নারী তুমি কি তাই, যা পুরুষে চায়?

শান্তা মারিয়া: মেজাজাটা চরম গরম হয়ে গেল একটি বিজ্ঞাপন দেখে। বিভিন্ন পণ্য বিক্রেতা সংস্থা হরহামেশা তাদের পণ্য বিক্রির পাশাপাশি নারীর সৌন্দর্য বিক্রি করছে, সেটা দেখে আমরা অভ্যস্ত। সেসব দেখে আজকাল আর তেমন মেজাজ খারাপ হয় না। কারণ খারাপ হতে হতে মেজাজও এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু পণ্যবিক্রেতা যা করে সেই একই মনমানসিকতা যদি দেখায় অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের মতো সেবামূলক সংস্থা, তখন ক্লান্ত মেজাজও তিড়িং করে লাফিয়ে ওঠে।

Action Aid collageবিজ্ঞাপনটির শুরু হয় নারীর গুণকীর্তন দিয়ে। দেখানো হয় একজন নারী আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ সাজগোজ করছে। তারপর দেখা যায় নারী বাড়ির সবাইকে খাবার এগিয়ে দিচ্ছে। শিশুদেরকে নারী স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে হেলতে দুলতে। ঘোমটা মাথায় নারী গার্মেন্টস কারখানায় যাচ্ছে সেলাই কল চালাতে, হিজাব পরা এক নারী ডাক্তার এসে হাসপাতালের বেডে শোয়া পুরুষ রোগীর পাশে দাঁড়াচ্ছে, সাজুগুজু নারী পার্কে বসে আছে আর তার প্রেমিক পুরুষ এসে তাকে খেলনা দেবার ভঙ্গিতে লাল চুড়ি উপহার দিচ্ছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে এক পুরুষ কণ্ঠ বলে চলেছে, নারী তুমি মমতাময়ী, নারী তুমি পরিশ্রমী, নারী তুমি সেবাময়ী ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার সবশেষে বলা হচ্ছে নারীর এমনি সম্মান পাওয়া উচিত, কিন্তু আসলে কি তাই?

পুরো বিজ্ঞাপন দেখলে আপনি যদি সচেতন হয়ে থাকেন তো আপনারও ঘাড়ের রগ ত্যাড়া হয়ে যাবে এ কথা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। কারণ পুরোটাই করা হচ্ছে স্টেরিওটাইপ পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে।

পুরুষতন্ত্র এভাবেই নারীকে দেখতে চায়। নারী ঘরসংসারের সব কাজ সামলাবে, পরিবারের সকলকে খাবার পরিবেশন করবে, রান্না করবে, ঘর পরিষ্কার করবে, শিশুদের স্কুলে নিয়ে যাবে, নিজেও পরদা মেনে কারখানায় বা অফিসে পুরুষের অধীনে চাকরিবাকরি করে বাড়িতে টাকা আনবে, পুরুষের দেওয়া খেলনা মানে গয়নাগাটি পেয়ে আহ্লাদে আটখানা হবে। আর সব কাজ করতে গিয়ে তাকে ক্লান্ত বা দৈহিক রূপ হারালে চলবে না। বেশ লিপস্টিক দিয়ে, পাউডার-টাউডার দিয়ে, গয়নাগাটি, শাড়ি পরে পুরুষের মনোরঞ্জন করবে। বিজ্ঞাপনটিতে শুধু শয্যায় আনন্দ দেওয়ার বিষয়টি দেখানো হয়নি আর সব মোটামুটি ঠিকঠাক পুরুষ-চাহিদা মাফিক হয়েছে।

Action Aidনারী কখনও বিজ্ঞানী হবে না, সাংবাদিক হবে না, ক্রীড়াবিদ হবে না, লেখক হবে না, ছবি আঁকবে না, প্লেন চালাবে না, সৈনিক হবে না, আইনজীবী হবে না, অফিসের বস হবে না, সে বড়জোর হবে সেলস গার্ল আর গার্মেন্টস শ্রমিক। নারীর পরনে সবসময় থাকবে হিজাব বা মাথায় ঘোমটা। এমনকি স্কুলের যে ছাত্রীদের দেখানো হয়েছে সেখানেও শিশুর মাথায় হিজাব।

নারীর পেশাগত সাফল্য থেকে শুরু করে পরিবারে তার ভূমিকার কোনো উন্নয়ন দেখানো হয়নি। যদি দেখানো হতো নারী ল্যাপটপে কাজ করছে আর পুরুষ সহকারী বা বাড়িতে তার কোনো পুরুষসঙ্গী কফির মগ এগিয়ে দিচ্ছে, যদি দেখানো হতো একজন নারী গবেষণাগারে গবেষণা করছে এবং তখন সাবটাইটেলে বলা হতো ‘নারী তুমি সৃষ্টিশীল’, সংবাদকর্মীকে দেখিয়ে যদি বলা হতো ‘নারী তুমি পরিশ্রমী’, দুর্যোগপীড়িত মানুষের মধ্যে ত্রাণকর্মীর ভূমিকায় নারীকে দেখিয়ে যদি বলা হতো ‘তুমি মমতাময়ী’, তাহলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হতো?

কিন্তু না। নারী অলিম্পিকে মেডেল জয় করছে, পাহাড়চূড়ায় উঠছে, সংবাদ সংগ্রহ করছে, মিউজিক কম্পোজ করছে, চলচ্চিত্র পরিচালনা করছে, ছবি আাঁকছে, প্রকৌশলী হচ্ছে, সার্জন হচ্ছে, জাতিসংঘের মহাসচিব হচ্ছে, দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে এসব কোনো কিছুই দেখানো চলবে না। দেখালে যে তা পুরুষের মনোজগতের সুপ্রাচীন প্রাসাদটির কারুকার্যের সঙ্গে বেখাপ্পা হয়ে পড়বে।

Action Aid 2এই বিজ্ঞাপনে নারীর সেই ছবি দেখানো হয়েছে যা পুরুষতন্ত্র মনেপ্রাণে চায়। প্রশ্ন জাগে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশও তাহলে কি এটাই চায়? নারীর এই স্টেরিওটাইপ পুরুষতন্ত্র মনোনীত অবস্থানটাই দেখতে চায়?আমার মতে এই বিজ্ঞাপনটির চেয়ে রং ফরসাকারী ক্রিমের বিজ্ঞাপনও অনেক কম ন্যাকা ও কম আপত্তিজনক।

আশাকরি এই বিজ্ঞাপনের কোনো ব্যাখ্যা অথবা এর পরবর্তি কোনো বিজ্ঞাপনে নারীর এই ভূমিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হবে। তা যদি না হয় তাহলে আমি বলবো এই বিজ্ঞাপনটি সেই যুগের, সেই মানসিকতার ও সেই ধ্যানধারণার প্রতিনিধিত্ব করে যে বিশ্বে ভার্জিনিয়া উলফ, সিমোন বেভোয়ার, রোকেয়া, বেটি ফ্রিডানের জন্ম হয়নি।

বিজ্ঞাপনে প্রদর্শিত পুরুষতন্ত্রের এই ‘নারী-ধারণা’র মুখে আমি থুথু দেই।

আমি চিৎকার করে বলতে চাই, মমতাময়ী তকমা গায়ে এঁটে দিয়ে আমাকে দিয়ে আর বাড়ির সব কাজ করানো যাবে না। ‘সতী সাবিত্রী’ উপাধি পাওয়ার লোভে আমি আর বাড়ির ভিতর কিংবা বাইরে পর্দায় নিজেকে মুড়িয়ে বসে থাকবো না। আমার যেভাবে ইচ্ছা চলবো, যে পথে খুশি সে পথে চলবো। পুরুষের কাছ থেকে ‘সুন্দরী’ অভিধা পাওয়ার আশায় আমি সাজগোজ করে পুতুল হবো না। আমার যদি সাজতে ইচ্ছা হয় নিজের খুশিতেই সাজবো। রঙবাহারী চুড়ির লোভ দেখিয়ে আমার হাতে পায়ে আর বেড়ি পরানো চলবে না। কোনো পুরুষের কাছ থেকে আমি শাড়ি-গয়না উপহার চাই না, বরং ইচ্ছা হলে নিজেই কিনে নিতে পারি।

‘নারী তুমি মমতাময়ী’ ‘তুমি সেবাময়ী, তুমি বোকা তুমি সেবাদাসী ব্লা, ব্লা, ব্লা, এই ছেঁদো কথার বিজ্ঞাপন বন্ধ করে বরং নারীর অধিকার যারা দমন করতে চায় তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করে বিজ্ঞাপন চালালে এবং নারীর অধিকারের পক্ষে ও নারী নির্যাতনের বিপক্ষে কী কী আইন রয়েছে সেগুলো বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করলে সমাজের উপকার হলেও হতে পারে।

https://www.facebook.com/actionaidbangladesh/videos/1193058540736895/?pnref=story

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিট। সত্য বলতে আপনাকে মানসিক রোগী মনে হচ্ছে। কি প্রচণ্ড রকমের ঘৃণা, বিদ্বেষ, অরুচী আপনার ভেতর। আপনি কতখানি ম্যাড, উন্মাতাল আর অমানবিক হয়ে গেছেন আপনার লেখা পড়ে তা অনুধাবন করা যায়। লেখার প্রতিটি বাক্যে নারী অধিকারের বদলে পুরুষ বিদ্বেষ, পুরুষের প্রতি ঘৃণা, আপনার ব্যাক্তিগত উন্মাদনা প্রকাশ করলেন আপনি। এটা শিক্ষা না, কুশিক্ষার ফসল, বাস্তবিক চিন্তাধারার বাইরে এলিয়েনদের মত ভাবনা অনেকটাই। ভিডিওতে নারীকে ডাক্তার হিসেবেও দেখানো হয়েছে যা কিনা পেশাদারিত্বের ভেতর সরবোচ্চ পর্যায়ের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পেশা, সাধারণ কর্মী হিসেবেও দেখানো হয়েছে, মা হিসেবেও দেখানো হয়েছে, আবার দেখানো হয়েছে পুরুষের দায়িত্ববোধটাকেও। আর উপরে আরেক ভাই এঁর দেওয়া সম্পূর্ণ ভিডিওতে পুরুষের নোংরামির দিকটা প্রকাশ করা হয়েছে, সেই সাথে সাহসী নারীকেও দেখানো হয়েছে। এক চোখা, অন্ধ, প্রতিবন্ধী নীতিতে চলমান আপনাদের সত্যিই চোখে ছানি পড়েছে।

বেস্ট অফ লাক ফর ইউ। জীবনটা অনেক বড়, এই ঘৃণা বিদ্বেষ নিয়ে আর কতদিন? চারপাশে আরও অনেক মানুষ নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে। কই তারা তো খুব সুন্দরভাবেই সবকিছু প্রকাশ করছে, যৌক্তিক ব্যাপারগুলোকে যুক্তি দিয়েই তুলে ধরছে। আপনি তো আসলে নারীবাদী নন, আপনি পুরুষ বিদ্বেষী। আমার মনে হয় আপনার উচিৎ আপনার ঘর থেকে বাবা, ভাই বা স্বামীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে নিজের নারীত্ব প্রতিষ্ঠা করা। উপড়ে মাফরুহা হাসান এঁর লেখাটুক পরে আপনার লজ্জায় মরে যাওয়া উচিৎ। দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, লেখাপড়া করুন, আরও বেশি করে জানুন, শোনা কথায় কান না দিয়ে নিজে স্টাডি করুন। ধর্ম নিয়ে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন তা ১১০% মিথ্যা। নিশ্চয় কোণ এক নপুংসকের নিকট থেকে এসব আবোল তাবোল জিনিস শুনেছেন এবং তাই মনে লালন করেছেন। আপনাদের মত শিক্ষিতদের জন্য সমবেদনা। :\

সরি ফর মাই রুড ল্যাঙ্গুয়েজ। বাট ইউ ডীজার্ভ ইট।

No doubt, at the outset this video documentary shows very stereotype feature of women in the patriarchic society. To some extend I am disagree with Mafruha Hasan, who says she is more educated than her husband and feels no offence to serve coffee or bla bla bla. Dear Mafruha you and your planner sister in law are not the representation of all the women of the society. Your typical nature definitely hinders the progress of many women especially who are living in the rural areas and not educated like you, and do not have access to education and other facilities as you enjoys. In the eyes of man, woman should be like you who will regularly serve to her husband. How many women in Bangladesh are educated like you? Do you have any idea what number of women are regularly beaten by their husband just because of their failure to serve food on time? Do you regularly share your households work with your husband? I find nothing wrong for a woman to dress up and want to show look pretty, but this should be for woman herself only and not to entertain for man. No doubt women garments workers are the one of the drivers of our economy. Interestingly, we are technically avoiding the issues of upgrading the status of woman garments workers. Do we show minimum respect to woman garments worker? Do you want your daughter to be garments worker? Or do you want to marry off your son with a garments worker?
Please get your answer by diving women bearing stereotype feature deprived of all the facilities like access to education, lack of access to decision making etc, on the other hand women like you bearing stereotype feature with enjoying all the facilities.
Now give me an answer, what number of women is enjoying all the facilities like you? What number of women has ability to choose? I hope you got your answer as to why are we arguing against the presentation of stereotype feature of the woman in this documentary?

@Shanta Maria I just watched the whole video and read your article. I don’t feel angry at your article, I feel sad for you and your school of thought. You do not seem to understand the true essence of feminism.
I am a woman who is more educated than my husband, but I feel no offence in making coffee for him or serving it to him. That does not disempower me, it makes me feel gracious that I am able to express my love for him through these tiny things. I feel that same love reciprocated when he gets me a set of bangles or makes me breakfast. There is no shame in doing these tasks. My sister-in law who is a town planner in Canberra and wears a hijab, does so to show her devotion for God, not because her husband coerces her to wear it. In fact, she is the main decision maker of her family. I have a female pilot friend who also wears a hijab. To say that hijab weakens you and serving food to your loved ones is disgraceful is absurd. Are you trying to say that my mother who raised two healthy children to make something of themselves and contribute to society is not powerful because she is a homemaker?? And about looking pretty, is there anything wrong that we want to dress up and look pretty?? Some of my friends in those all-so-powerful-positions you described are women who love makeup.
Yet the worst part of your article is about showing garments workers instead of showing engineers, “scientists” (such a vague word), journalists, lawyers etc, whom you think to be in positions of power. To me, the most powerful position a woman in Bangladesh can be in is in the garments industry. These women drive our economy and prevent it from crumbling and are the living embodiment of power. In fact, they ARE our economy, our strength, our power! What you and I contribute is so meagre compared to their contribution. I am a biotechnologist (or “scientist” as you would say), and I salute these powerful garments workers for their immense contribution! You call these stereotypes but I feel that by saying so, you’re saying that women can only be respected if they are engineers, lawyers etc. Do other women like homemakers, garments workers, sales women etc hold no respect in your eyes?
Lastly, I wanted to say to you that if all you had to do to become a feminist was wear pants, not cover your head and get a job as an engineer, “scientist”, lawyer or journalist, then every man would be called a feminist! Feminism is not about getting ahead of men or hating them, nor is it about wearing a bikini or a hijab. There is nothing liberating about showing your skin or hiding your skin, about becoming a pilot or engineer or a homemaker or a sales woman, about wearing makeup or not. The liberty lies in the ability to choose.

No doubt, at the outset, this video documentary shows very stereotype feature of women in the patriarchic society. To some extend I am disagree with Mafruha Hasan, who says she is more educated than her husband and feels no offence to serve coffee or bla bla bla. Dear Mafruha you and your planner sister in law are not the representation of all the women of the society. Your typical nature definitely hinders the progress of many women especially who are living in the rural areas and not educated like you, and do not have access to education and other facilities as you enjoys. In the eyes of man, woman should be like you who will regularly serve to her husband. How many women in Bangladesh are educated like you? Do you have any idea what number of women are regularly beaten by their husband just because of their failure to serve food on time? Do you regularly share your households work with your husband? I find nothing wrong for a woman to dress up and want to show look pretty, but this should be for woman herself only and not to entertain for man. No doubt women garments workers are the one of the drivers of our economy. Interestingly, we are technically avoiding the issues of upgrading the status of woman garments workers. Do we show minimum respect to woman garments worker? Do you want your daughter to be garments worker? Or do you want to marry off your son with a garments worker?
Please get your answer by diving women bearing stereotype feature deprived of all the facilities like access to education, lack of access to decision making etc, on the other hand women like you bearing stereotype feature with enjoying all the facilities.
Now give me an answer, what number of women is enjoying all the facilities like you? What number of women has ability to choose? I hope you got your answer as to why are we arguing against the presentation of stereotype feature of the woman in this documentary?

ডকুড্রামার শুরুটার বিষয়ে আমি আপনার সাথে একমত যে এখানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর প্রচলিত ও আকাঙ্খিত রূপটাই উঠে এসেছে। আপনার লেখায় আপনার মতামতও পড়লাম। আপনার পরামর্শ গুলো ভালো। তবে ডকুড্রামাটা শেষ করা হয়েছে নারীর দিক থেকে প্রতিবাদ এবং সাহসী ও সচেতন আচরণ দিয়ে। যা কিনা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এর বিরুদ্ধেই যায়। এটা আরো স্ট্রংলি প্রেসেন্ট করা যেতো যাতে শুরুর উপস্থাপনাটার পাল্টা অবস্থান পরিষ্কার হয়। কিন্তু হিজাবের বিষয়টাতে আমি অন্য কিছু পেয়েছি। যেহেতু নারীর প্রতি সহিংসতায় সবসময় আঙুলটা নারীর পোশাকের দিকে যায়, তার পাল্টা জবাব হিসেবে হিজাব করা মেয়েরাও যে একই সমস্যার মধ্যে পড়ছে এটা আসার দরকার ছিলো। বিশেষ করে এই সময়ে, যখন আশপাশে হিজাবের ঘনঘটা পড়ে গেছে আর অনেকে এটাকে নারীর প্রতি সহিংসতা কমানোর সমাধান বলে সাজেস্ট করার মতো সেন্সলেস মন্তব্য করছেন গুরুত্বের সাথে। শিশুদের হিজাব দেখানো হয়েছে এমনটা আমি দেখিনি ডকুড্রামায়। স্কুলের মাঠের খেলায় পাঁচটা মেয়ের মধ্যে একজনের মাথায় স্কুলের স্কার্ফ ছিলো যেটা স্বাভাবিক, আমরা যারা হিজাব দেখে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি তাদের ওটাকে হিজাব মনে হতে পারে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আজকাল শিশুদেরো হিজাব পরানো হচ্ছে। এটা নাটক বা বিজ্ঞাপন হলে সব চরিত্র তৈরী করে নেওয়া যেতো। কিন্তু ডকুড্রামাতে তো তা সম্ভব হয়না। যেমন ধরেন এটা একটা প্রজেক্টের তৈরী বলে এখানকার টার্গেট অডিয়েন্সও নির্দিষ্ট। বস্তির অধিবাসী যারা তাদের অনেকেই গার্মেন্টস কর্মী বলে তাদের বিষয়টাই বেশী এসেছে। আর সাজ গোজের বিষয়টা প্রাসঙ্গিক ভাবেই পহেলা বৈশাখে ঘটা অনাচারের বিরুদ্ধে প্লট তৈরী করেছে।

তবু সীমাবদ্ধতা তো থাকেই, পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কথা হলে এগিয়ে যাবার পথটা স্পষ্ট দেখা যায়। কিন্তু আক্রমণ কাম্য নয়। আপনার দ্বিমতের মূল জায়গাটা না আসলেও পরামর্শের কিছু জায়গা বোধহয় নিচের লিংক দেওয়া এনিমেশনটাতে এসেছে। দেখতে পারেন।
https://www.facebook.com/SafeCitiesforWomenBangladesh/videos/1548777372026061/

ডকুড্রামার শুরুটার বিষয়ে আমি আপনার সাথে একমত যে এখানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর প্রচলিত ও আকাঙ্খিত রূপটাই উঠে এসেছে। আপনার পরামর্শ গুলো ভালো। তবে ডকুড্রামাটা শেষ করা হয়েছে নারীর দিক থেকে প্রতিবাদ এবং সাহসী ও সচেতন আচরণ দিয়ে। যা কিনা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এর বিরুদ্ধেই যায়। এটা আরো স্ট্রংলি প্রেসেন্ট করা যেতো যাতে শুরুর উপস্থাপনাটার পাল্টা অবস্থান পরিষ্কার হয়। কিন্তু হিজাবের বিষয়টাতে আমি অন্য কিছু পেয়েছি। যেহেতু নারীর প্রতি সহিংসতায় সবসময় আঙুলটা নারীর পোশাকের দিকে যায়, তার পাল্টা জবাব হিসেবে হিজাব করা মেয়েরাও যে একই সমস্যার মধ্যে পড়ছে এটা আসার দরকার ছিলো। বিশেষ করে এই সময়ে, যখন আশপাশে হিজাবের ঘনঘটা পড়ে গেছে আর অনেকে এটাকে নারীর প্রতি সহিংসতা কমানোর সমাধান বলে সাজেস্ট করার মতো সেন্সলেস মন্তব্য করছেন গুরুত্বের সাথে। শিশুদের হিজাব দেখানো হয়েছে এমনটা আমি দেখিনি ডকুড্রামায়। স্কুলের মাঠের খেলায় পাঁচটা মেয়ের মধ্যে একজনের মাথায় স্কুলের স্কার্ফ ছিলো যেটা স্বাভাবিক, আমরা যারা হিজাব দেখে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি তাদের ওটাকে হিজাব মনে হতে পারে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আজকাল শিশুদেরো হিজাব পরানো হচ্ছে। এটা নাটক বা বিজ্ঞাপন হলে সব চরিত্র তৈরী করে নেওয়া যেতো। কিন্তু ডকুড্রামাতে তো তা সম্ভব হয়না। যেমন ধরেন এটা একটা প্রজেক্টের তৈরী বলে এখানকার টার্গেট অডিয়েন্সও নির্দিষ্ট। বস্তির অধিবাসী যারা তাদের অনেকেই গার্মেন্টস কর্মী বলে তাদের বিষয়টাই বেশী এসেছে। আর সাজ গোজের বিষয়টা প্রাসঙ্গিক ভাবেই পহেলা বৈশাখে ঘটা অনাচারের বিরুদ্ধে প্লট তৈরী করেছে।

তবু সীমাবদ্ধতা তো থাকেই, পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে কথা হলে এগিয়ে যাবার পথটা স্পষ্ট দেখা যায়। কিন্তু আক্রমণ কাম্য নয়। আপনার দ্বিমতের মূল জায়গাটা না আসলেও পরামর্শের কিছু জায়গা বোধহয় নিচের লিংক দেওয়া এনিমেশনটাতে এসেছে। দেখতে পারেন।
https://www.facebook.com/SafeCitiesforWomenBangladesh/videos/1548777372026061/

Sent from Yahoo Mail on Android

এটা পুরো ভিডিও না দেখেই লেখা। যেই নিশ্চয়তা দিয়ে কথাগুলো বললেন, তা দেখে ভয় লেগে গেলো। তথ্য বিকৃতি আর মতাদর্শের ঘূর্ণীঝড়ে এতো নিশ্চিত করেও কিছু বলা সম্ভব?! যাইহোক, ভিডিওতে যা দেখলাম, তা আমাদের চারপাশেই ঘটছে। নারী বাড়িতে কাজ করছে, বাড়ির বাইরেও। শুধু শাড়ী পড়া অথবা সাজগোজ বাদ দিলে যদি ফেমিনিস্ট হওয়া যেত, তাহলে সব পুরুষকেই ফেমিনিস্ট বলতে হয়। আসুন, দ্বন্দ্ব তৈরির বেসাতি বাদ দেই, অনেকতো হলো। পুরো ভিডিও এখানে:

https://www.youtube.com/watch?v=hPNqghiCsUQ

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.