মগজের দখল নিন, যুদ্ধটা সেখানেই

শাশ্বতী বিপ্লব: ভাববেন না কেবল ওই রেস্টুরেন্ট থাকা মানুষগুলোই জিম্মি জঙ্গিদের হাতে। জিম্মি আমি, আপনি। জিম্মি গোটা দেশ। জিম্মি বাংলার অসাম্প্রদায়িক চেতনা। জিম্মি ধর্ম। জিম্মি দেশপ্রেম।

Gulshan 1শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে বা রাজনীতির মারপ্যাঁচ দিয়ে এর থেকে পরিত্রাণ মিলবে না। যতদিন পর্যন্ত না আমি-আপনি এর দায় গ্রহণ করবো। যতদিন পর্যন্ত না প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হয়ে এর মোকাবিলা করবে।

আমরা কি তবে যুদ্ধ করবো? অস্ত্র হাতে নেমে যাবো জঙ্গি নিধনে? না, আমরা তা করবো না। তবে যুদ্ধটা করতে হবে সবাইকেই – বুদ্ধির যুদ্ধ, মুক্তচিন্তার যুদ্ধ, আদর্শের যুদ্ধ। যুদ্ধটা মস্তিষ্কের, অস্ত্রের নয়। যুদ্ধটা আমার এবং আমার সন্তানের মগজ দখলের।

অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, সুস্থ মস্তিষ্ক এবং এর থেকে প্রসূত সুস্থ চিন্তাধারাই বাংলাদেশের একমাত্র জিয়নকাঠি। এটা খুব ভালো বুঝেছিল পাকিস্তানিরা একাত্তরে। তাই তো তালিকা করে বেছে বেছে হত্যা করেছিলো আমাদের যত সূর্য সন্তানদের, বুদ্ধিজীবীদের। হত্যা করেছিলো বঙ্গবন্ধুকে, জাতীয় চার নেতাকে। যার ফল ভোগ করছি আমরা এখনো।

এটা খুব ভালো করে জানে এখনকার জঙ্গিগোষ্ঠীও। তাই তারা বেছে নিয়েছে আমাদের কিশোরদের, তরুণদের। পাবলিক থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে, কোচিং সেন্টারে জাল পেতে রেখেছে জঙ্গিবাদের। নানা কৌশলে আমাদের সন্তানদের মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে ভুল আদর্শ, ভুল মতবাদ। আর এর সুযোগ করে দিয়েছি, দিচ্ছি আমরাই।

আমরা নানা দলে, নানা মতে বিভক্ত। আমাদের দেশপ্রেম সেই দলমতের অনুগামী। কেউ সরকারকে শায়েস্তা করার জন্য, কেউ বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলার জন্য কোনো না কোনোভাবে রসদ জুগিয়ে চলেছি এই জঙ্গিবাদের। আমরা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশটাকে ভালোবাসতে শিখিনি। যতদিন পর্যন্ত নিজের গায়ে আগুনের ছ্যাঁকা না লাগে, ততদিন আমদের হুঁশ ফেরে না।

কিন্তু আর কতো? এখনো কি আমাদের হুঁশ ফেরার সময় হয়নি? জঙ্গিবাদের দৈত্য মৃত্যুদূত হয়ে কড়া নাড়ছে আমার, আপনার দরজায়। শুনতে পাচ্ছেন?

Shaswati 5দয়া করে বন্ধ করুন দলাদলি, কাদা ছোড়াছুড়ির এই খেলা। মানুষের কাতারে এসে দাঁড়ান। রুখে দিন জঙ্গিবাদের ভুত, যার যার জায়গা থেকে।

খোঁজ করুন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সন্তানকে বড় করে তুলছেন, সে কোথায় যায়, কী করে, কাদের সাথে মেশে। নাকি সন্তানকে আর্থিক যোগান দিয়েই আপনার দায়িত্ব শেষ? ভাবছেন, আপনার সন্তান নিরাপদে আছে? নেই, কেউ নিরাপদে নেই।

নিজেদের মস্তিষ্কের আবর্জনা পরিস্কার করুন সবার আগে। সাথে সাথে সন্তানদের মগজের দখল নিন। আসুন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশটাকে বাঁচাই। ধর্ম পালন করি ধর্মের মতো, রাজনীতি মিশিয়ে নয়। আসুন, আমাদের সন্তানদের জন্য একটা সুস্থ দেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করি।

আমরাই পারি, দেশি-বিদেশি সব চক্রান্ত রুখে দিতে। একাত্তরে যেমন পেরেছিলেন আমাদের পূর্বসূরীরা। তেমনি আমাদেরও পারতে হবে। আর কত পস্তাবো আমরা?

শাহাবাগ আন্দোলনের সময় লেখা দুটি লাইন আবার বলতে চাই –

সোনায় মোড়ানো বাংলা হলে লাভ হবে তোমারও;
দেশের না হোক, নিজের হয়েই একটুখানি লড়ো।

শেয়ার করুন:

লেখাটিতে আবেদন আছে, মানুষকে সম্পৃক্ত করার শক্তি আছে, আছে ভয় , আশা আছে , আছে বেদনাও | তবে কি লেখাটা বড্ড এক পেশে ! অনেক শব্দ আছে, অনেক বাক্য আছে যেগুলোর নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা খুব দরকার | আমাকে কি শুধু আমার বোধ-বুদ্ধি – চেতনা- আমার আদর্শ- আমার চেতনা কেই একমাত্র যোগ্য, গ্রহণীয়, মান্য বললেই হবে | অন্যের মাঝে যে সুন্দর থাকতে পারে সেটা কি ধর্তব্য নয়? আসুন আমরা অন্যের মাঝের যৌক্তিক কথা শুনি কুসংস্কার (prejudice) মুক্ত মন নিয়ে, প্রস্তুত থাকি অন্যের মত /আদর্শ অধিকতর যুক্তি- যুক্ত হলে নিজের মতাদর্শ ত্যাগ করতে। lets agree to disagree !!

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.