এবার খালেদা বা মওদুদ কী বলবেন?

khaleda-moududউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (০৩ জুলাই): ওয়াশিংটন টাইমস জানিয়েছে, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াই দেশের জিএসপি সুবিধা বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে চিঠিটি লিখেছিলেন এ বছরেরই শুরুর দিকে।

বিডিনিউজ২৪ডটকম এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন টাইমসের পক্ষ থেকে রিপোর্টের সত্যতা জানানো হয়েছে। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ডেভিড এস জ্যাকসন বলেন, “ওই নিবন্ধটি ওয়াশিংটন টাইমসের কাছে আসে মার্ক পার্সির মাধ্যমে, লন্ডনভিত্তিক এই মধ্যস্থতাকারী খালেদা জিয়ার পক্ষে কাজ করেন। নিবন্ধটি প্রকাশের আগে এবং পরেও তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রক্ষা করেছি, আমরা এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নিঃসন্দেহ।”

জানুয়ারির ৩০ তারিখর এই চিঠিটি লেখা-না লেখা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। একদিকে খালেদা জিয়া দাবি করছেন, চিঠিটি তিনি লিখেননি, এ নিয়ে সংসদেও বলেছেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি-প্রমাণ উপস্থাপন করে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়াই লিখেছেন এ চিঠি। আর এই চিঠির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার (জিএসপি) স্থগিতের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ নিয়ে সারাদেশে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, সংসদও উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
অনেকের মতে ওয়াশিংটন টাইমসে প্রকাশিত খালেদা জিয়ার একটি নিবন্ধ ওবামার এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে প্রভাবক হিসাবে কাজ করেছে।

ওয়াশিংটন টাইমসের ওই নিবন্ধে খালেদা জিয়া লিখেছিলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলতে পারেন শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় যারা কাজ করছেন বা যারা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধী, তাদের ওপর দমনপীড়ন চলায় জিএসপি-সুবিধা প্রত্যাহার করা হবে।’

কিন্তু এমন বক্তব্য দেয়াকে খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সংসদে বক্তৃতায় বলেন, ‘আমার পক্ষে এ ধরনের কোন চিঠি দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।’ এ সময় মওদুদকে পাশ থেকে খালেদা জিয়াকে বিভিন্ন কথা বলে দিতেও দেখা যায়। যদিও মওদুদই ৩০ জানুয়ারী খালেদা জিয়ার রিপোর্টটি প্রকাশিত হওয়ার পরে সমালোচক মহলকে ‘নিচু মানসিকতার ও অসহিষ্ণু’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। সেসময় মওদুদ আরো বলেছিলেন, ‘আজকালকার তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে এখানে বা ওখানে লেখার মধ্যে তফাতটা কী? দেশের বাইরে বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রতিবেদনটি “ওয়াশিংটন টাইমস”-এ দেওয়া হয়েছে।’ এখন তিনি বা তার দল কেন এটিকে অস্বীকার করছে সেটার জবাব চাইলে মওদুদ সংবাদিকদের বলেন আমি এমন কথা কখনোই বলিনি। যদিও বিডিনিউজ২৪ ডট কমের দাবি, ১ ফেব্রুয়ারি নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মওদুদ বলেছিলেন, “সরকার আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এসব বিষয়ে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য খালেদা জিয়া ওয়াশিংটন টাইমসে নিবন্ধ লিখেছেন। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করার জন্য এই নিবন্ধ লেখা হয়েছে।”

মওদুদের ১ ফেব্রুয়ারির বক্তব্যের বরাত দিয়ে অনলাইন পোর্টালটি জানায়, “সরকারের আঁতে ঘা লেগেছে বলেই বিরোধীদলীয় নেতার প্রকাশিত নিবন্ধ নিয়ে গতকাল (৩১ জানুয়ারি) সংসদে কুরুচিপূর্ণ ভাষার সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের সমালোচনাই প্রমাণ করে বিরোধী দলীয় নেতা নিবন্ধে সত্য কথা বলেছেন।”

তবে এখন বিরোধীদলীয় নেতা সহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারা কেন নিবন্ধটির ব্যাপারে অস্বীকার করছেন তা অনেকের কাছেই বোধগম্য নয়।

এদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ খালেদা জিয়াকে এই নিবন্ধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বান করেন। গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষথেকে ইমরান এইচ সরকারও এমন নিবন্ধের জন্য তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলে বিবৃতি দিয়েছেন।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটও খালেদা জিয়ার এমন নিবন্ধ নিয়ে বেশ উত্তপ্ত। অধিকাংশই এ ঘটনাকে দেশদ্রোহের মতো অপরাধের শামিল উল্লেখ করে তাদের স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন।

খালেদা জিয়ার নিবন্ধটি পাওয়া যাবে এখানে http://www.washingtontimes.com/news/2013/jan/30/the-thankless-role-in-saving-democracy-in-banglade/

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.