মার্কিন দুতাবাস বন্ধের হুমকি, লাতিন নেতারা ঐক্যবদ্ধ

Moralesউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (০৫ জুলাই): বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস তার দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দুতাবাস বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এডোয়ার্ড স্নোডেন বিমানে রয়েছেন এমন সন্দেহে ইভো মোরালেসকে বহনকারী বিমানের গতিপথ পরিবর্তন করায় লাতিন আমেরিকার বামপন্থী নেতৃবৃন্দ একজোট হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কঠোর সমালোচনা করছেন।

প্রেসিডেন্ট মোরালেস হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন, প্রয়োজনে বলিভিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের দুতাবাস বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজন নেই কোন দুতাবাসের। আমাদের সাহস আছে, সম্মান আছে, সার্বভৌমত্ব আছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই রাজনৈতিকভাবে এবং গণতান্ত্রিকভাবেও আমরা অনেক ভাল থাকবো।

ভিয়েনায় দীর্ঘসময় আটকা থাকার পর বুধবার রাতে দেশে ফিরেছেন মোরালেস। বেশ ক্ষোভের সাথে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত চারটি দেশের ওপর দিয়ে তাঁর বিমানটি উড়তে না দেয়ায় গতিপথ বদলাতে হয়েছে। এই ঘটনায় লাতিন আমেরিকার অন্য নেতারাও বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তারা ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

রাশিয়ার মস্কোতে আশ্রয় গ্রহণকারী এডোয়ার্ড স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে রাজী আছেন, ইভো মোরালেসের এমন ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় তার এই বিমান কাহিনী। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এড়াতে বেশ কয়েকটি লাতিন আমেরিকার দেশের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন স্নোডেন।
মোরালেসের বিমানের গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করার ঘটনায় তার প্রতি সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, আর্জেন্টিনার ক্রিস্টিনা কির্চনার, ইকুয়েডরের রাফায়েল কোরায়া, উরুগুয়ের হোসে মুসিকা এবং সুরিনামের দেসি বুটার্সে। তারা এরই মধ্যে মোরালেসের সাথে দেখা করেছেন।

এর আগে এক সমাবেশে মাদুরো দাবি করেছেন যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফ্রান্স, পর্তুগাল, ইতালি এবং স্পেনকে মোরালেসের বিমানকে ঢুকতে না দিতে নির্দেশ দেয়।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় সরকারের একজন মন্ত্রী তাকে ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোন করে এই ঘটনা জানিয়েছে এবং বলেছে যে, তারা এজন্য ক্ষমা চাইতে যাচ্ছে। ওই মন্ত্রী তাকে বলেন যে, তারা এমন নির্দেশ পেয়ে খুবই আশ্চর্য হয়েছেন এবং অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেয় সিআইএ।

মোরালেসের সাথে সবগুলো দেশের প্রেসিডেন্টদের বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকারের প্রতি জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে তারা বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুতর লঙ্ঘন। অবশ্য মোরালেস এর আগে বলেছিলেন যে, ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়।

এদিকে রাফায়েল কোরায়া বলেছেন, তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের অপমানজনক আচরণ বরদাশত করা যায় না। তিনি বলেন, এই ঘটনা যদি ইউরোপের কোন দেশের প্রধানের ক্ষেত্রে হতো, যদি এটা খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে ঘটতো, তাহলে কী হতো, হয়তো যুদ্ধই লেগে যেত। তারা ভেবেছে কী, তারা আক্রমণ করতে পারে, গুঁড়িয়ে দিতে পারে আন্তর্জাতিক আইন? কোরায়া ইউনিয়ন অফ সাউথ অ্যামেরিকান ন্যাশনস এর নেতৃবৃন্দের প্রতি বৃহত্তর সম্মেলনের আহ্বান জানান। তবে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, চিলি এবং পেরুর প্রেসিডেন্টরা এতে উপস্থিত ছিলেন না, এমনকি তারা এ ঘটনায় কোন সমালোচনাও করেননি।

এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস মোরালেসের প্রতি সমর্থন জানালেও টুইটার বার্তায় লাতিন আমেরিকা এবং ইইউ এর মধ্যকার কূটনৈতিক সমস্যায় পরিণত না করার বিষয়েও তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

শেয়ার করুন:
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.