অটোচালকের অশ্লীলতা, আপনি কী করবেন

মাশরুফ হোসেন: অনেকেই ইনবক্সে আমাকে বিবমিষা জাগানোর মতো একটি ঘটনা জানিয়েছেন। ইদানিং একটি নতুন ধরনের হ্যারাসমেন্ট চালু হয়েছে- সিএনজি-চালিত রিকশার চালক তরুণী যাত্রী পেলে তার দিকে আয়না দিয়ে রাখে এবং তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে। এ জিনিসটি আইনতঃ দণ্ডনীয় অপরাধ তো বটেই, এর ফলে ভিকটিমকে যে সাইকোলজিক্যাল ট্রমার ভেতর দিয়ে যেতে হয় সেটিও ভয়াবহ।

Attackশুধু সিএনজি চালক নয়, এসব জঘন্য মানসিকতার লোকজন যেকোনো জায়গায় ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকতে পারে। আমি একটি জেনারেল গাইডলাইন দিচ্ছি:

‪#‎এক‬) সিএনজি-রিকশাতে ওঠার আগে চালককে দেখিয়ে সেটির নম্বরপ্লেটের এবং চালকের ছবি তুলুন, এবং তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে সে ছবিটি পরিচিত কাউকে পাঠান। যদি সিএনজি চালক রাজি না হ তাহলে সেই সিএনজিতে উঠবেন না।

‪#‎দুই‬) আপনি কোথায় সিএনজিতে উঠেছেন, কোন রাস্তা দিয়ে যাবেন , সিএনজিটি দেখতে কেমন, চালক দেখতে কেমন এ জিনিসগুলো ফোন করে চালককে শুনিয়ে শুনিয়ে কোন বন্ধুকে জানান।

‪#‎তিন‬) ব্যাগের ভেতরে ছোট রুটি বানানোর বেলন, এন্টিকাটার, ছুরি, সোয়েটার বোনার কাঁটা ইত্যাদি রাখুন, গ্রিলের ফাঁক দিয়েও এগুলো দিয়ে আঘাত করা যায়। আপনাকে দেখিয়ে অশালীন আচরণ করা মাত্র চিৎকার করে প্রতিবাদ করুন, গালাগালি করুন এবং তাতে যদি কাজ না হয় আত্মরক্ষার্থে তাকে আঘাত করুন। মনে রাখবেন, আক্রান্ত বোধ করলে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের অধিকারও আপনাকে আইন দিয়েছে।

‪#‎চার‬) পুলিশের ডিএমপি এ্যাপ, র‍্যাবের এ্যাপ ইত্যাদি এ্যাপগুলো নামিয়ে রাখুন। এসব এ্যাপের সাহায্যে নিকটস্থ থানায় ফোন করে সরাসরি সহায়তা চাইতে পারেন। যদি স্মার্ট ফোন না থাকে সেক্ষেত্রে থানার নম্বর নিজের মোবাইলে সেভ করে রাখুন। গুগলে সব থানার নম্বর পাওয়া যায়।

‪#‎পাঁচ‬) ভয় পাবেন না, মাথা ঠান্ডা রাখুন। আপনি যত ভয় পেয়ে চুপ করে থাকবেন, বদমায়েশগুলো তত সাহস পাবে।

‪#‎ছয়‬) সেলফ ডিফেন্স সংক্রান্ত টুকিটাকি টিপস শিখে রাখুন , বাসায় অনুশীলন করুন। এ নিয়ে আমার কিছু লেখা আছে বাংলায়, সেগুলোও দেখতে পারেন। গুগল করলেই পেয়ে যাবেন। ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও আছে সেগুলো দেখুন। সবচাইতে ভালো হয় প্রফেশনাল ট্রেনিং নিলে। সেলফ ডিফেন্স শিখতে খেদা হাতির দল যতই নিষেধ করুক, মেয়েদের এ ছাড়া গতি নেই। হায়েনার দল এই একটা ভাষাই বোঝে, ধোলাই এর ভাষা।

‪#‎সাত‬) সমাজের তোয়াক্কা করবেন না। যে সমাজ আপনাকে নিরাপত্তা দেয় না, হ্যারাস হবার পর আপনাকেই দোষারোপ করে- সেই সমাজের চোখ রাঙ্গানি আর প্রাতঃকালীন পথের কুকুরের ঘেউ ঘেউ ধ্বনির ভেতরে কোনো পার্থক্য নেই। কেউ সাথে না এলে নিজেই মামলা করুন থানায়, অপরাধীর ছবি দিয়ে। থানার ওসি সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানালে প্রয়োজনে এসপি’র সাথে দেখা করুন।

বাঘিনীর গর্জনে ছিন্ন হোক শ্বাপদের হৃৎপিণ্ড, জেগে উঠুক মেয়েরা।

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.