সাংবাদিকতার ‘বিশ্বস্ত সূত্র’ বনাম ‘চটকদার গল্প’

শাশ্বতী বিপ্লব: “আজ ঈদ!! সাংবাদিকদের ঘরে ঘরে আনন্দ!!! পরকীয়ার মসলাটা দারুণ হয়েছে। আমরা ছাগল-পাগল জনতা, আপনারা যা বলবেন তাই শিরোধার্য জনাব। বেশ রসিয়ে “হলুদ” করে ঘায়েল করা গেল হত্যার শিকার আর তার বিচার প্রার্থীকে। এ গল্প আপনারা সাগর-রুনী হত্যার পরও শুনিয়েছিলেন। তবে, গল্পটা খুবই গৎবাঁধা কিনা, সেকেলে শোনাচ্ছে একটু। নতুন কিছু ভাবুন জনাবেরা, ক্রিয়েটিভ কিছু। আমাদেরও তো মাঝে মাঝে বোর লাগে, তাইনা? আপনাদের লাগে না?

কী আর করবেন? জঙ্গিবাদের রাঘব বোয়ালকে মোকাবেলা করার চাইতে এবং ক্ষমতার বলয়ে লুকিয়ে থাকা এর মুখোশধারী পৃষ্ঠপোষকদের নির্মূল করার চাইতে, বাবুল আক্তার – মিতুর চরিত্র হনন সহজ। আপনারা সহজ কাজটাই করতে থাকুন মাননীয় সংবাদিকগণ।

আপনারাও সাংবাদিকতায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন। একদিন আপনাদেরও এর ট্রান্সলেশন জিজ্ঞেস করা হবে। উত্তর মুখস্ত আছে তো জনাব?”

Shaswati 5উপরের এই কথাগুলো কাল ফেসবুকে লিখেছিলাম। তারপর পরিস্থিতি বদলেছে। বাবুল আক্তার ফিরে এসেছেন। পত্রিকাগুলোও তাদের সংবাদ প্রত্যাহার করেছে!!! তবে যে বিশ্বস্ত সূত্র বললো, বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্ত্রী হত্যার দায় তিনি স্বীকার করেছেন। তার কি হবে?

আপনাদের এই বিশ্বস্ত সূত্ররা এতো অবিশ্বস্ত কেন? তদন্তাধীন মামলার গোপন খবর সব ফাঁস করে দিচ্ছে, তাও আবার ভুলভালে ভরা। তাদের উপর নির্ভর করাটাই বা কতটা যুক্তিযুক্ত ভেবে দেখবেন দয়া করে।

এবার আসুন একটু বিশ্বস্ত সূত্রের শরণাপন্ন হই।

বিশ্বস্ত সূত্র বলেছে, সাংবাদিকতা সুবিধাবাদীদের পেশা। তাহাদের নিজের চরিত্র যেমনই হোক না কেন, পরের চরিত্র হননে তাহারা সিদ্ধহস্ত।

বিশ্বস্ত সূত্র আরো বলেছে, সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসাও বটে। ব্ল্যাকমেইল, গোপন আঁতাত ইত্যাদির মাধ্যমে আয় বেশ ভালো।

সেই বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, অন্যের নীতিহীনতা, দুর্নীতি নিয়া গলাবাজি করিলেও, সাংবাদিকগণ নিজেরা নীতির তেমন ধার ধারেন না। অর্থের বিনিময়ে মাথাটা হরহামেশাই বিক্রয় করিয়া দেন।

আরো আছে “কাটতি”। গরম গরম মশলাদার রগরগে শিরোনামে সংবাদ ছাপাইলে পত্রিকার কাটতি বাড়ে, সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে বিজ্ঞাপনের লাইন, বাড়ে অর্থের সমাগম।

বিশ্বস্ত সূত্র মনে করে, যেকোন মানুষের ব্যক্তিগত, পেশাগত বা সামাজিক জীবন নিয়া যাহা ইচ্ছা লেখিবার একমাত্র অধিকার সাংবাদিকগণের। তিনারা বাকস্বাধীনতার দিকপাল। নমস্য ব্যক্তিত্ব।

তাহাতে অপরাধী আরো উৎসাহিত হইলে, নির্যাতিত বিচারপ্রার্থী আরো বিপদে পড়িলে, কারো সামাজিক ও পারিবারিক জীবন ধ্বংস হইয়া গেলে বা কারো কর্মজীবন অনাকাংক্ষিত জটিলটায় আটকাইয়া গেলে সাংবাদিকগনের তাহাতে বেজায় আনন্দ অনুভুত হয়।”

দেখলেন তো, বিশ্বস্ত সূত্রের নাম করে সত্য মিথ্যা মিলিয়ে আমিও কেমন মনগড়া কিছু কথা লিখে দিলাম সাংবাদিকদের নামে। খুব সহজ।

কিন্তু এভাবে আর কতো? এবার একটু নিজেদের দিকে তাকান। নিজেদের ইমেজ আর কত নষ্ট করবেন!!! আপনাদের কারণে সত্যি যারা নীতিবান সাংবাদিক তাদেরও আমরা সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছি ধীরে ধীরে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.