গে পালস ক্লাবে হামলা এবং…..

শিল্পী জলি: আমেরিকাতে এসে প্রথমে শখ ছিল এমএস করার। পরিস্হিতি তেমন ছিল না। পরে নার্সিং এর কথা ভাবতে না ভাবতেই আত্মীয়রা বললো,

ছি: নার্সিং পড়বি? ডাক্তারদের পিছে পিছে বাক্স নিয়ে দৌঁড়াবি? তোকে আর আত্মীয় বলে পরিচয় দিতে পারবো না!

Gay 2বোঝাতে চাইলাম এখানে নার্সদের অবস্হা আমাদের দেশের মত নয়। তাদের সম্মান এবং অর্থ হাত ধরাধরি করে চলে। জব মার্কেট রমরমা, আবার কর্মটিও সেবাধর্মী। কিন্তু তাদেরকে নিজ চোখে না দেখিয়ে কথাগুলো বিশ্বাস করাতে পারলাম না।

বাংলাদেশে নার্সদের যেমন কেউ বিয়ে করতে চায় না, এখানে ঠিক তার উল্টা। সুন্দরী সুন্দরী মডেলদের মতো মেয়েরা ছোটে নার্সিং পড়তে। তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল এবং ব্যবহারও চমৎকার। আমাদের দেশের মতো কটকটি নয়, আবার অবহেলিতও নয়। ভালো শিক্ষার্থীরাই এখানে নার্সিং পড়তে ছোটে।

এমান্ডা নার্সিং স্টুডেন্ট। সেই রাতে অরল্যান্ডের সেই গে পালস্ ক্লাবে গিয়েছিল বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে। গুলি শুরু হতেই বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে বের হয়ে যাচ্ছিল সে। পথিমধ্যে বান্ধবীর হাত ছুটে যায়। সে আবার ঢোকে ভেতরে বান্ধবীকে সাথে করে ফিরিয়ে আনতে। আর ফিরে আসতে পারেনি সে। দুজনই মারা গেছে ওমর মতিনের গুলিতে। মেয়েটি বেঁচে থাকলে কত মানুষের সেবা করতো তার কোনো ঠিক নেই।

আরেকটি মেয়ে ওখান থেকে কোনমতে বেঁচে বের হয়। নিজে নিরাপদে বাইরে বের হতেই দেখে একটি ছেলের অঝর ধারায় রক্ত ঝরছে। রক্ত বন্ধ করার মত কিছু না পেয়ে নিজের টপটিই খুলে দেয় সে যেন চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করতে পারে। তখন তার পরনে ছিল শুধু প্যান্টস আর ব্রা। আরেকজনের জীবন বাঁচাতে লজ্জা বা গেঞ্জির কথা সে চিন্তা করেনি। আরেকটি ছেলে মরার সময় নিজের শরীর দিয়ে একটি মেয়েকে বাঁচিয়ে রেখে গিয়েছে।

এতোদিন গে-দের প্রতি অনেকেই সহানুভূতিশীল ছিল না। কিন্তু এই হামলাটির পর দলে দলে লোক ছুটে এসেছে সহায়তা দিতে, তাদের পাশে থাকতে।

বুঝিয়ে দিয়েছে কিছুতেই মানবিকতা বাদ দেয়া চলে না।

এই হামলায় গোটা মুসলিম সম্প্রদায় প্রশ্নবিদ্ধ। ইমিগ্রেশন ল প্রশ্নবিদ্ধ।

হিলারি ক্লিনটন এবং প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রাম্পের কটাক্ষে। ওমরের পরিবার এখনও নিরাপদ। তবে তার বউ কিছুটা সন্দেহের আওতায়–হামলা করবে সেট জানতো কি জানতো না !

তার বাবা মাঝে মাঝে বক্তব্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়াতে এমন হলে এতক্ষণে অপরাধীর চৌদ্দগোষ্ঠীর কী হতো ভাবা যায় কি?

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.