হিজাবি মানুষের পোস্টারিং

নায়না শাহ্‌রীন চৌধুরী: জীবন যান্ত্রিক। এই যান্ত্রিকতায় আমার ওভার ইমোশনাল মেয়েকে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাখতে রাখতে, ক্লান্তি সামলে আবার কর্তব্যে ঝাঁপিয়ে পড়ার এনার্জি রেস্টর করতে করতে ইচ্ছে করে না মন খারাপের খবর বা দেশের অন্য ইস্যুগুলো নিয়ে ভাবি। আমি বুদ্ধিজীবী বা টকশো স্টার না। আমার ভাবায় বা লেখায় কারও কিছু যায় আসে না। তবু লেখার পোকা যখন ভেতর থেকে কিলবিলিয়ে ওঠে তখন না লিখেও পারি না।

14194368_10210264605348376_1269002994_nক’দিন আগে অফিস আসার পথে একটি পোস্টার দেখলাম। হিজাবী এক মেয়ে জঙ্গিবাদ থেকে ফিরে আসতে “প্রিয় প্রজন্ম” কে আহবান করেছে। মিষ্টি হাসিতে রোমান্টিক আহবান। দেখতে ভালই লাগে। জঙ্গি হুজুরদের ভালো লাগার কথা। কিন্তু, সেই আপ্পী ইসলাম সম্মতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেননি। যতদূর জানি, “ক্যামেল হাম্প” হিজাব ও দন্তবিকশিত হাসি ইসলামে গ্রহণীয় নয়। সেক্ষেত্রে জিহাদি (!) জঙ্গিরা মাইন্ড করতে পারে। এবং যে উদ্দেশ্যে তার এই উদাত্ত আহবান তা হিতে বিপরীত হতে পারে।

আমাদের দেশে যে উদ্দেশ্যে পোস্টারিং হয় তা ঐ উদ্দেশ্যেই হয় না। শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর থেকে প্রাধান্য পায় নেতাদের পাবলিসিটি, শহর পরিষ্কারের মহতী উদ্দেশ্য ঢেকে যায় কারিনা কাপুরের পোস্টারে, ঈদের শুভেচ্ছা, হেন শুভেচ্ছা, তেন শুভেচ্ছায় ঢাকা শহর তলায় উদ্ভট সব চেহারা আর নামে। এগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য পাবলিসিটি। সেটা এখন আম-পাবলিকও বোঝে। কিন্তু এই পোস্টারে হিজাব পড়ার অর্থ কি?

এর অর্থ কি এই যে আমি ইসলাম সম্মতভাবে চলি, আমি ভদ্র, কিন্তু আমি জঙ্গি নই। নাকি শুধুই পোস্টারের জন্য এই ছবিটি দেওয়া। কারণ, যিনি এই পাবলিসিটি করছেন তার ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়, হিজাববিহীন ছবি।

আমার পরিচিত একজন রয়েছেন, যিনি রাস্তায় হিজাব করেন এবং তার কর্মক্ষেত্রে হিজাব খুলে ফেলেন। এর অর্থ কি? তার কর্মক্ষেত্রে অধিকাংশই পুরুষ। এবং আশ্চর্যজনকভাবে তিনি মেয়েদের পোশাক নিয়ে কমেন্ট করতে ছাড়েন না।

হিজাব বা বোরখা যেটাই বলেন, ঢেকে দেয় ততোটাই, যা আপনি প্রকাশ করতে চান না। পার্কের অন্ধকারের যৌনতা, পরীক্ষার হলে নকল, ইলেকশনে আপনার চারিত্রিক কলুষতা ঢাকতে দেহের সাথে সাথে এই পোশাকের জুড়ি নেই।

13770430_10154395653877188_6840755524551216401_n
নায়না শাহ্‌রীন চৌধুরী

কে জানবে? ধর্মীয় পোশাক বলে কথা। কে আঙুল তুলবে? কার ঘাড়ে ক’টা মাথা? চাপাতি গ্রুপকে কে না ভয় পায়। সবারই প্রাণের মায়া আছে। যাই হোক, যা বলছিলাম…যারা এমন পোস্টারিং করেন, তারা সবাই কি হিজাবধারী নন? থুক্কু… মুখোশধারী? আসল চাওয়া বোরখার আড়ালে, বাইরে ঝলমলে হিজাব হয়ে আসে রঙিন পোস্টার।

এই ডুয়েল স্ট্যান্ডার্ড বা সোজা কথায় ভণ্ডামির কারণ কি? আজ আমি জানতে চাই, হয়তো জাতিও জানতে চাইবে।           

লেখক ও সংগীতশিল্পী

                                                                                                    

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.