ব্যবসায় আগ্রহী নারীদের জন্য আইনী টিপস

ফাহরিয়া ফেরদৌস: বিশ্বব্যাংকের জরিপ অনুযায়ী ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৯.৫% নারী। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে এই সিংহ ভাগ নারীকে সাথে নিয়ে চলতে হবে। বিভিন্ন পেশার সাথে তাল মিলিয়ে মেয়েরা এখন ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন।

অনেক সম্ভাবনাময়ী নারী আছেন যারা ব্যবসা শুরু করতে চান, অনেকেই ভাবছেন কোম্পানি বা পার্টনারশিপ ফার্ম খুলতে ব্যবসার শুরু করতে, কিন্তু জানেন না কিভাবে এর আরম্ভ করতে হয়! আর এই জানা-অজানার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছেন অনেকে।

Fahriya
ফাহরিয়া ফেরদৌস

আজকের এই লেখাটি সেই নারীদের জন্যই, যারা ব্যবসা আরম্ভ করতে চান। একটি প্রাথমিক ধারণা দেয়ার প্রয়াস মাত্র।    

কোম্পানি বা পার্টনারশিপ ফার্ম অবশ্যই “রেজিস্ট্রার অফ জয়েন্ট স্টক কোম্পানি” থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এর জন্য কমপক্ষে দুইজন মানুষ লাগবে। কোম্পানি বা পার্টনারশিপ ফার্ম যেটি-ই আপনি খুলতে চান না কেন, প্রথমে দেখতে হবে যে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানটিকে যে নামে দেখতে চাইছেন সেই নামটি এখনো খালি আছে কিনা, অর্থাৎ যদি অন্য কেউ এই নামটি দিয়ে অলরেডি কোন প্রতিষ্ঠান শুরু করে থাকেন, তবে আপনি সেই একই নামে আর দ্বিতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান শুরু করতে পারবেন না।

তাই প্রথমেই “রেজিস্ট্রার অফ জয়েন্ট স্টক কোম্পানি” তে নির্ধারিত ফি দিয়ে দেখে নিন যে, আপনার পছন্দের নামটি এখনো অব্যবহৃত আছে কিনা! এই নেইম ক্লিয়ারেন্স পাবার পর, আপনি রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করবেন। যদি আপনি কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করতে চান তবে সে ক্ষেত্রে আপানর দুই ধরনের ক্যাপিটাল বা মূলধন প্রয়োজন, একটি “অথরাইজড ক্যাপিটাল” ও আরেকটি হলো “পেইড আপ ক্যাপিটাল”।

কোম্পানি খোলার সময় “অথরাইজড ক্যাপিটালের” উপর নির্ভর করে আপনার রেজিস্ট্রেশনের খরচ আসবে। আর “পেইড আপ ক্যাপিটাল” টি হল যে  কোম্পানির একেক জন শেয়ার হোল্ডার কতটুকু শেয়ার সাব্সক্রাইব করল। “পেইড আপ ক্যাপিটাল” যত কম হবে, শেয়ার হোল্ডারদের ট্যাক্স এর হিসাব তত সহজ হবে, কারণ বছর শেষে শেয়ার হোল্ডারদের দেখাতে হয় যে এই পরিমাণ মূলধন সে কোথায় পেল, আর এটি প্রত্যেক ইন্ডিভিজুয়াল শেয়ার হোল্ডারদের ব্যক্তিগত ট্যাক্স ফাইলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

আবার “পার্টনারশিপ ফার্ম” খোলার সময়ও প্রথমে একইভাবে নেইম ক্লিয়ারেন্স নিয়ে,“রেজিস্ট্রার অফ জয়েন্ট স্টক কোম্পানি”তে নির্ধারিত ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশান করতে হয়। তবে এক্ষেত্রে পার্টনারশিপ ডিড বা চুক্তিটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, চুক্তির মাঝে অবশ্যই কে কতটুকু টাকা ইনভেস্ট করছে, লভ্যাংশ কীভাবে বণ্টন হবে, কোনো স্লিপিং পার্টনার আছে কিনা, যদি কোনো পার্টনার মারা যান তবে তার অংশ কী হবে, নতুন পার্টনার কীভাবে সংযুক্ত হবে, পার্টনারদের মাঝে কোনো সমস্যা তৈরি হলে তা কীভাবে সমাধান হবে ইত্যাদি।

Women in Business 1কোম্পানি বা পার্টনারশিপ ফার্ম এর নামে টিন সার্টিফিকেট নিতে হবে। কোম্পানি বা পার্টনারশিপ ফার্ম “রেজিস্ট্রার অফ জয়েন্ট স্টক কোম্পানি” থেকে নিবন্ধন করার পর ও টিন সার্টিফিকেট নেবার পর সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে আবেদন করে “ট্রেড লাইসেন্স” নিতে হবে। এসবের পরই কোম্পানি বা পার্টনারশিপ ফার্ম এর নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসা শুরু করা যায়।

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন নারীদের সহজ শর্তে লোন দেয়। এক্ষেত্রে “ট্রেড লাইসেন্স” খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ “ট্রেড লাইসেন্স” এর মেয়াদের উপর নির্ভর করে লোন দেয়া হয়।

এই সবগুলো কাজ বিশেষ করে মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন এবং পার্টনারশিপ ডিড  একজন অভিজ্ঞ কোম্পানি উপদেষ্টা অথবা আইনজীবী দ্বারা করানো উচিৎ যেন কোনো সমস্যা তৈরি না হয়।  

ফাহরিয়া ফেরদৌস, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট  

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.