আমরা সবাই যখন তসলিমা নাসরিন

সাদিয়া নাসরিন:  হ, আমরাই তসলিমা নাসরিন। হাজার বছর ধরে শেকড় গাইড়া বসা পুরুষতন্ত্রের মাজা ভাইঙ্গা চুরমার কইরা দিসে ওই একখান মাইয়া। যারা আমাগের কথায় কথায় মনের সুখে তসলিমা নাসরিন বইলা গাইল পারো তারা জাইনা রাখো, এই নামটা এখন সারা বিশ্বের অধিকারকামী মাইয়াদের “স্বীকৃতি” হইয়া গেছে। আর এইখানেই আইজ তসলিমার জয়। আইজ আমরা “তসলিমা নাসরিন” গালি শুইনা জোরে শ্বাস ফেইলা কইতে পারি “মায়ের বেটি একখান”!

Taslima 1
তসলিমা নাসরিন

আমি বুঝি বন্ধু, তসলিমারে নিয়া তোমার যন্ত্রণাটা ঠিক কোন জায়গায়। তসলিমার মতো এমন কইরা আর কে চক্ষে আঙ্গুল দিয়া দেখাইসে যে, স্বাধীন নারীরে পুরুষ কত ভয় পায়! কে চিনাইসে পুরুষের যত কৌশল নারীকে বন্দি করে রাখার! কখনো ধর্ম, কখনো অত্যাচার আর  কখনো-বা ভয় দেখানো এভাবে ঘরে-বাইরে নানাভাবে নারীর মগজ ধোলাই করা হয় তা তো তাঁর মত কইরা কেউ খুইলা কয়নাই!!  তোমরা খুব ভাল কইরা জান, এই রকম সাহস লইয়া কেউ পুরুষতন্ত্রের মুখোমুখি দাঁড়ায় নাই আগে। এই সাহসরে বড় ভয় তোমাগের। তাই কোন সাহসী মাইয়া দেখলেই তোমরা রে রে কইরা উঠো তসলিমা আইলো বইলা। আর আমরা বুইঝা নিই এইটা আমাগো সাহসের স্বীকৃতি।

তোমার টেনশন আমি বুঝি, বন্ধু। আমার জীবনের অধিকার আমার হাতে রাখার লড়াইটা যখন আমি করি, তখন তুমি বড়ো বেচাইন হইয়া পড়। তোমার ভীত, সন্ত্রস্ত পুরুষতন্ত্র, শুধুমাত্র নারীরে দমন করনের লাইগ্যা যেইভাবে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, বিজ্ঞান, ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ, কাব্য, মহাকাব্য লইয়া ঝাঁপাইয়া পড়সে, সেইখানে কোন নারী পুরুষতন্ত্রের ফাঁক গইলা বাইর হইয়া যাইবো, এইটা তো ভাবতে পারে নাই কোন পুরুষ। কিন্তু ঘটনা তাই ঘটসে। তোমার এতো বছরের লালিত পুরুষতন্ত্রের তকতে তৌস লণ্ডভণ্ড কইরা দিসে মাইয়াদের এই লড়াই, সমান অধিকারের লড়াই, আমাদের মুক্তির লড়াই।

জানি গো জানি, তসলিমা কইতে ক্যান তোমার পিলে চমকায়। কারণ, তসলিমা ফাঁস কইরা দিসে পুরুষতন্ত্রের গোপনীয়তা। নারী কেবল পুরুষতান্ত্রিক শেকলে বন্দী হইয়া যন্ত্রণায় কাঁদবো, প্রেমিকরে সমস্ত প্রেম উজাড় কইরা দিয়া প্রতারিত হইয়া বিলাপ কইরা কাঁদবো, এইটা দেখতে অভ্যস্ত তোমাদের চোখ হঠাৎ কইরা সহ্য করতে পারে নাই যে একখান মাইয়া মেরুদণ্ড সোজা কইরা উইঠা দাঁড়াইসে, খোলা বাজারে কইয়া দিতেসে “সিফিলিস” আক্রান্ত পুরুষতন্ত্রের কথা।

তসলিমা তোমাগো ধান্দা বুইঝা ফেলছিল। মায়ের জাত বইলা, মাতৃত্বের জন্য নারীকে মহান কইরা দেখাও তোমরা। অথচ পিতার পরিচয় ছাড়া সন্তানের কোন পরিচয় নেই, সে নাকি হয় ‘জারজ’। পুরুষতন্ত্রের এই ভণ্ডামিটা যখন তসলিমা ফাঁস কইরা দেয় তখন অস্তিত্ব সঙ্কটে পইড়া যাও তুমি, আর অস্থির হইয়া গালিগালাজ করতে থাকো।

তোমরা কথায় কথায় আমাগো নষ্ট মাইয়া ডাক। হ, আমরা নষ্ট মাইয়া, কারণ আমরা জীবন তোমাগো পকেটে রাখিনাই। আমরা বুইঝা ফেলসি, নষ্ট না হইলে এই সমাজের নাগপাশ থেকে কোনও নারীর মুক্তি নাই। তোমরা যখন নষ্ট বল আমরা তখন বুঝি আমরা সত্যিকার সুস্থ ও শুদ্ধ মানুষ।

নারীর একটু স্বাধীনতাও তোমাদের বড় ইনসিকিউর করে। তাই তুমি যখন সব হারানোর ভয়ে উদ্ভ্রান্ত হইয়া আমারে গাইলাতে থাকো, আমি তখন বুঝতে পারি আমি একদম ঠিক লাইনে আছি। তোমরা কথায় কথায় মাইয়াগো চরিত্র বিশ্লেষণ করো। যদি কোনও মাইয়া নিজের দুঃখ-দুর্দশা মোচন করতে চায়, যদি কোনও মাইয়া কোনও ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রের নোংরা নিয়মের বিপক্ষে রুইখা দাঁড়ায়, দমন- অবদমনের সকল পদ্ধতির প্রতিবাদ করে, যদি কোনও মাইয়া নিজের অধিকার সম্পর্কে সজাগ হয়, তবে তাকে নষ্ট বলে তোমাগো সমাজের ভদ্রলোকেরা। তোমরা কইয়া দিছ নারীর “শুদ্ধ” হওনের  প্রথম শর্ত হইলো “নত” হওয়া।

sadia-7
সাদিয়া নাসরিন

নারী তোমার কথা মতো চলবো, তোমার দেখভাল করবো, তোমার শরীরের ক্ষিদা মিটাইবো, তোমারে জীবনে একটু নুনের মতো ঝগড়া-বাগড়া দিব, তুমি দরকার মতো মাথায় তুলবা, দরকার মতো লাথি মারবা। নারী একটু কুঁই কুঁই করবো আর তুমি পৌরুষিক সুখে পা নাড়াবা। নারী যদি সাজে তুমি ঠিক কইরা দিবা সে কী পোষাকে সাজবো, নারী যদি লেখে তুমি ঠিক কইরা দিবা সে কী লিখবো, নারী যদি বাঁচতে চায়, তুমি ঠিক কইরা দিবা কেমনে বাঁচবো আর নারী যদি মরতে চায় তাহলেও তুমি ঠিক কইরা দিবা কেমনে মরবো…এর একটু এদিক-ওদিক হইলেই তারে তুমি নষ্ট কইবা, বেশ্যা কইবা। আবার রাইতের আঁধারে এই বেশ্যার কথা ভাইবা মাস্টারবেট করবা। হায়রে পুরুষ, তোমাদের জন্য আমার গভীর সমবেদনা আর দুই মিনিট নীরবতা!

তোমাদের পুরুষতন্ত্র অবিরাম ভয়-ভীতি উৎপাদন কইরা নারীকে দমন করতে থাকে। কিন্তু আমাদের ভয় দেখানো কঠিন, আমাদের মিথ্যা ছলনায় ভুলানো যায় না, সস্তার তেল-সাবান আর বাজার দরের খোরপোষে আমরা বাঁধা পড়ি না। তোমরা মগজে, বিদ্যায়, ব্যক্তিত্বে আমাদের সামনে সমান উচ্চতায় দাঁড়াতে পারো না বলেই আমাদের “তসলিমা” বইলা গালি দাও। কারণ তোমরা জানো, তসলিমা নাসরিন ভাইংগা দিসে পুরুষের নির্মাণ করা ‘নারী’ স্টিরিওটাইপ; নারীর জন্য তৈরি করে রাখা অচলায়তন। তসলিমা একা দাঁড়াইয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতেসে। এইটা মানতে পারো নাই বইলা তোমরা, মানে  প্রগতিশীল পুরুষেরাও তারে গালি দেয় মনের সুখে।

অন্যদিকে শাড়ি পড়া পুরুষতন্ত্র, মানে নারীরা ও তোমাগো লগে গলা মিলাইয়া তার কল্লা চাইয়া মরতেসে। অথচ প্রখর পরিহাসের শক্তি দিয়ে তসলিমা জাগাইতে চাইসে এই নারীকুলরে। তসলিমা কইসে, বাজারে এত সস্তায় আর কিছু মেলে না, যত সস্তায় মেয়ে মানুষ মেলে/ ওরা একটা আলতার শিশি পেলে আনন্দে তিনদিন না ঘুমিয়ে কাটায়/ গায়ে ঘষার দুটো সাবান আর চুলের সুগন্ধি তেল পেলে ওরা এমন বশ হয়/ যে ওদের গায়ের মাংস খুলে সপ্তাহে দুবার হাটে-বাজারে বিক্রি করা যায় (সস্তার জিনিস : পৃ. ৪৬)।

পুরুষতন্ত্রের ঝাণ্ডা উড়ানো শার্ট-শাড়ি পরা বন্ধুরা শোনো, যতোই তোমরা আমাগো তসলিমা কইয়া গালিগালাজ করো না ক্যান, মনে রাইখো তোমাদের ঘরে ঘরে লাখে লাখে মাইয়া আমাগোর মতো তসলিমা নাসরিন হইতে চায়। তারা বাঁচতে চায়। তোমাগোর ভয়ে মুখ ফোটে বলে না শুধু। মেয়েরা একটা জীবন চায়, নিজের জীবন। যে জীবনে তুমি ভয় পাও। সিংহাসন হারানোর ভয়ে ঘুম হারাম হয়ে যায় তোমার।

কিন্তু মনে রাইখো বন্ধু, যুগ যুগ ধইরা দাবাইয়া রাখা এই বৈষম্যপীড়িত মানুষ যখন সামনে আসতে শুরু করে তখন সে বড় ভয়ানক হয়। মাইয়াগো সেই রুদ্র সুন্দর মূর্তি সহ্য করতে পারবা না তোমরা, পারো নাই কখনো। তোমরা নিজেরাও জানো, তোমাদের ওই পুরুষতন্ত্রের জং ধরা নষ্ট যন্ত্রের ডর দেখাইয়া আর মেয়েদের দমাইতে পারবা না। আমরা জাইগা উঠসি, ভোর হইসে। আমরা পিঠ টান কইরা, মাথা উঁচু কইরা, ঘাড় তেড়চা কইরা সূর্যের আলো দেখবার পারসি।  আমরা অহন অনর্গল কথা কমু, কলকল কইরা হাসমু, চিৎকার কইরা গান গামু।

নষ্ট মাইয়া কইয়া আর তুমি পার পাইবা না বন্ধু! শুইনা রাখো, যতোই কিছু করো না ক্যান, দিনের শেষে আমরা বাঁচমুই। আমরা লড়াই কইরা বাঁচুম, আমরা কৌশল কইরা বাঁচুম। আমরা জিততে জিততে বাঁচুম, আমরা হারতে হারতেও বাঁচুম। আমরা হাসতে হাসতে বাঁচুম। বাঁচুম, এক্কেরে তুমুল কইরা বাঁচুম। আমাদের বাঁচন দেইখা তোমরা ছটফট করবা, চিক্কুর পারবা, ভাংচুর করবা, মারবা, গাইলাবা…কিন্তু দাবায়া রাখতে পারবা না।

শেয়ার করুন:
  • 143
  •  
  •  
  •  
  •  
    143
    Shares

আসলে তোমাদের মূল সমস্যাটা হল ‘তোমরা এ রকম একটা ভাব ধর যে’, তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহ এবং তার রাসুলের চাইতেও বেশি জ্ঞানী মনে কর !!! মূলত তোমরা তো সবই মূর্খের দল। একমাত্র ইসলাম’ই নারীদের কে পূর্ণ মর্যাদা দেয়। আর কোন ধর্মই তা দেয় না। বেহায়াপনা কে যদি কেউ স্বাধীনতা হিসেবে চিন্তা করে, তাহলে ত আর বলার কিছু থাকে না।

আসলে তোমাদের মূল সমস্যাটা হল ‘তোমরা এ রকম একটা ভাব ধর যে’, তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহ এবং তার রাসুলের চাইতেও বেশি জ্ঞানী মনে কর !!! মূলত তোমরা তো সবই মূর্খের দল। একমাত্র ইসলাম’ই নারীদের কে পূর্ণ মর্যাদা দেয়। আর কোন ধর্মই তা দেয় না। বেহায়াপনা কে যদি কেউ স্বাধীনতা হিসেবে চিন্তা করে, তাহলে ত আর কিছু বলার থাকে না।

অনেককেই তসলিমার লেখার মান নিয়ে কথা বলতে শুনি। আই জাস্ট ডোন্ট কেয়ার। আমার কাছে ওর ‘সাহস’ লেখনীর উর্ধ্বে একটা ‘বিশ্বাস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার মত অনেক মেয়েরই তাই, বলে আমার ধারণা। সাদিয়া নাসরিনের লেখাটিই তার প্রমাণ।

Equal rights movement started long before Tasleema Nasrin’s introduction to this field. She became famous because she spoke against Islam. So enemies of islam were encouraged to encourage Tasleema and made her famous.Therefore I do not see any thing special in her mission to blame Islam. In her 90% writings she mentioned only man in Islam oppress/torture women . She did not mention same thing for followers of other religion. Why? She knew she would be selling her hatred to the main stream mass.

First of all, Taslima does not write/speak against Islam but against the oppression and tyranny of all religions and so called traditions designed to keep half of humanity under physical, intellectual and spiritual domination. She is one of the rare humanists who is unafraid to follow her arguments to her logical conclusions nomatter where it goes. She does not hold back in order to protect the facade of greatness of any religion or philosophy or false science. She does not respect anything but truth and logic and that is why religions, specially fundamentalist feel so threatened and hate her so much and want her silenced.

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.