সাফল্যের কথা বলি

তাসলিমা আক্তার: যারা প্রফেশনালি চেনেন তারা আমাকে এ্যাডমিনিসট্রেটর হিসেবেই জানেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না এরই মধ্যে আমার ডেসিগনেশনের পাশে এইচআরও লেগেছে। এটা আমার স্বপ্ন ছিলো। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি আমার স্বপ্নগুলো কোনো না কোনোভাবে পূরণ হয়ে যায়।

আমি স্বভাবতই এইচআর খুব এনজয় করছি। মানুষ নিয়ে কাজ। মানুষের মনস্তত্ত্ব, উত্থান-পতন নিয়ে খেলা। মানুষ সব সময় আমার প্রিয় সাবজেক্ট। এইখানে এসে প্রফেশনালি মেয়েদের জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়েছি।

Int 1 এইচআরের অনেকটা অংশ জুড়ে থাকে রিক্রুটমেন্ট প্রসেস। আমাদের দেশে (অনেক দেশেই) ইন্টারভিউ নেওয়ার সিস্টেম হলো প্রথমে লিখিত পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা থেকে বাদ দিয়ে ক্যান্ডিডেট লিস্ট ছোট করা হয় ওরাল কিংবা ভার্বাল ইন্টারভিউর জন্য। এটা একটা ভুল পদ্ধতি (অনেক দেশেই পরীক্ষিত এবং স্বীকৃত)।

লেখা পড়ে কখনোই একজন মানুষকে সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়। সামনাসামনি কথা বললে সেটা অনেকাংশে কার্যকর হয়। ক্রস ফ্যাক্টরটা বেশ ভালো। এই পদ্ধতিতে একজন ক্যান্ডিডেট বোর্ড ফেস করে। অন্যজন একই সময়ে রিটেন লিখতে বসে অন্য কোনো ভ্যেনুতে। ইন্টারভিউ এর সময়কাল সাধারণত ত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট। একজন ভালো কর্মী নির্বাচনের জন্য খুবই অল্প সময়। কিন্তু যারা প্যানেলে বসে ইন্টারভিউ করেন তাঁরা উচ্চ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ।

ইন্টারভিউতে যে বিষয়গুলো নোট করা হয় তা হলো ক্যান্ডিডেটের বুদ্ধিমত্তা (স্মার্টনেস-শুধু পোষাকের নয়), আত্মবিশ্বাস, যে বিষয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছেন সেই বিষয়ের উপর দখল, টিকে থাকার সম্ভাবনা, কমিউনিকেশন দক্ষতা ইত্যাদি।

Int 2আজকাল চাকরির ইন্টারভিউতে বাংলায় কথা বলা প্রায় হারাম। মাতৃভাষা বলে এখানে গোঁ ধরে বসে থাকলে চলবে না। দেশের বাইরে কোথাও বাংলা নেই। আপনাকে কাজ করতে হবে বিদেশিদেরও সাথে। ইন্টারন্যাশনাল চাকরিগুলো অনেকাংশেই ডিসটেন্স ম্যানেজমেন্ট। কম্যুনিকেট করতে হলে ইংরেজি জানতেই হবে।

নিজের মধ্যে কিছু গুণ গড়ে তুলুন। অন্যের কথা মন দিয়ে শুনুন। কারো কথার মাঝখানে কথা বলা শুরু করবেন না। ইন্টারভিও প্যানেলের চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। মাঝে মাঝে স্মিত হাসুন, ভুলেও হেসে গড়িয়ে পড়বেন না। অল্প নড়াচড়া করুন, না হয় আপনাকে রোবট মনে হবে।

প্রশ্নের উত্তরে উদাহরণ দিন। কথার মাঝে পজ অথবা ফিলার দিন, তাতে মনে হবে আপনি নিজের ঘটে যাওয়া ঘটনা মনে করার চেষ্টা করছেন। একটি দুর্দান্ত ইন্টারভিও সেশনের পর সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে হিম হিম ঘরটি থেকে টানটান ভঙ্গিতে বেরিয়ে আসুন।

সুন্দর করে কথা বলতে পারাটা জগতে বিশাল এক গুণ। গুছিয়ে কথা বলার প্র্যাকটিস শুরু করুন এখনই। যে কোনো বিষয়ে কাজ শুরু করার আগে বিষয়টা সম্পর্কে কিছু পড়াশুনা করুন। এখন গুগলের যুগ। কুন ফায়া কুন (হও বললেই হয়ে যায়)। গুগলকে নির্দেশ দিলে সে সব জানিয়ে দেয়।

আমার এক কলিগ বলেছিলো, “ঈশ্বর সব জানেন, আর গুগল অলমোস্ট সব জানে”। তো, শুরু করুন আর নিজেকে গড়ে তুলুন। দেখবেন, আপনি চাকরির পেছনে না চাকরি আপনার পেছনে দৌঁড়াবে।

জী-লে জী-ভারকে(বেঁচে থাকুন বাঁচার মত)।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.