নেতা করুন একজনকে, শ্রদ্ধা দেখান সবার প্রতি

কিশোয়ার লায়লা: চুরি করা খারাপ পেশা হলেও একজন চোর কখনো নিজের পেশার বদনাম করে না। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে একটি নির্বাচন ঘিরে নানা নোংরামি দেখে আজ আমি চোরের চেয়ে খারাপ আচরণ করছি। নিজের পেশার বদনাম করছি।

Kishowarঅন্য পেশাদারদের নিয়ে কিছু বলতে পারবো না। নিজে সাংবাদিকতা করেছি ১২ বছর। আর এর বেশিরভাগ সময়েই কাছ থেকে রাজনীতিবিদদের দেখার সুযোগ হয়েছে। তাই বলতে পারি, সাংবাদিক আর রাজনীতিবিদ (দেশিয়) এই ঘরানার বেশির ভাগ- আমি আবারও বলছি, বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে একটা মিল আছে। এরা খুবই স্বার্থপর। খুব সহজে নিজেদের রং বদলায়। আর নতুন রংয়ে নিজেকে রাঙ্গিয়ে এতোটুকু শরমবোধও রাখে না। একদিক দিয়ে খুবই ভাল। রং বদলানোটা অনেকটা লেখনির স্বাধীনতা ভোগের মতোই মনে করেন। রং বদলানোটাও এক ধরনের কলা।

নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিপক্ষগুলো কাদা ছুঁড়বে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সাংবাদিকদের এই নির্বাচন শেষ হবার পর এখন ফুটে উঠছে মানুষের নোংরা চেহারা। এখন আবর্জনা একটু বেশিই ছোঁড়াছুড়ি হচ্ছে দেখে লিখতে ইচ্ছা করলো।

এবছর সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচনের প্রধান দুই প্রার্থীই আমার অতি শ্রদ্ধাভাজন। ২০০২ সালে বিটিভিতে যখন কাজ শুরু করি তখন একটা প্রশিক্ষণে দেখা একজনের সাথে। আমার মধ্যে সাংবাদিকতা করার সামান্য গুণ আছে সেইদিনই ঊনি বুঝতে পেরেছিলেন এবং আমার প্রতি প্রশংসাসূচক বাক্য ব্যবহার করেছিলেন প্রশিক্ষণ শেষে দেয়া এক বক্তব্যে। এর প্রায় আট বছর পর ঊনার সাথে কাজ করার সুযোগ পাই।

আরেকজনের সাথেও কাজ করতে গিয়ে পরিচয় এবং পরে একই কর্মস্থল। দুই প্রিয় মানুষের সাথে একই কর্মস্থল- এটা আমার জন্য সোনায় সোহাগা। জীবনে কখনো একদিনের জন্যও দু’জনই বা যেকোনো একজনের সাথে কাজ করার সুযোগ তৈরি হলে আমি দ্বিতীয় চিন্তা করবো না। নেমে পড়বো।

আজ দেখি অনেকে যারা একসময় আমার মতো দুজনের সাথেই একই কর্মস্থলে ছিলেন, খুব বাজে ভাষায় বিজিত ব্যক্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। পড়ে মন খারাপ হয়নি বা অবাকও হইনি। কারণ ঐ যে, শুরুতে রং বদলানোর কথা বলেছিলাম! খুব হাসলাম।

তবে এটা ঠিক, ঐ ব্যক্তির প্রসঙ্গে করা কিছু কথা মিথ্যা নয়। পেট ভরে খাওয়ানো, পরিবারশুদ্ধ উপহার এসব। ওহে মনভোলা পথিক, তুমি কী ভুলে গেছো যে এটা ঐ মানুষটার জাত স্বভাব! ঈদ-পূজা পার্বণে পরিবার শুদ্ধ উপহার হাতে ধরিয়ে দেয়া কী উনার শুধুই নির্বাচনকালীন চরিত্র? গলার ওপর সমান খাওয়ানো কী ঐ লোকের গত কয়েক মাসের চরিত্র? তুমি বা তোমরা হাসিমুখে কী ঘরে তুলে নেওনি তাঁর দেয়া উপহার? সপ্তাহের ছয়দিন অফিসের কটা দুপুর নিজেদের রুমে পেট পূজা করেছিলে?

শুধু তুমি নও, সেই সময়ে বার্তা কক্ষের অনেকেই বড় কর্তার রুম থেকে খাওয়ার আমন্ত্রণের একটা ফোন কলের জন্য অপেক্ষা করতেন। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতে চললেও অনেকদিন পিয়নের হাতে খাবার আনার পয়সা দিত না। পাছে, আবার ওঘর থেকে খাওয়ার ডাক আসে!! ছিঃ। আজ তাদের পেশাদার সাংবাদিক হওয়ার অহংবোধ জেগেছে!

নিজের আত্মীয়ের খৎনা অনুষ্ঠানে চট্টগাম যেতে হবে। বাহ্ এই দায়ও যেনো সেই মানুষটার। চট্টগামের হোটেল বুকিং আরো নানা সুবিধাও লোকজনকে নিতে দেখেছি। আজ খুব ঘেন্না লাগছে তাদের কীর্তিকলাপ দেখে।

নির্বাচন খুব স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। দশজন লড়বে- একজন জিতবে। কিন্তু তার জন্য কেন এই নোংরামি? এজন্যই বলে হয়তো, সবচেয়ে বেশি উপকারভোগীরাই চোখ উল্টে নেয় সবার আগে। আমি সমর্থনের জন্য বলছি না।

আমি বলছি, দুটো মানুষকেই শ্রদ্ধা করুন। দু’জন সম্পূর্ণ দু’রকম। নেতা করুন একজনকে। কিন্তু শ্রদ্ধা দেখান সবার প্রতি। অন্তত সবাইকে জ্ঞান দিয়ে বেড়ানো আমরা সাংবাদিকরা তো এটা করতে পারি। প্লিজ। বন্ধ করুন নোংরামি।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই লেখার হেডলাইন ও থিমটি চমৎকার, চিরায়ত ও বস্তুনিষ্ঠ। তবে এর মন্তব্য বিষয়নিষ্ঠ। লেখাটায় আবেগের সঙ্গে আরেকটু শ্রম দিলে পাঠক আরেকটু চিন্তার খোরাক পেতেন বলে আমার মনে হয়। লায়লাকে ধন্যবাদ এই সার্বজনীন আইডিয়ার জন্য।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.