‘দেনমোহর’ যদি হয় কনের ইজ্জতের মূল্য…..

বিথী হক: ধর্মীয়, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় আইন নিয়ে কিছু বলছি না। সম-অধিকার নিয়ে বলতে গেলে শুধু এক নাগাড়ে বলে গেলেই হয় না। নিজের উপর যে দায়িত্ববোধটা আপনা-আপনি বর্তায় সেটা যত্ন করে নিজের জীবনে প্রয়োগ না করলে নারীদের ইচ্ছাকৃত নেতিবাচক সমালোচনার মুখে ফেলে দেয়া হয়।

Bithy 3
বিথী হক

“ডিভোর্স” বিষয়ক পোস্টটা পড়ার পর অনেকেই বলেছেন, মেয়েদের কাছে বিয়ে মানে মূলধন ছাড়া ব্যবসা, কাবিন-বাণিজ্য, উপার্জনের উৎস এবং আরো অনেক কিছু। এবং আমি সেই বাণিজ্যের আগুনে ঘি ঢেলে নারীদের আরো কয়েকধাপ এগিয়ে নিচ্ছি।

সুতরাং বাণিজ্যিক দিকগুলো আলোচনা করি-

সবাই জানেন তো কাবিন জিনিসটা আসলে কি এবং কেন?

–“কাবিন মুসলিম বিয়ের একটি অন্যতম অপরিহার্য বিষয়, যা ছাড়া বিয়ে হয় না! কাবিন হলো বর এর পক্ষ থেকে কনেকে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ একটা মূল্য, যা তার ইজ্জতের মূল্য হিসাবে পরিগনিত”।

আচ্ছা, বর কেন কনে’কে টাকা দেবেন? ওহ স্যরি, বলাই তো আছে ইজ্জতের মূল্য। তো ইজ্জত কি পুরুষের নেই? কনেরও তো পুরুষের ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করে পরিশোধ করা উচিত। কিন্তু কনের তো কখনো পুরুষের ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে না। মানে নারীরা টাকায় ক্রয়যোগ্য, কিন্তু পুরুষরা নন, তাই তো? এখানে এসেই গালির পরিমাণ বেড়ে যাবে। কারণ কোনো নারী-পুরুষ এখনো পর্যন্ত কাবিন ছাড়া বিয়ের কথা চিন্তাই করতে পারেন না।

আসেন জেনে নিই, কাবিন নারীর কোন কোন জিনিসের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। বেশ কিছু অনুমাপকের সাথে কনের মুখশ্রী বিচার করে, কনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং গুণ বিচার করে কাবিনের মূল্যমান নির্ধারিত হয়।

Feminism 4এখন বলেন, কেউ আপনার সুরত দেখে, বংশ দেখে, শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে আপনার দাম নির্ধারণ করছে বিষয়টা আপনার কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য? আদৌ কি আপনাকে টাকা দিয়ে কেনা যায়? আপনি বিক্রি হবার জন্য সুন্দর, শিক্ষিত?

আপনি যে কারণেই যেমন হোন না কেন, আপনাকে টাকা দিয়ে বিচার করা হচ্ছে আপনার প্রাপ্য কতটা! এটা ভেবে আপনি গর্বিত হন? গর্বিত হন আপনার বিয়ের কাবিন অনেকের চেয়ে বেশি বলে? হওয়াটাই স্বাভাবিক।

সত্যি বলতে আপনি যতই সুন্দর, শিক্ষিত, আধুনিক হন না কেন অতটা শক্ত এখনো হননি যে নিজেকে কারো কাছে বিক্রি হতে দেবেন না। তা নাহলে এখন পর্যন্ত মোহরানার টাকা নিয়ে হাউ-কাউ করতে দেখা যায় কেন আপনাকে? ডিভোর্স হলে পাওনা টাকা বুঝে নিতে আদালতে ছুটতে হয় কেন?

সন্তানের ভরণপোষনের জন্য যদি আলাদা হবার পরও সন্তানের বাবার থেকে টাকা নিতে চান তো আদালত সন্তানের সাবালক হবার পর বাবার কাছে থাকতে নির্দেশ দিলে আমি কোন দোষ দেখি না। যদি নিজের মত বাঁচতে চাওয়ার জন্য কাউকে ছাড়তে চান তো ছেড়েই বাঁচেন, সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে চাইলে রাখেন। ঘরবাড়ি, সংসার, সম্পর্ক, মানুষ সব ছাড়বেন, কিন্তু তার টাকা ছাড়তে পারবেন না। তাহলে কী প্রমাণিত হয়? আপনি কি তার কাছে ইজ্জত-সর্বস্ব প্রাণী নন?

ইজ্জতকে শিকায় তুলে ইজ্জতের উপর ধার্য্যকৃত টাকা নিয়ে আর যাই করেন, নিশ্চয়ই আপনি নিজেকে পুরুষের চোখে সম্মানিত বলে দাবি করতে পারেন না। নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী দাবি করতে পারেন না।

সবদিক থেকে নিজেকে পুরুষের সমকক্ষ ভাববেন, তার সমান পড়াশোনা করবেন, তার মতো বাইরে কাজ করবেন, তার সঙ্গে রান্না করবেন, শোবেন আর টাকা দেয়ার সময় পুরুষই আপনাকে টাকা দেবে; এটা কোন ধরনের যুক্তি!

সমান মানে সমান; সুবিধাবাদীর সমার্থক শব্দ সমান না এটা মাথায় রাখবেন। সম অধিকার মানে আপনি আর সে সবকিছুতেই সমান, খালি আপনার জরায়ু আর স্তন দিয়ে নিজেকে পণ্য বানিয়ে বিয়ের বাজারে নিজেকে একজনের কাছে বিক্রি করার সময় সম অধিকারের কথা ভুলে গেলে কী করে চলবে? কিংবা আপনি ভুললেও তার তো মনে থাকবে। যতদিন মনে থাকবে ততদিন আপনি ইজ্জত নিয়ে ব্যবসা করবেন।

একজন থেকে বহুজন, বিয়ে করবেন, কাবিন ধরবেন, মূলধন ছাড়া ব্যবসা করবেন এবং সে এটা বললেও দোষ নেই! তার বলার ভাষা তো আপনিই তাকে দিচ্ছেন। কাউকে বলার সুযোগ দেয়া বন্ধ করেন, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচেন। আপনি নিজেই নিজেকে সম্মান করতে না পারলে, দুনিয়ার মানুষ বাড়ি বয়ে আপনার সম্মান পৌঁছে দিতে আসবেনা। কাজটা খুব কঠিন তাই না?

শেয়ার করুন:

লেখা যা আমার কাছে যা মনে হলো তা সবই লেখকের আবোল-তাবোল কথা। বরং তিনি পুরুষদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছে এবং নারীদেরকে আরো অসহায়ত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। দেন মোহর দিতে হয় স্ত্রীর আর্থিক অবস্থান সৃষ্টি করার জন্য। স্বামীর কাছে নিজেকে ছোট করার জন্য। আর টাকার উপর স্বামীর কোনো হক ও দাবি নেই। এই অর্থ যে পরিমাণে হোক না কেনো। এই টাকা সে চাইলে ব্যবসা করতে পারবে স্বামী বাধা দিতে পারবে না। এবং মুনাফার অংশও স্বামী পাবে না। ইসলামের দেন মোহর যদি নারীর ইজ্জতের মূল্য হয় তাহলে হিন্দু মেয়েরা যে লক্ষ লক্ষ টাকার যৌতুক দেয় এবং এটা না দিলে বিয়েই হয় না সেটা কি পুরুষের ইজ্জতের মূল্য?

আমার মনে হয়, দেনমোহর জিনিসটা কি? আপনি সেটাই জানেন না…মনে চাইলো, একটা কিছু লিখে দিলেন… দেনমোহরের মাধ্যমে নারীদেরকে সম্মানিত করেছে ইসলাম… এটাকে কোনভাবেই ইজ্জতের দাম বলার কোন সুযোগ নেই… কুরআন হাদিসে তো কিছু আছে নাকি?

ইজ্জত কি শুধু নারীর আছে?? পুরুষের নেই? শাররিক জেনেটিক্স ইত্যাদি দিয়ে নারীরা দূর্বল অসহায় এবং ইসলামের দৃষ্টিতে নারীরা সম্মানের দাবীদার সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় তাদের জন্য দেনমোহনারার ব্যবস্থা। আর কেউ যদি নিজেকে স্ত্রী মনে না করে পতিত মনে করে তাহলে দেনমোহরনা নয় সে তা পরিশ্রমিক ভাবলে তাতে কারো কিছু আসে যায় না। ইসলামই একমাত্র ধর্ম যে নারীর ভরণপোষণের বিধান দিয়েছে অন্য ধর্ম তো স্ত্রী আর দাসীর মধ্যে কোন পার্থক্য রাখেনি।

বিথী আপা, লেখাটা পড়ে কিছুটা কনফিউজড হয়ে গেলাম৤ আপনি লেখায় উল্লেখ করেছেন “কাবিন হলো বর এর পক্ষ থেকে কনেকে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত পরিমাণ একটা মূল্য যা তার ইজ্জতের মূল্য হিসেবে পরিগণিত৤’এটার তথ্যসূত্র কি ? আপনি আইন বিষয়ে পড়াশুনা করেছি৤ এগুলো নিয়ে কাজ করেছি৤ তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করলে ভালো হয়৤

Mostly the post is a reflection of an emotionally deprived lady. She, certainty has altitude issues. This led to deprive her emotionally. If we apply psychological theory, the hypothesis is if she is being loved or be loved the reflection would be different. Either her childhood or adult like has had gone contrary to her expectations. If she would have been cared or loved, she would reflect otherwise differently. Due to Her attitude in a society where she belongs has led to withdraw social .belonging form her. Out of frustration she is hitting a hard wall only to inflict more emotional damage. Best for is to be loved and love. But it comes with fundamental prerequisites, the essence of a responsible individual with shared responsibility, cooperation, non-egoist, negative attitude, and most of all well researched facts before putting comments or expression of opinion. You have fired a bullet since you have gun (your mouth with irrational expressions) and fired the bullet at random out of frustration. You may be defined as an emotional terrorist nothing more. You are a person from whom the larger society achieves nothing. You know how to practise vices and not virtue. It is not late that you discover or invent one who can love you and fulfill your emotional needs.

অত্যন্ত সুন্দর বক্তব্য! সন্তান গর্ভে ধারন করা / জন্ম দেবার দায়িত্বটা যতদিন পুরুষদের সাথে “সমানভাবে ” ভাগ করার পদ্ধতি আবিষ্কার না হচ্ছে …ততদিন অন্তত সমানঅধিকারের কথা তুলে “দেনমোহর ” না নেবার কোনও কারণ নেই!
nothing is free of cost in this world sister

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.