মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, লাগামটা ধরুন ছাত্রলীগের

শাশ্বতী বিপ্লব: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি কখনোই সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ করিনি। করার কোনো অভিলাষও ছিল না। কিন্তু জানবেন, ভালো মতো কথা শেখার আগেই আমি বঙ্গবন্ধুর নাম শিখেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে রক্তে লালন করি। এবং সে কারণেই অন্যায় আমার কাছে অন্যায়ই, তা সে যেই করুক।

PM 1যখন দেখি, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা (!!)  অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, ভিতরে ভীষণ রক্তক্ষরণ হয়। আমার মতো এমন আরো অসংখ্য মানুষ আছেন যাদের কোন রাজনৈতিক অভিলাষ নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন, তাঁর আদর্শের বিজয় চান। সেই দায় থেকেই আপনাকে লিখতে বসেছি আজ।

আঠারো বছর আগের কথা একটু মনে করবো আজ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানিক নামের এক ধর্ষকের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলো ছাত্রলীগ। আজ যেমন দাঁড়িয়েছে সন্দেহভাজন হত্যাকারী রবিনের পক্ষে। মানিক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলো, আর রবিন সাংগঠনিক সম্পাদক। মানিকের পক্ষে ছাত্রলীগ প্রতিবাদী কণ্ঠগুলোকে ভয় দেখিয়ে, মারধর করে চুপ করিয়ে দিতে চেয়েছিলো জাহাঙ্গীরনগরে, আজও একই কাজ করছে ছাত্রলীগ তেজগাঁও কলেজে। আশা করি, এসবই আপনি দেখেছেন নিশ্চয়ই।

মানিক আদর্শের জন্য রাজনীতি করতো না, মানিকেরা আদর্শের ধার ধারে না। এই ক্যাম্পাসেই সে ছাত্রদলেরও নেতা ছিলো। আপনাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালের অনেক মুখরোচক গল্প রয়েছে তার। কিন্তু তাতে ছাত্রলীগের দায় বিন্দুমাত্র কমে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। যেমন কমবে না রবিন ছাত্রলীগের কেউ নয় বললে। মানিককে রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়েছিলো তৎকালীন ছাত্রলীগ ও প্রশাসন। রবিনকেও দেয়ার চেষ্টা করছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে প্রতিবাদী হাজার কণ্ঠের ভীড়ে আমিও ছিলাম একটি সাধারণ কণ্ঠ হয়েই। দেখেছি ধর্ষণকারীর সমর্থনে ছাত্রলীগের বিভৎস নির্লজ্জতা আর উদ্ধত্যের আস্ফালন। আপনার কাছ পর্যন্ত সেই খবর নিয়ে পৌঁছাতে পারিনি তখন।

আমাকে এক নেত্রীস্থানীয় বড় বোন বলেছিলো, “তুই একটু প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করতে পারবি?” কারণ আমাদের মনে হয়েছিল আপনার কাছে সঠিক খবর পৌঁছাচ্ছে না। আমি মাথা নিচু করে শুধু বলেছিলাম, ‘দেখি, চেষ্টা করবো’।

বলতে পারিনি, প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, আমি এমনকি কেন্দ্রীয় কোনো নেতাকেও চিনি না। আমার অতদুর পৌঁছানোর ক্ষমতা নেই। বলতে পারিনি, প্রতিনিয়ত কী ভীষণ চোখ রাঙানো আর শাসানোর ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলাম আমি। বলতে পারিনি, রেজিস্ট্রার বিল্ডিংএ ডেকে নিয়ে কীভাবে আমাকে শাসানো হয়েছে, কীভাবে আমার বিরুদ্ধে রাস্টিকেটেড এ্যাকশন নেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।

এসব কোনকিছুই বলা হয়নি আমার। শুধু দাঁড়িয়ে ছিলাম ঋজু হয়ে, একাই। ছাত্রলীগ ও প্রসাশনের হুমকি আমাকে টলাতে পারেনি একবিন্দুও। তবুও সবার মাঝে থেকেও আমি একাই ছিলাম।

ছাত্রলীগের ভূমিকার কারণে সেসব কথা কাউকে বলার মতো মুখ আমার ছিলো না। চিৎকার করে কেঁদেছি কখনো, কখনো অক্ষম আক্রোশে ধর্ষকের পক্ষে দাঁড়ানো ছাত্রলীগের নেত্রী যারা স্পাইং করতে আসতো তাদের মিছিল থেকে বের করে দিয়েছি, এইটুকুই। এর জের টানতে হয়েছে আমাকে অনেকদিন।

কিন্তু সময় বদলেছে। আজ দেখা করে না হোক, অন্তত লিখে আমরা আপনার কাছে পৌঁছাতে পারি। আমাদের কষ্ট, শংকা আপনাকে জানাতে পারি। আপনার চোখে আমাদের এই আকুতি ধরা পড়বেই, সেই আশাতেই লিখছি।  অপরাধীর কোন দল হয় না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেটা আপনার চেয়ে ভালো আর কে জানে। আঠারো বছর আগে ছাত্রলীগের গায়ে যে কলঙ্ক লেপে দিয়েছিলো আদর্শহীন এইসব কুলাঙ্গাররা, সেই দাগ আগামী আঠারো বছরেও মুছবে না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আদর্শহীন এইসব ঘুনপোকারা আপনার অর্জনগুলোকে খেয়ে ফেলবে। আপনি আর ক্ষত তৈরি হতে দেবেন না, আপনার কাছে আমার আকুল আবেদন।

রবিন দোষী কি নির্দোষ সেটা আইন প্রমাণ করুক, ছাত্রলীগ কেন যেচে পড়ে তার দায় ঘাড়ে নেবে।

আপনাকে ভরসা করি। একমাত্র আপনাকেই ভরসা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাই আপনার কাছেই আবেদন রইলো। ছাত্রলীগকে নিবৃত করুন, লাগাম ধরুন।

শেয়ার করুন:
  • 82
  •  
  •  
  •  
  •  
    82
    Shares

এখনো অনেক ছাত্রলীগের নেতা কর্মী প্রতিনিয়ত হাজারো নারীকে ধর্ষণ করে যাচ্ছে। অধিকাংশ নারী প্রেমের ফাঁদে ধর্ষিত হচ্ছে। আমার এলাকার অনেক ছাত্রলীগের কর্মীদেরকে দেখেছি এরা নারীদেরকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে। অন্য বখাটে ছেলেরাও করে তবে এদের মধ্যে অধিকাংশ ছেলেই ছাত্রলীগ করে। এদের বুকের সাহস বেশি। বাজে মনব্য করলেও কেউ কিছু বলতে পারবে না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.