শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনকারী যারা

শারমিন জোহরা সিমি: পেডোফিলিয়া। বাচ্চাদের সাথে, খুবই অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের সাথে যৌনতার আকাঙ্ক্ষা। সাধারণত ১৩ বা তার কম বয়সী মেয়ে শিশুরা এর আওতাভুক্ত, ব্যতিক্রমও আছে। এটি সকল সমাজেই ট্যাবু হয়ে আছে। যা একটি মানসিক বিকৃতি আর এই অসুস্থতা সাধারণত অনিরাময়যোগ্য। তবে কখনো কখনো থেরাপির মাধ্যমে এই আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে আনা যায়।

পেডোফাইল বা মলেস্টাররা যে কেউ হতে পারে- বয়স্ক- অল্প বয়সী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, অলস-কর্মঠ ধনী-দরিদ্র যেকোনো ক্ষেত্র থেকেই হতে পারে। প্রতিটা মানুষই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে আলাদা তাই কোন লক্ষণ দিয়ে এদের সনাক্ত করা কঠিন। তবু কিছু সাধারণ বিষয় জেনে রাখলে সতর্ক থাকা যেতে পারে। পুরুষের মাঝে এ লক্ষণ বেশি দেখা যায় আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিক্টিম হয় মেয়েরা।

সাধারণত ত্রিশোর্ধ্বদের মাঝে এই লক্ষণ দেখা যায়।

সাধারণত যেখানে তার যাতায়াত আছে এমন কোথাও থেকে কাউকে টার্গেট করে।

এরা নিজেদেরকে “লিটল ফ্রেন্ড” বলে বোঝাতে চায়।

অঘটন ঘটাবার আগে সে একটা গ্রুমিং প্যাটার্ন তৈরি করে। যা বাবা মা’র থেকে শিশুর কিছুটা দূরত্ব তৈরি করে। আর এই সুযোগে অতি মনোযোগ আর মায়া দিয়ে পেডোফাইলেরা শিশুর কাছে নিজের প্রতি আস্থা, আনুগত্য অর্জন করে। কখনো তারা অতি অনুগ্রহ, অতিরিক্ত সুবিধাদি, অনুপযোগী উপহার (আবেদনময়ী, নগ্ন পুতুল বা শিশুদের উপযোগী নয় এমন কিছু) কখনো বা টাকা পয়সা দিয়ে টার্গেটকে আকৃষ্ট করে থাকে। আবার কখনো এরা শিশুদেরকে অনৈতিক কাজ, যেমন- পর্ন ছবি দেখিয়ে, ধূমপান বা বিয়ার পান করিয়ে থাকে। আর পরে নিপীড়নের সময় তার কথার বাইরে গেলে বাবা-মার কাছে অপকর্মগুলো প্রকাশ করে দেবে বলে ভয় দেখায়।

pedosmile1pedo-smile_2বিশেষ জেনেটিক ডিজ-অর্ডার বলে পেডোফাইলদের হাসিকে কিছুটা ভিন্ন মনে করা হয়। এটি পেডোস্মাইল বলা হয়ে থাকে। যা অনেকটা মৃদু, মুচকি হাসি বললে হয়তো ঠিক হবে। এই হাসিতে তার চোখ-মুখের আলাদা অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে। যদিও সব সময় সবাই তা সঠিক বুঝে উঠবেন তা নয়।

imagesশোনা যায়, অনেক ক্ষেত্রে এই আসক্তরা পুতুলের ছবি ব্যবহার করে থাকে। সমকামীরা যেমন রংধনুর রঙ ব্যবহার করে তেমনি। নিষ্পাপ চাউনি- পাতলা ঠোঁটের এই পুতুলগুলো বিষন্ন চেহারার। মুখে হাসি নেই আর এই পুতুলের শরীরে থাকে প্রাপ্ত বয়স্কদের আদল। অথচ শিশুরা স্বাভাবিকভাবে থাকে হাসিখুশি আর প্রাণবন্ত। জাপানে আর পশ্চিমাদেশগুলোতে এ ধরনের ছবি খুবই নোংরাভাবে ব্যবহৃত হয়। আজকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে আমাদের দেশেও অনেককে না বুঝে এমন ছবি ব্যবহার করতে দেখা যায়। ভিন্ন অর্থে বানানো কাম-তাড়নার প্রতীক এই ছবিগুলো পেডোফাইলদের বানানো।

অভিভাবকদের করণীয়- আপনারা নিজের সত্ত্বাকে বিশ্বাস করুন, মনের মাঝে ছোট কোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ জাগলে সতর্ক হোন, তা যাচাই করুন। যখন কোনকিছুতে অসুবিধা হয় বা স্বাভাবিক না দেখে, বাচ্চারা অনেক সময় সেটি প্রকাশ করে। তার কাছ থেকে ভালোভাবে শুনুন, জিজ্ঞেস করুন, জানুন সে কি বলতে চায়। হয়তো তা থেকে আপনি নিজেই রক্ষা করতে পারবেন শিশুকে সেই মলেস্টার থেকে, যে কিনা আপনার আপনজন সেজে বসে আছে।

আপনিই হলেন শিশুর প্রথম সুরক্ষা। শিশুর আচরণে কোন পরিবর্তন দেখলে সজাগ হোন। যদি লক্ষ্য করেন সে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে অপছন্দ করছে বা নির্দিষ্ট কোন জায়গায় যেতে অমত করছে – হয়তো এর পেছনে কোন বিশেষ কারণ থাকতে পারে। তাকে ভালোভাবে জিজ্ঞেস করুন। তার অনুভূতি আর উত্তরকে সম্মান দেখান। আপনি আর সে, দু’য়ে মিলে একটা টিম হতে পারেন, যা তাকে নিরাপদ আর ভালো রাখবে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.