বাহ্ বৈরাগী সাহেব, এই নাহলে ভণ্ডপুরুষ!

সুমন্দভাষিণী: ফখরুল হাসান বৈরাগী, এদেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম খল অভিনেতা। বাস্তব জীবনেও যে তিনি এমন খল পুরুষ বা ভণ্ড, প্রতারক, তা জানাই হতো না এই ঘটনাটি না ঘটলে। তার দীর্ঘদিন নিখোঁজ সংবাদে কিছুটা বিচলিত হয়েছিলাম বৈকি, কিন্তু গতকালকের নাটকের পর বিন্দুমাত্র উৎসাহ বা ইচ্ছা নেই তার সম্পর্কে জানার বা বোঝার।

boiragiবৈরাগী সাহেব, পুরুষের যোগ্য কাজটিই আপনি করেছেন। আপনাকে সাধুবাদ জানাই। আপনি এ যুগের পুরুষতন্ত্রের অন্যতম দূত নি:সন্দেহে। আপনার এতোদিনের অভিনয় জীবনের চূড়ান্ত সফলতা দেখতে পাচ্ছি আমরা। ছবিতে দেখলাম, পুলিশ সদস্যদেরকে কী সুন্দর করে হেসে বুঝিয়ে দিচ্ছেন আপনার কীর্তির (পুরুষ কি আর কুকীর্তি করে?) কথা, আর তারাও সেটা বুঝে নিয়েই সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন, ‘ওই নারী উনার স্ত্রী নন’।

তার মানে আপনি লিভ টুগেদার করতেন, কিন্তু আপনার বাড়িতে, আশপাশের সবাই জানতো যে, আপনি বিবাহিত, আপনার একটি সন্তানও আছে। সময়ে সাথে সাথে সেই সন্তানও বড় হয়েছে, আর আপনাদের সম্পর্কটার অবনতি হয়েছে, এইতো! আর তাতেই আপনি আজ বড় গলায় থানায় এসে জানিয়ে গেলেন, সেই নারী আপনার স্ত্রী নন, এমন কোনো রেকর্ড নেই। একটি সন্তান আছে তো, তারপরও নতুন কোনো রেকর্ড লাগে, বৈরাগী সাহেব?

আপনাকে কুর্নিশ। আপনি শুধু একজন নারীকেই (সেই নারী যেমনই হোক না কেন) অস্বীকার করেননি শুধু, নিজের মুখেই বলেছেন, সেই ঘরে আপনার একটি সন্তান আছে, তাকেও পক্ষান্তরে অস্বীকার করেছেন। সেই ছেলেটির কথা একবারও ভাবলেন না, সে এখন স্কুলে যাবে, বন্ধুদের সাথে মিশবে, তার সামাজিক অবস্থানটি কী হবে, বলতে পারেন? অবশ্য যেখানে-সেখানে বীর্যস্খলনই যাদের অভ্যাস, তাদেরকে নৈতিকতার কথা শুনিয়েই বা কী লাভ! আপনার মতোন যারা সম্পর্ককে অস্বীকার করে, যারা বছরের পর বছর প্রেম করে বলতে পারে, ‘কই নাতো, এমন কোনো সম্পর্ক তো ছিল না আমাদের’ তাদেরকে উচিত জনসমক্ষে টেনে এনে এর সমুচিত জবাব দেয়া।

জনৈকা রাজিয়া হাসান আপনার স্ত্রী হতেও পারেন, আবার না-ও হতে পারেন, তাতে কিচ্ছু এসে যায় না। উনার শতভাগ অধিকার আছে, আপনাকে এই মূহুর্তে রাস্তায় টেনে নামানোর, আর তারপর আপনার স্বরূপ উন্মোচন করা। ওই উনার জায়গায় আমি হলে তাই করতাম, এতোটুকু ছাড় দিতাম না। অনেক অভিনয় করেছেন জীবনে, অন্তত এই অভিনয়ে আপনাকে সফল হতে দিতাম না আমি।

বৈরাগী সাহেব, আপনার জন্য কোনো উপযুক্ত গালি দিতেও রুচিতে বাধছে। রাজিয়া হাসানের একজন নিকট আত্মীয়া নাকি জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ ২২ বছর আপনারা একসাথে থেকেছেন, আর তারাও আপনাদের বিবাহিত বলেই জানেন। তাহলে কী দাঁড়ালো, বৈরাগী সাহেব? বলুন! এতো সহজ সব এককথায় বানচাল করে দেয়া? সব ক্ষমতা আপনাদের হাতেই?

শিল্পী জলি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ফখরুল হাসান বৈরাগী বাংলাদেশে লিভ টুগেদার করতে গিয়ে বাচ্চা জন্ম দিয়ে দিয়েছেন বলে দাপটের সাথে ঘোষণা দিয়েছেন। এখন তিনি আর বাচ্চার মায়ের সাথে কোন দেনদরবার এবং যোগাযোগ রাখতে রাজী নন। তিনি যদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতেন তাহলে হয়তো এই দিন তার দেখতে হতো না– মহিলাকে চেনেনই না বলে ঘোষণা দিতে পারতেন।

তার দিন শেষ, তাই হয়ত আল্লাহর নাম জপে বাকী জীবন কাটাতে চান।

তিনি বলেছেন, মহিলার সাথে থেকেছি কিন্তু কোন রেকর্ড নেই।

উত্তেজনা রোধ করতে না পেরে তিনি হয়ত ভাড়া করা লোক এনে তিন কবুলে শেষ করেছিলেন। এখন আর সেই কবুলের তোয়াক্কা করছেন না। কবুল না পড়লেও ক্ষতি নেই–বুঝে শুনে বিয়ে না করলে বনিবনা নাও হতে পারে।

এক কথায় বলা যেতে পারে, আধুনিক ধ্যানধারণায় তিনি বিশ্বাসী। নইলে, নাটক সিনেমা করে এতোদিন কী শিখেছেন?

দেশে এই জঙ্গিবাদের হানাহানির মাঝেও জনাবের দাপট আছে, বলতে হবে।

বাচ্চা যখন তার, তখন কবুল পড়লো বা না পড়লো অথবা বউকে অস্বীকার করে বসলো, তাতে কিছু এসে যায় না– বাচ্চার দায়িত্ব তাকে বহন করতে হবে।

বুড়োদের বিয়ে করা বা দ্বিতীয় পক্ষ হওয়ার এই এক ঝামেলা। ভামদের বেশীর ভাগই ফোঁপড়া গজানো ঝুনা নারকেল– চাহিদা না থাকায় যখন-তখন তারা উল্টে যায়, দ্বিতীয় পক্ষকে রাস্তায় নামিয়ে বিবস্ত্র করতে কুন্ঠিত হয় না।

তারা ক্ষণিকের খায়েশ পরখ করতে যেয়ে ক্ষণে ক্ষণে মেয়েদের জীবন নষ্ট করে।

আমি শিল্পী জলির সাথে পুরাই একমত। এসব বুড়া ভামদের দ্বিতীয় পক্ষ হওয়ার ঝামেলা অনেক। তারা যেকোনো মূহুর্তেই সব অস্বীকার করে বাসা থেকে চলে যেতে পারে, যোগ দিতে পারে পুরনো প্লাটুনে, যেখানে সে ফেলে এসেছে আরও কিছু বীর্য, বাকি জীবনটা আল্লাহর নাম জপে জপে, পারলে প্রতিবছর হজ-ওমরাহ করে কাটিয়ে দিতে পারে এই পুরুষগুলো। পুরাই তামাশা আর কী জীবনটা! ইচ্ছে হলো থাকলাম, ইচ্ছে হলো না থাকলাম না।

মেয়েগুলো যে কবে একটু শক্ত-সমর্থ হবে মানসিক-অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে, আর বয়কট করবে এই ক্লীবগুলোকে। আরও একটু শক্ত হয়ে সোজা অণ্ডকোষ বরাবর লাথি কষাতে পারবে, তাহলেই সোজা হয়ে যেতো সব।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.