অমিতাভ-ঐশ্বরিয়া: শ্বশুরবাড়ির অভব্যতা আর মেয়ের ক্যারিয়ার

শারমিন শামস্: পত্রিকার বিনোদন বিভাগে একটা খবর পড়লাম। অমিতাভ বচ্চন নাকি ঐশ্বরিয়া রাই অভিনীত একটি সিনেমা থেকে কিছু দৃশ্য সরিয়ে ফেলার জন্য সিনেমাটির পরিচালক বা প্রয়োজককে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ হলো, ঐ দৃশ্যগুলোতে ঐশ্বরিয়া কিছু খোলামেলা হয়েছেন, যা অমিতাভের কাছে আপত্তিকর লেগেছে। ফলে বলিউডের প্রতাপশালী শ্বশুর অমিতাভ তার পূত্রবধূ ঐশ্বরিয়া অভিনীত ফিল্মের ব্যাপারে এ নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন।

Amitabh-Aishwaryaআমি জানি না, ঐশ্বরিয়া বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন! যতদূর জানি, এটা মেনে নেয়ার মত মেয়ে ঐশ্বরিয়া নন। অর্থাৎ তার ক্যারিয়ার, তার কাজের ব্যাপারে একজন বুড়ো ভাম, শুধুমাত্র শ্বশুর হবার সুবাদে নাক গলাবে, এটা একজন আত্মসম্মান বোধসম্পন্ন যেকোনো মেয়ের জন্য মেনে নেয়া কষ্টের।

এর আগেও পত্রিকায় পড়েছিলাম, জয়া বচ্চন ঐশ্বরিয়ার কাজের ব্যস্ততা এবং পোশাক বা এ ধরনের কিছু ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। যদি শতভাগ ফিল্মি গুজব না হয়ে থাকে, তবে একথাও শোনা গিয়েছিল যে, এসব নিয়ে অভিষেক- ঐশ্বরিয়া মনোমালিন্য ঘটেছিল।

ঐশ্বরিয়াকে দিয়ে লেখা শুরু করলাম, এটা একটা কেস স্টাডি। এরকম অমিতাভ মার্কা শ্বশুর ঘরে ঘরে আছে। আবার এই অমিতাভই দেখেন, যে কিনা নিজের যৌবনে সিলসিলা, কাভি কাভি টাইপ রোমান্টিক সিনেমা করতে গিয়ে রেখার সাথে পরকীয়াতে শুধু জড়ানই নাই, সেই রমরমা পরকীয়া এমন পর্যায়েই পৌঁছে দিয়েছিলেন যে, তা আর জানতে কারও বাকি ছিল না।

আর বেচারা নিষ্পেষিতা জয়া বচ্চন, স্বামীই জীবন, স্বামীই অমূল্য ধন এবং বাকি রমণীকূল তার সোনার চামচ স্বামীটিকে গিলে খেতে চায়, তাই তাকেই শক্ত হাতে সংসার টিকিয়ে রাখতে হবে, কারণ তিনি মহীয়সী, এ ধরনের বস্তাপচা ফিল্মি সেন্টিমেন্ট নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিলেন। এটা কাজেও লাগলো।

আনন্দ ফূর্তি শেষে অমিতাভ আজ দুধে ধোয়া তুলসির পাতা, রেখা নিঃসঙ্গ। আর জয়া এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মহীয়সী সতী-লক্ষ্মীর প্রতীক, বিয়ে আর বাচ্চা পয়দা করার পর যার ক্যারিয়ার সেখানেই থমকে গেছে, আর অমিতাভ প্রবল দাপটে আরো অন্তত: পনেরো বছর নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে গেছেন।

ABHISHEK_AMITABH_AISHWARYAতো সেই বাড়ির বৌ ঐশ্বরিয়া বাচ্চা জন্মানোর পরও ক্যারিয়ার ধরে রেখেছেন এবং একথা সকলেই মানবে যে, স্বামী অভিষেকের চেয়ে ঐশ্বরিয়ার জনপ্রিয়তা এবং খ্যাতি অনেক বেশি।

এই খ্যাতি ঐশ্বরিয়ার নিজের অর্জন, বাবা-মা-পরিবার সূত্রে সোনার চামচ মুখে নিয়ে ঐশ্বরিয়া জন্মাননি, কিন্তু স্বামী অভিষেক সেই কপাল জোরে আজ করে খাচ্ছেন।

এরপরও শ্বশুর সাহেব বৌমাকে নানা নিয়মকানুন ধরিয়ে দেবেন, কারণ বৌমাটিকে তিনি কিনে এনেছেন বলেই তিনি মনে করেন। এদিকে বৌমার বয়স চল্লিশ প্রায়। তিনি সাবেক বিশ্বসুন্দরী, বলিউডের হার্টথ্রব, সারা দুনিয়া চড়ে খাওয়া মানুষ। এখন সেই ঐশ্বরিয়া যদি একটি ফিল্মে কোনো খোলামেলা উত্তেজক দৃশ্যে অভিনয় করে থাকেন, নিশ্চয়ই তিনি সেটা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েই করেছেন। এখানে তার কাজের ওপরে শ্বশুর অমিতাভের হস্তক্ষেপ চূড়ান্ত অভব্যতা এবং ঐশ্বরিয়ার জন্য রীতিমতো অপমানজনক।

অমিতাভের মতো একজন অভিজ্ঞ, খ্যাতিমান লোকের পক্ষে এ ধরনের অভব্য কাজ তখনই করা সম্ভব, যখন তিনি পৌরুষ, পুরুষতন্ত্র আর নিজের অর্জিত ক্ষমতাকে একসাথে গুলিয়ে ঘুটে বানিয়ে তা সশব্দে প্রয়োগ করতে চান। এবং আরো দুঃখজনক হলো, উপমহাদেশের এই গোবরপচা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অমিতাভ অভিনন্দিত হবেন তার এই আচরণ ও কর্মকাণ্ডের জন্য। এ সমাজ ‘ঐশ্বরিয়ারে আটকাইছে’ বলে অমিতাভকে বাহবা-টাহবা দিয়ে, তারপর রাতের বেলা ইউটিউবে সার্চ দেবে ‘ঐশ্বরিয়া রাই লেটেস্ট হট সিন’।

যাই হোক, আমার অত্যন্ত কাছের পরিচিত এক মহিলা শাশুড়ি হওয়ার একমাসের মাথায় ক্যারিয়ার নিয়ে তুমুল ব্যস্ত তার সাংবাদিক বৌকে বললেন, তাড়াতাড়ি বাচ্চা নিয়ে নিও মা, সোহেলের (তার ছেলে, ছদ্মনাম) একটা ক্যারিয়ার আছে। ও কিছুদিন পর বিদেশ-টিদেশ যাবে, তার আগেই বাচ্চা নিয়ে নিও।

তো সেই বৌমা তখন ক্যারিয়ারের এমন জায়গায়, যখন বাচ্চা নেয়া মানে তার ধস নামা। বৌমাটি তখন তার এক মাসের আনকোরা শাশুড়িরে কিছু কন নাই। কিন্তু যা করার তাই করেছেন। তার সুবিধাজনক সময়ে, বিয়ের পাঁচ বছর পার করে তারপর বাচ্চা নিসেন। শাশুড়ির চুপচাপ দেখা ছাড়া করার কিছু ছিল না।

Moon alone
শারমিন শামস্

যাই হোক, ক্যারিয়ার জিনিসটা মেয়ের সাথে যায়, এটা মানতে এই সমাজ এখনও নারাজ। মেয়ে চাকরি করবে সে ঠিক আছে, কিন্তু সে কী চাকরি নেবে, কোথায় চাকরি নেবে, ওভারটাইম করবে কী করবে না, গ্রামে-গঞ্জে বা বিদেশে ট্যুরে বা ট্রেইনিংয়ে যাবে কি যাবে না, সে কোনো চ্যালেঞ্জিং পেশা নেবে কি নেবে না, সে নাইট ডিউটি করবে কি করবে না, সে তার কাজের প্রয়োজনে জনসংযোগ করবে কি করবে না, সে তার কলিগদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখবে কি রাখবে না, পদোন্নতি হলে সে বাড়তি কাজ করবে কি করবে না এই সবই ঠিক করে দেয় তার বাড়ির লোকেরা।

অবিবাহিত হলে বাবা-ভাই-বয়ফ্রেন্ড। বিবাহিত হলে তাবৎ শ্বশুরকূল। তো এসব না মেনে যে মেয়ে নিজের সিদ্ধান্তে ক্যারিয়ার গড়ে এবং পরিচালনা করে, তারা বেয়াদপ, বেত্তমিজ, উগ্র, উচ্চাকাংখী। তবে এসব আখ্যার কোনোটাই আমার কাছে না’বোধক মনে হয় না। প্রতিটা শব্দই সুন্দর এবং প্রয়োজনীয়। অমিতাভের মতো অভব্য শ্বশুরের মুখে ঝামা ঘষে নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থাকার জন্য ঐশ্বরিয়াদের বেয়াদপ, উগ্র ও উচ্চাকাংখী হতেই হয়। আর তা না হলে জয়া বচ্চন হয়ে মাথা নিচু করে আজীবন ঘুরতে হয় ছয় ফুটি বিখ্যাত স্বামীর পিছে পিছে।      

শেয়ার করুন:

Its our ineluctable duty to respect all Women, irrespective of her choice to be a homemaker or to aspire for a career, if she prioritizes her family or her own mental peace, whether she decides to follow the man in her life or to make a different choice, nobody is licensed to disrespect her.
Feminism to me doesn’t just refer to do whatever I wish, but to have the freedom to choose whatever makes sense to me, it refers to being more human and rational rather being insane.
My sincere feelings about this writing and some of the previous articles of this Author is that she is merely frustrated, may be due her own experience from life. But its dangerous if a society gets influenced of such Authors, because when Mothers will stop thinking about their children and family, the world will come to its final day. Because its only Mothers who can be selfless for their children at some point, and we cannot buit anything without sacrifice. Its a Mother, a Women who teaches a man what the meaning of love, sharing and caring is all about. If she changes this attribute, the essence of Womanhood for measely some worldly possessions, this can never be a blessing to the society.
Of course they have a lot more to teach the men in their lives, lot more to struggle which has been a continued process since the inception of the world. But the Author has no right to disrespect a wife, a mother or a woman who has chosen her family over anything else in the world. Its her choice and she is free to make one.

লেখাগুলো পড়লে অন্য রকম একটা শক্তি পাই। তবে বাস্তবে যখন দেখি এসব কাজ,কথা আমাকে চাকরীতে পিছয়ে দিচ্ছে, যোগ্যতাকে অপব্যাখ্যা করে ইপ্সিত পোস্টিং দিচ্ছেনা, তখন বড্ড অসহায় লাগে।

“যতদূর জানি, এটা মেনে নেয়ার মত মেয়ে ঐশ্বরিয়া নন। ” –এটা আপনার ভুল অনুমান। ঐশ্বরিয়া বর্তমান স্বামীকে বিয়ের আগে একবার নয়, দুইবার গাছ-কে বিয়ে করেছেন, কারন তার শ্বশুরের জ্যোতিষীর মতে তিনি কুলক্ষনা ছিলেন।

আমার ধারনা, সিনেমার সিন কাটা নিয়ে অমিতাভের নির্দেশকেও তিনি মেনে নিয়েছেন। ঐশ্বরিয়াকে আর যাই হোক ফেমিনিস্ট আইকন হিসাবে দেখানো ভুল হবে।
http://www.lehigh.edu/~amsp/2007/02/aishwarya-marries-trees-setback-for.html

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.