যেটা প্রত্যেকটি ছেলেকেই অতিক্রম করতে হয়।

puberty-1 বয়ো:সন্ধিকাল বা Puberty র মধ্য দিয়ে শিশুরা পরিণত মানুষে রূপান্তরিত হয়। সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। এই সময়ে তাদেরকে শারীরিক এবং মানসিক নানাবিধ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটা আমরা কমবেশি সবাই জানি। বড়দের সঠিক দিক নির্দেশনা ছাড়া ভুল পথে ধাবিত হতে পারে। যা তার পুরো জীবনের জন্যে এবং সমাজের জন্যে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বিষয়টিকে লজ্জাজনক বিষয় বলে দিনের পর দিন এড়িয়ে যাওয়া অনুচিত। বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে সবাই মিলে সহযোগিতায় এগিয়ে আসা জরুরি।

আমার এক বন্ধু ছিল– পড়ালেখায় বেশ ভালো, দেখতে ভালো, চাকরি ভালো, মদগাঁজা খায় না, এমনকি মেয়েদের পেছনেও ঘোরে না। একমাত্র ছেলেকে বাবা-মা বিয়ে দিতে চায়, কিন্তু সে বিয়েতে রাজী নয়। মা কাঁদেন, কথা বন্ধ রাখেন, বাবাও আর তার মুখ আর দেখতে চায় না, ছেলে তবুও নীরব। ওদিকে মেয়ের বাবারা যৌতুক নিয়ে পিছে পিছে ঘোরে– এমন ছেলে তারাও সহজে হাতছাড়া করতে চান না।

puberty-3অবশেষে, অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেটি দেশ ছেড়েছে। তবুও বলতে পারেনি, কেন সে বিয়ে করতে পারছে না। সে ইরেকশন (হার্ডেনিং) সমস্যায় আক্রান্ত ছিল। বয়ো:সন্ধিকালে যদি তার বাবা-মা তাকে যথাযথ চিকিৎসাটি দিতে পারতেন তাহলে হয়তো তাকে এমন করে জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াতে হতো না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছেলে সন্তানের বয়স ছয় হতেই তার সাথে একটু একটু করে বাবা / চাচা শ্রেণীর লোকের বয়ো:সন্ধি নিয়ে কথা বলা উচিত। বিশেষ করে শরীরের নানাবিধ পরিবর্তন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, এবং করণীয় বিষয়াদি নিয়ে।

পাশাপাশি, সেক্সচুয়াল ট্রান্সমিটেড ডিজিজ, প্রেগনেন্সি, এবং সেইফ সেক্স পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদির অবতারণাও ধীরে ধীরে করতে হবে। বয়ো:সন্ধিকালে তাদেরকে আরও শেখানো জরুরি যে, মেয়েদেরকে সত্যিকার অর্থে কিভাবে রেসপেক্ট করতে হয়– যেটা রেপের প্রবণতা কমাতে সহায়ক।

puberty-2ছেলেদের বয়ো:সন্ধিকাল দশ থেকে পনের বছরের মধ্যে শুরু হয়। তবে কারও আটের আগে শুরু হলে বা পনের ‘র পরও শুরু না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
ছেলেদের বয়ো:সন্ধিতে মাথার পিটুইটারি গ্লান্ড থেকে গোনাড এরিয়ায় সিগন্যাল যায় এবং টেসটসটরোন হরমোন উৎপাদন শুরু হয়। ঐ সময়ে পিনাস, স্ক্রোটাম আকারে বড় হতে থাকে, পিউবিক হেয়ার গজায়, এবং শরীরও দ্রুততার সাথে বাড়তে থাকে।

এছাড়া হাতের নিচে, বুকে, মুখে, পায়ে, চুল গজায়। গলার স্বর পরিবর্তন হয়। ব্রন/একনি হয়। হরমোনজনিত কারণে ঘামের গ্রন্হিগুলো অতি সচল থাকায় ঘাম বেশি হয়ে শরীরে বাজে গন্ধ ছড়াতে থাকে। তাই নিয়মিত গোসল করা এবং মুখ পরিস্কার রাখা জরুরি। ঐ বয়সী ছেলেদের মেজাজ-মর্জি সবসময় ঠিক থাকে না এবং চলাচলে কিছুটা সাময়িক ভারসাম্যহীনতা বা টলায়মান ভাব আসতে পারে–যেমন হঠাৎ হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া। তাদের চুলের তৈলাক্ততাও বৃদ্ধি পায় বয়ো:সন্ধিতে।

আনুমানিক তের’ বা তার আগে/পরে ছেলেদের ওয়েট ড্রিম হয়–অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে সিমেন নির্গত হয়। তদুপরি সেল্ফ সেক্স বা মাস্টারবেশন বিষয়টি থাকে, যেটা পুরোপুরি স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তবে এ বিষয়ে যেমন তেমন করে কোন একটি ভুল পদ্ধতি গ্রহণে তার স্হায়ী কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। যেহেতু তিন/চার বছরের শিশুরও নিজের পিনাস টাচ করলে সুখ অনুভূত হয়, তাই এটা মোটেই ক্ষতিকর বা লজ্জাজনক কিছু নয়। বরং নিয়মিত মাস্টারবেশনে ছেলেদের সিমেন কোয়ালিটি ভালো হয়, স্বাস্হ্য ভাল থাকে, ঘুম ভালো হয়, পুরো ইরেকশন ঘটে, এবং প্রস্টেইট ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কমে।

নিয়মিত সেল্ফসেক্স পিনাসের পুরো সম্প্রসারণ ঘটায়। এই রক্ত চলাচলে কোষে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ ঘটে, ফলে কোষ সজীব থাকে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত টিস্যু জন্মাতে বাধা প্রদান করে। নিয়মিত মাস্টারবেশন বা সেক্স না হলে বাড়তি টিস্যু জন্মে পিনাসের রিডাকশন ঘটাতে পারে।
সেল্ফসেক্সে জেন্টেল থাকা এবং হাত বদল করা জরুরি। নইলে অঙ্গটির কিছু অংশ স্পর্শ অনুভবের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

puberty-4মাস্টারবেশন শুধু বয়ো:সন্ধিকালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা জরুরি নয়। বিবাহিত পুরুষও নিয়মিত মাস্টারবেশন দ্বারা উপকৃত হতে পারে। এটা এক্সারসাইজের মতো মনে করে নিয়মিত করা যেতে পারে। একই দিনে একই সময়ে/সিটিংয়ে, টানা দুই থেকে তিনবার করে। তবে ঠিক ইজাকুলেশনের আগ মুহূর্তে থামিয়ে দিয়ে ইজাকুলেশন রোধ করতে হবে এবং বিরতি দিয়ে আবার চেষ্টা…। তৃতীয়বারে ইজাকুলেশন/সিমেন নির্গত হলে অসুবিধা নেই। এই এক্সারসাইজ সপ্তাহে মোট তিন/চার দিন করলে ভালো। এতে যাদের প্রিম্যাচিউর (আর্লি) ইজাকুলেশন সমস্যা থাকে সেটা অনেকটা কেটে যায় এবং লাভ মেইকিংয়ের সময় ইজাকুলেশনকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা বাড়ে। পাশাপাশি লাভ মেইকিংয়ের সময়টিতে টেনশন অন্যক্ষেত্রে রাখতে সক্ষম হলে বিবাহিত জীবন সুখকর হয়।

কখনও কখনও ভুল পদ্ধতিতে বা ভায়োলেন্ট পদ্ধতিতে সেল্ফ-সেক্স করতে গিয়ে কারও কারও পিনাস ভেঙে যেতে পারে। তাছাড়া নানাবিধ কারণে কারও পিনাসের গ্রোথ থেমে যেতে পারে, কারও ইরেকশনে সমস্যা থাকতে পারে, কারও বা পিনাস ভেতরের দিকে গ্রো করতে পারে। এমনকি কারও আবার দু’টো পিনাসও থাকতে পারে। তখন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা জরুরি।
সবার বয়ো:সন্ধির সমস্যা পুরোপুরি একই ধরনের না হলেও সহজ আলোচনার পরিবেশ থাকলে অনেক সমস্যারই সমাধান অতি সহজে করা সম্ভব।
বয়স তের-চৌদ্দতে কোন কোন ছেলের ব্রেস্ট টেন্ডার বড় হতে পারে– এটা স্বাভাবিক। নির্গত টেসটসটোরন এর পাশাপাশি কিছুটা ফিমেল হরমোন, এসট্রোজেনের কারণে এমন ঘটে। তবে ষোল নাগাদ ব্রেস্ট ঠিক না হলে ডাক্তার দেখিয়ে সমাধান পাওয়া যেতে পারে।

বয়ো:সন্ধিতে শিশুকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা, খেলাধূলায় নিয়োজিত থাকতে উৎসাহিত করা, প্রাইভেসি দেয়া, এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া তাদের সাথে ঐ মানুষটির সম্পর্ককে গভীর করে। এ সময়ে তাদেরকে একা ছেড়ে দিলে তারা যদি ক্ষতিগ্রস্হ হয়, তাহলে তারা কোনদিনই আপনজনদের আর মাফ করতে পারে না।

উল্লেখ্য পিটুইটারি গ্লান্ডে টিউমার অথবা হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার কারণে অনেক সময় ছেলেদের পার্সোনাল পার্টস এবং সার্বিক শারীরিক গ্রোথ বাধাগ্রস্হ হতে পারে, যেটা প্রাইমারি পর্যায়ে চিকিৎসা পেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঠিক হয়ে যায়।
শিশুদেরকে সব রকমের সহায়তা অবশ্যই রেসপেক্টের সাথে করা জরুরি।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.