শব্দ ‘পরকীয়া’ ও নারীর অনিরাপদ মৃত্যু

1

রোকসানা ইয়াসমিন রেশনা: এই হয়েছে আর এক জ্বালা। যেটাকে বলা যায় মরণ জ্বালা। নারীরা তো এই সমাজ সংসারের কোথাওই নিরাপদ না। কী ঘরে, কী বাইরে। এই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে তো, ঐ শারীরিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। অথবা ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে, নইলে নানা কথার দ্বারা অপমানিত হচ্ছে।

Reshnaনারীদের আসলে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই এখন আর। ধর্ষণের শিকার হয়ে, অপমানিত হয়ে মরে যে বাঁচতে চাইবে এখন আর সে উপায়ও নেই। নারী ধর্ষণের শিকার হলে আস্তে করে টেস্টে রেজাল্ট আসবে, তার সাথে কারোর শারীরিক সম্পর্ক ছিল। অস্বাভাবিক কোন মৃত্যু হলে বা মানসিক অবসাদ থেকে কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে তার দ্বারা কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই, চলাফেরা কথাবার্তা নিয়ে কতো প্রকার গল্প যে রচিত হবে তার কোন ঠিক নেই।

বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে ইদানীং খুব সহজ একটা কথা বের হয়েছে যে পরকীয়ায় আসক্ত। মোবাইলে সে কার কার সাথে কথা বলেছিল, তার মাঝে পুরুষের নম্বর ছিল কতজনের, এইসব ধরে সমাজ এক কথায় রায় দিয়ে দিবে সে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল।

আর কর্মজীবী নারী হলে ঘটনা আরো সহজ হয়ে যায়। কবে সে অফিস থেকে রাত করে বাসায় ফিরেছিল, কবে কোন পুরুষ কলিগের সাথে ফাস্টফুডে খেতে গিয়েছিল, এইসব নিয়ে টানাহেঁচড়া লেগে যায়। একজন নারীও যে মানুষ, তার মৃত্যুটাও যে শোকের, তারও যে মৃত্যুর পরে হলেও একটু সম্মান, একটু শ্রদ্ধা পাওয়ার অধিকার আছে, এইটা সবাই ভুলে যায়। সবাই তখন মেতে ওঠে তার চরিত্র হননে।

আর এখন কিছু সাংবাদিক নামধারী সাংঘাতিকেরা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল যেন মুখিয়ে থাকে কখন একজন নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হবে ও তার মাঝে পরকীয়া খুঁজে পাবে সেই আশায়।

তাই তো বলি, নারী, তুমি এখন বেঁচে থেকেও যেমন নিরাপদ নও, তেমনি তোমার মৃত্যুটাও এখন আর নিরাপদ নেই। তুমি মারা গেলেই হয়ে যাবে পরকীয়ায় আসক্ত এক চরিত্রহীন নারী।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৯৫৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.