লিমন-কার বিচার কে করে?

limonউইমেন চ্যাপ্টার (জুলাই ০১): ঝালকাঠীতে ২০১১ সালের ২৩ মার্চ র‌্যাবের ভাষ্যমতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পা হারান কলেজ ছাত্র লিমন হোসেন। পা হারিয়েও রেহাই পায়নি সে। একের পর এক মামলা তার বিরুদ্ধে দায়ের করেছে প্রশাসন। রাষ্ট্রের প্রশাসন যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবিরত লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে লিমনকে। শুধুমাত্র মানুষের ভালবাসা তাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে, লড়াইয়ে শক্তি জুগাচ্ছে। দেশেই নয়, বিদেশেও ব্যাপক আলোড়ন তুলে লিমনের ঘটনাটি।
হয়রানির সর্বশেষ সংযোজন, র‌্যাবের করা অস্ত্র মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঝালকাঠীর বিশেষ ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক কিরণ শংকর হালদার সোমবার লিমনের মায়ের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়ে অভিযোগ গঠন করেন। এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ২৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

লিমনকে গুলি করার ঘটনায় তার মা হেনোয়ারা বেগম ছয় র‌্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে লিমনকে পঙ্গু করা ও গুলি করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন।
এদিকে র্যাব এ ঘটনায় লিমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ঘটনার রাতেই রাজাপুর থানায় দুটি মামলা করে।
আদালতের এ আদেশে ‘ন্যায় বিচার উপেক্ষিত’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিমনের আইনজীবী আককাস সিকদার।

তিনি বলেন, “ঘটনার দিন অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকা লিমনের চারপাশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার দেখিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পিস্তলের মধ্যে থাকা এক রাউন্ড গুলি লিমনের চার পাশে পড়ে থাকতে পারে না, তা কোনো এক পাশে অথবা তার সাথে থাকতে পারে। মামলার এমন তদন্ত প্রতিবেদনই প্রমাণ করে অভিযোগটি একেবারেই সাজানো।”
আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান তিনি।
আদালতের আদেশের পর লিমন বলেন, “ঝালকাঠী আদালতে এমন বিচার পাবো তা স্বপ্নেও ভাবিনি।”
নিজের ছেলেকে নির্দোষ দাবি করে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বলেন, “র‌্যাবের পক্ষে এই আদেশ অইছে, আমি হাইকোর্টে যামু, আমার পোলা নির্দোষ। র‌্যাব ওরে গুলি হইরা পঙ্গু হরছে, হাইকোর্টে তা প্রমাণ অইবে।”

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.