ওড়না বৃত্তান্ত এবং আমার চলাফেরা

জিনাত হাসিবা স্বর্ণা: ওড়না আমার জীবনে অতি গুরুত্বপূর্ণ এক বস্তু। জীবনের অনেকখানি সময় আমি এই বস্তু নিয়ে কী করবো তা ভেবে পার করেছি।
ছোটবেলায় যখন আমার ‘ওড়না পরার কথা নয়’ তখন এর প্রতি আমার বিশেষ আকর্ষণ ছিলো। কারণ আমরা ভাইবোনেরা বাসায় নাটক নাটক খেলার সময় চুলের ব্যান্ড দিয়ে ওড়না কুচি করে মাথার উপর পরতাম তারাই, যারা রাজপ্রাসাদের মানুষ (অবশ্যই মেয়ে)।

Dopatta 2 Dopatta 1সবচেয়ে সুন্দর ওড়না থাকবে তার মাথায় যে কিনা ‘রাজকন্যা’। আমার সমস্ত আকর্ষণ থাকতো তাতে। এই গেলো ওড়না ‘পরার দরকার নাই’ সময়ের আমার জীবনে এই বস্তুর বিশেষত্ব। ‘ওড়না পরার সময়’ একটু দেরিতেই এসেছে আমার। বুকটা মোটামুটি ‘ইনভিসিবল’ ছিল ক্লাস নাইন পর্যন্ত! আমার স্কুল বান্ধবীদের কেউ কেউ আমার ‘ভবিষ্যৎ স্বামী’র জন্য আফসোসও করেছে এ নিয়ে!
যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, সম্ভবত গ্রামে থাকি আমি। বড় পুকুরের পাড় থেকে হৈ হৈ শুনে এগিয়ে গিয়ে এক পলক দেখেছিলাম লিপি আন্টিকে, অচেতন অবস্থায় রিকশা থেকে নামিয়ে জুনু দাদুদের পুকুর পাড় দিয়ে নিয়ে তার দেহটা নিয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য। এখনো আমার চোখে লেগে আছে।

শুনলাম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গিয়েছিল রিক্সা থেকে। আমি লিপি আন্টিকে চিনতাম না। সেদিন জানলাম আমার ফুপু হন তিনি। ভেবেছিলাম বুঝি মরে গেছেন! প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিলাম। পরে জানলাম ঊনি বেঁচে গেছেন। কত বছর আগের কথা। কোনো যোগাযোগই নেই। অথচ ঊনার জন্য আমার সেই ভয় এখনো কাটেনি।

রিকশায় যতবার বসি আলগোছে সেই দৃশ্য মনে পড়ে যাওয়াটা অভ্যাসে পরিণত প্রায়। ওড়না আমি গলায় সাধারণত ঝুলাই না। যদিওবা ঝুলাই কালে ভদ্রে, গলায় পেঁচিয়ে পরি না কখনো।
যাই হোক, মোটামুটি নিয়মিত ওড়না পরা শুরু হয় আমার নাইনে পড়ার শেষের দিকে। তখন এর সাথে সাথে আমার সঙ্গী হলো ‘সেফটিপিন’। চরম আতঙ্কে থাকতাম আমি, ‘কখন যে খোঁচা খাই’!

প্রায়ই বিরক্তির সাথে বলতাম “এই জিনিসের নাম কোন উজবুকে ‘সেফটিপিন’ রাখসে! নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দূরের কথা, এ তো নিজেই ভয়ংকর জিনিস একটা”! তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কালে আমি বাসে ননস্টপ এবং নিয়মিত বিরতিতে ধাক্কা দেওয়া এক সহযাত্রীকে সোজা করার ক্ষেত্রে এর ‘সেফটিপিন’ নাম সার্থক করেছিলাম।

যে লোকটা বার বার গায়ের উপর এসে পড়ার কারণ হিসেবে বেশ জোরের সাথে বললো “বাসে তো গায়ে গা লাগবেই”, ঐ সেফটিপিন খুলে আমার গায়ে উঁচু করে ধরে রাখায় সে তৎক্ষণাৎ প্রমাণ পেয়ে গিয়েছিলো তার থিওরি যে ভুল।

প্রসঙ্গে ফিরি। আমাদের কলেজের পোশাক ছিলো জামার উপর এপ্রোন। তাই ‘সেফটিপিন’ থেকে কিছুটা বাঁচা গেলেও ওড়না ছাড়িনি। কলেজ কালের অনেকটা সময় দিয়েছি আমি ওড়না ‘পিন আপ’ করায়।
ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালে জামা কেনার সময় ওড়নাটা খুব করে দেখে পছন্দ করে নিতাম। তখনো ওটাতেই আমার চোখ। একপাশে যতটা সম্ভব মেলে দিয়ে, অন্যপাশে ভাঁজে রেখে পড়তাম। ওড়না ‘পিন আপ’ করা ছাড়লাম। কিন্তু তখন আমার বহুল  উচ্চারিত ডায়লগ ছিলো ‘ওড়না ক্যান পরে মানুষ”?

তবু ওড়না ছাড়িনি। তখন নিজের কাছে আমার যুক্তি ছিল, ওড়না না থাকলে হাত দুটো নিয়ে বিপদে পড়ে যাবো, কী করবো না করবো সারাক্ষণ হাতের জন্য কাজ খুঁজতে হবে, যেমনটা কোনো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করার সময় লাগে। এর চেয়ে থাকুক।

ওড়নাটাতে সম্ভবতঃ আমি নিজের মধ্যে এক ধরনের রহস্যময়তা খুঁজতাম। তাছাড়া ওড়না ছাড়লে ‘লোকের কথা’ উপেক্ষা করলেও বন্ধু আর পরিবারের সদস্যদের কথা যে কাঁটা হয়ে বিঁধবে তা নিশ্চিত ছিলাম। অন্য কারো ওড়না নিয়ে আমার তেমন মাথাব্যথা ছিলো না।

তবে এখন আমার এক ধরনের অপরাধ বোধ হয় একটা স্মৃতিতে। মনে পড়ে কোনো সহপাঠীর এক পাশে ওড়না পরা নিয়ে আড়ালে আমারই মেয়ে বন্ধুর করা মন্তব্যে আমি হেসেছিলাম। হেসেছিলাম? আমি!
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষের দিকে আব্বু যেদিন মারা গেলো তার পরদিন। বিধ্বস্ত আমি। ওড়নার হুঁশ নেই। আমার এক বন্ধু আমার সাথে দেখা করে চলে যাবার সময় বলে গেলো “ওড়নাটা কাছেই রাখ, মাথা থেকে সরাস না। এখন কত ধরনের লোক আসবে-যাবে, তারা কী কী নিয়ে কথা বলবে তার ঠিক নেই, সুযোগ না দেওয়াই ভালো”।

কিছু আর ভাবিনি। মাথা থেকে ওড়না সরাই না। কিছুদিন পর ফিরে এলাম আমার পরিচিত দুনিয়াতে, সহপাঠী বন্ধুরা দেখলো আমার মাথায় ওড়না থাকে। কেউ খুব উৎসাহী হয়ে আমাকে ধর্ম-কর্মের নসিহত দিলো। কেউ কেউ কিছু না বললেও বুঝলাম বিব্রত এহেন পরিবর্তনে।

দিন যায়, ওড়নায় ঢাকাঢাকি বাড়ে। পেঁচানো বাড়ে, আটকানো বাড়ে। একদিন খেয়াল করলাম, আমার কাছের বন্ধুগুলো, যাদের আমার দিকে বাজে মন নিয়ে তাকানোর প্রশ্নই নেই, ছিলো না কখনো- তারা তাকালেও আমি এদিক-ওদিক ঢাকতে থাকি, অকারণ অস্বস্তি! বিরক্ত হলাম নিজের উপর।

বিরক্তি আরো বাড়লো যখন দেখলাম বাসের গরমে সেন্সলেস হওয়ার দশা হলেও ওড়নাটা সরাতে পারছি না মাথা থেকে। একটা কাজ হাতে নিয়েছিলাম, বাসে অনেক দূর যাতায়াত করতে হয়। সেই অফিসে কাজ জমা দিতে গিয়েই মুর্চ্ছা গেলাম একদিন। কাজটা আর করা হলো না।

এবার বুঝলাম কতখানি বেঁধেছি নিজেকে। মাথায় ওড়না মিশনে ক্ষ্যান্ত দিলাম।
চাকরিজীবী আমি। বছর পাঁচেক আগে অফিসেরই এক ট্রেনিংয়ে সকালে দেখা হতে হেসে কুশল বিনিময় শেষ হবার আগেই আমার এক নারী সহকর্মী আমার দিকে চোখ টিপে বলে উঠলেন- “আরেকটা কে খাবে”?

আমি কয়েক মুহূর্ত বুঝতে পারিনি ঊনি কী বললেন। যখন বুঝলাম তখন আরো কয়েক মুহূর্ত বিশ্বাস করতে পারিনি ঊনি এই বাক্যটাই বললেন আমার বুকের দিকে ইশারা করে।

আমার ওড়নাটা এক পাশে ঝুলানো ছিলো। আরো ভেঙে বললে বলতে হয় ঊনি আমার ওড়নায় ঢেকে না রাখা স্তনকে নির্দেশ করে বলেছিলেন কথাটা। যার মানে দাঁড়ায় ওড়নায় না ঢাকা স্তনটি কারো খাওয়ার জন্য আমি উন্মুক্ত রেখেছি, আর অন্যটা ঢেকে রেখেছি অন্য কেউ খাবে বলে।

হ্যাঁ, ভেঙে বললে কথাগুলি এমনই শোনায় যা পড়তে ঘাম ছুটে যায়। আমি কিছু বলিনি সেদিন সেই আপাকে। আমি তখন এটা জানতাম যে আমি এ নিয়ে অভিযোগ তুললে আপা’র চাকরি জীবনে বড় ধরনের ঝড় আসতে পারে। আর এটাও জানতাম ফিল্ড অফিসে কাজ করার পেছনে একজন নারীর কত সংগ্রামের ইতিহাস থাকে।

তবে আমি এটা তখনো জানতাম না যে কী ভাষায়, কোন পদ্ধতিতে ঊনাকে আমি বোঝাতে পারতাম ঊনি কী করলেন। তাই আমি সেদিন আপার কথার বিপরীতে কোনো উচ্চবাচ্য করিনি। নীরব প্রতিবাদ হিসেবে সেদিন সারাদিন ওড়নাটা ওভাবেই পরে ছিলাম।

Zinatএখনও আমি ওড়না ছাড়িনি। এখন আমার ওড়না ব্যবহারের যুক্তি হলো ঢাকা শহরের ধূলা এবং ধোয়া। তাই আমার ওড়নার দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন হয়েছে। যতটা সম্ভব ছোট ওড়না পড়ি আমি এখন। কারণ ওটা আমার শুধু নাকটা চেপে রাখার কাজে লাগে। আমি চশমা পড়ি তাই মাস্কে চশমা ধোয়া জমে ঘোলা দেখি, ওড়না বা স্কার্ফে তা হয় না। তাই চশমাটা মোছার কাজেও লাগে ওটা।

তবে এতেও মাঝে মাঝে বাহানার গন্ধ পাই আমি। সহজ নয় যা ভেতরে গেঁথে গেছে তা থেকে বের হওয়া।

এমনটা নয় যে ওড়নাটা আমার ছাড়তেই হবে। কিন্তু এমন একটা পরিস্থিতি আমি কেন তৈরি করবো যে ওটার সাথে আমার আত্মা এবং সম্মান জড়িয়ে যাবে? কেন নিজেকে অসহায় আর বেমানান দেখাবে ওটা ছাড়া? কেন আমার মনে হবে যে ভূমিকম্পে নিরাপদ দূরত্বে যাওয়ার আগে আমার ওড়নাটা চাই-ই চাই। আর কেনই বা অন্য কারো চোখে পড়বে কোন মেয়েটা কোন পোশাকে নেমে বাইরে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

কেন মাঝ নদীতে ঝড় উঠলে নিজের প্রাণ বাঁচানোর চেয়ে ‘মান স্বরূপ’ ওড়না বা শাড়ীটা গায়ে জড়িয়েই রাখা চাই আমার! আমি চাই না নিজেকে ঐ কাতারে দেখতে।
আমার শাশুড়ী একদিন আমাকে বড় ওড়না পরা দেখে বলেছিলেন “তোমাকে বড় ওড়নায় ভালো দেখায়, এরকমই পরো”। আমি জানি ঊনি ভালোবেসেই বলেছেন সরল মনেই। কথাটা মেনে নিলে হয়তো খুশীও হতেন। কিন্তু এটুকুর জন্য আমাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হোক এটা আমি চাইনি। নিজেকে চেপে রেখে কারো মনের মতন হওয়ায় আমি বিশ্বাসী নই।

সহজেই স্মিত হেসে উত্তর দিয়েছিলাম- “আম্মু আমার এক এক সময় এক এক রকম থাকতে ভালো লাগে। বড় ওড়না আমার ভালো লাগে না। সামলানো ঝামেলা। ছোট ওড়নাই ভালো। নিরাপদ”।

আম্মু রাগ করেননি। কৃতজ্ঞ বোধ করলাম! সেই সাথে স্বস্তি!
আমার ছোট স্কার্ফ বা ওড়না, বুক ঢাকতে অমনোযোগ, এগুলো আমাকে আর ভাবায়না তেমন। আমি হেঁটে যাই, বুক হয়তো কাঁপে। যেমনটা দোলে আমার হাত। হয়তো কেউ দেখে। যেমনটা দেখে আমার হাত দুটো। দেখুক। আবার হয়তো ততোটাও দেখে না যতোটা আমি ভাবছি। কে দেখছে, কেন দেখছে তাতে আমার কোন আগ্রহ বা দুশ্চিন্তা নেই।

এটা ভাবতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তের এই টেনশনও আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব না এবং ঢাল হিসেবে ওড়না সামলানোর ঝামেলাও আমি আর পোহাতে রাজি নই।
সেদিন আমার হাসব্যান্ড অফিস যাওয়ার পথে জানতে চাইলো আমার ওড়না কোথায়। জানালাম ব্যাগে আছে।

পাল্টা প্রশ্ন, “ওটা কি ব্যাগে রাখার জন্য”?

আমার সংক্ষিপ্ত উত্তর, “না, নাক ঢাকার জন্য”। এক্ষেত্রে আমার হাসিটাই ভরসা! দুজন দুজনকে ‘খুশি করা’র নাম সংসার নয় আমার কাছে। দুজন দুজনের কাছে নিজেকে মেলে ধরতে পারাতেই আমাদের সংসার।

আমি একজন মানুষ। আমার চুল আছে। আমার বুক আছে। যেমন আছে আরো কিছু অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।
আমার বুক আছে, যেমন আছে অন্য যেকোনো মানুষের। হ্যাঁ, যেকোনো মানুষের বলতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষেই বোঝাচ্ছি আমি। নারী বলে বেশীর ভাগ পুরুষদের তুলনায় হয়তো বুকের উচ্চতা ‘খানিকটা’ বেশী। আবার হয়তো অন্য অনেক নারীর বুকের চেয়ে কম উচ্চতার। কিন্তু যেকোনো নারীর বুকই তো যেকোনো পুরুষের বুকের চেয়ে উচ্চতায় বেশি নয়, তাই না?

নারী-পুরুষের বুকের উচ্চতা মাঝে মাঝে এক হয় বলেই তো কিছু নারী শুনতে পায় আল্লাহ তাকে কিছু দেয় নাই, তাই না? সুতরাং বুকের  উচ্চতায় যে সর্বক্ষেত্রে পার্থক্য আছে তা নয়।

আর রইলো যৌন অনুভূতি এবং আবেদন। পুরুষদের তো বুকে যৌন অনুভূতির কমতি নেই নারীদের চেয়ে কোনো অংশে! আর আবেদন? রোমশ বুক, পেশীবহুল বুক আরো যেন কী কী- যৌন আবেদন নয়? তাহলে নারী হিসেবে বিশেষভাবে আমার বুক ঢেকে রাখার যৌক্তিকতাটা কোথায়?
সমস্যা আমার শরীরে নয়। সমস্যা যেকোনো পুরুষের যৌন অনুভূতিতেও নয়। সমস্যা কিছু নোংরা মনের মানুষের বিকৃত রুচিকে সব পুরুষের ‘স্বভাব বা ধাত’ বলে চালানোর চেষ্টার মাধ্যমে নারীকে মোড়কে ঢেকে রাখায়।

প্রতিদিন শত শত পুরুষের সামনে দিয়ে যাতায়াত শহরে আমাদের। সপ্তাহে এক-দুই দিন দুই-একজন পুরুষ যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য বা আচরণ করে। বেশির ভাগই যে যার কাজে মগ্ন। অথচ এমনভাবে বেড়ে উঠি আমরা, সর্বক্ষণ ঐ দুই-একজনের জন্য তটস্থ হয়ে থাকি।

ওদের কাছ থেকে বাঁচার জন্য ওদেরই খুঁজতে থাকে চোখ। ঐ শব্দগুলো থেকে বাঁচতে তাদেরই কথা শুনতে খাড়া থাকে কান। পৃথিবীতে কত কী ঘটছে! কত কী করার আছে। কিন্তু মাথা খাটাবার মন কোথায়??
তাই বাদ দিয়েছি এসব দুর্ভাবনা। যতখানি পারি চেষ্টায় আছি জঞ্জালমুক্ত হবার। জামা পরি শীত বা গরমকে ঠেকাতে, নাক-মুখ-চোখ ঢাকি ধূলা-ধোয়া থেকে রক্ষা পেতে; কোনো কিছু কারো কাছে লুকিয়ে বা কারো জন্য সামলে রাখতে নয়। যখন শীত নেই তখন বাড়তি পোশাকের প্রয়োজন বোধ করি না। রোদ, কুয়াশা কিংবা এসির ঠান্ডা থেকে মাথা বাঁচাতে আমি আমার ওড়নাটা কাজে লাগাই।

যখন আমি প্রচণ্ড গরমে অস্থির তখন পোশাকের বোঝা কমানোর চেষ্টা করি। দেখে কার ‘যৌনানুভূতি জাগ্রত হলো’ আর কার ‘বিরক্তির উদ্রেক হলো’ এ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে আমি রাজি নই। কে কী দেখে ফেললো তাতে আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই। আমি আমার মান সম্মান শরীরের কোন অংশেই সেঁটে রাখিনি; আর ওড়নার মতো উড়নচণ্ডির হাতে রাখার তো প্রশ্নই আসে না!

 

শেয়ার করুন:
  • 17
  •  
  •  
  •  
  •  
    17
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.