৪৫ বছর লাগলো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে

সুমন্দভাষিণী: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নারীর অবদান যে কতটা ভয়াবহভাবে অবহেলিত, তা আরেকবার প্রমাণ হলো সরকারের এই ঘোষণায়। আজ সরকারি এক বিবৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ বছর পর এসে দেশের প্রখ্যাত ভাস্কর বীরাঙ্গনা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পেয়ে ভাস্কর কিছুটা অভিমানের কথাই জানিয়েছিলেন সরকারকে। অত:পর মিলেছে তাঁর এই সম্মান।

Ferdousiযদিও ফেসবুকে অনেকের মন্তব্য ছিল এরকম, প্রিয়ভাষিণীকে এতোদিন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না দিলেও তাঁকে সেই হিসেবেই জানতো বাঙালী, আর সেভাবেই তাঁকে সম্মান জানিয়েছে সাধারণ জাতি। মনে হয় না, নতুন এই স্বীকৃতির কারণে প্রখ্যাত এই ভাস্করের জীবনের কোনো হেরফের হবে।

নারীর সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়াও পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েও একাত্তরে নারীরা দেশ স্বাধীনের ব্রত থেকে পিছপা হননি। কিন্তু দেশের ইতিহাস লেখার সময় সব সরকারের আমলেই নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

শুধু তিনিই নন, তাঁকে ছাড়াও আরও ১২৩ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। এ নিয়ে মোট ২১৩ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হলো।

বৃহস্পতিবার (১১ অগাস্ট) দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ এ তথ্য জানিয়েছেন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৩৫তম সভায় ১২৩ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৯ মে ২৩ জনকে, ১৪ মার্চ ২৬ জনকে এবং ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর ৪১ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয় সরকার। তিন দফার কোনোটিতেই নিজের নাম নাম থাকায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ভাস্কর ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী। অবশেষে বীরাঙ্গনাদের চতুর্থ দফার তালিকায় ফেরদৌসীর নাম উঠে আসে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.