শিশুটির কান্না সহ্য হচ্ছে না আপা

ফারহানা রহমান: খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে মা’টাকে যখন তারা কোপাচ্ছিল তখন ওই শিশুটি কী করছিল? সে কি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়েছিল? নাকি মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল? নাকি চুপচাপ দাঁড়িয়ে ভাবছিল, তার বাবা যেহেতু পুলিশ, তার মা হয়তো বেঁচে যাবে। হয়তো শিশুমনে ধারণা আছে, পুলিশকে বা তার কাছের মানুষদের কেউ কিছু করতে পারে না।

Farhana 71
ফারহানা রহমান

খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে — আচ্ছা বাচ্চাটি কি আদৌ ভেবেছিল যে মায়ের বুকে গতরাতে সে আর তার বোন ঘুমিয়েছিল, সেটি আজ থেকে নাই হয়ে যাবে? তারা কোলের খোঁজে ঘুরে বেড়াবে, কখনও কাঁদবে, আবদার করবে, কখনও হয়তো কেউ কেউ নেবে আত্মীয়তার খাতিরেই। কিন্তু মায়ের ভালোবাসা সেটা কিভাবে ফেরত পাবে?

এই যে এতোটা বেলা হয়ে গেল, মা-তো আর প্রতিদিনের মতোন খাবার সাধছে না তাদের, কপট রাগও দেখাচ্ছে না খাচ্ছে না বলে। বাসা ভর্তি মানুষ আজ, কিন্তু শিশু দুটির মন তো খুঁজে বেড়াচ্ছে মাকে। বড় যে জন, সে তো দেখেছে সেই দৃশ্য। হয়তো সে একে ‘খারাপ স্বপ্ন’ ‘ভয়ের স্বপ্ন’ বলে মনে করতে চাইছে। কিন্তু ছোট্ট যে বোনটা, তার বয়স মাত্র চার বছর। সে তো কিছুই বোঝে না। সে তো নিশ্চয়ই ভিড়ের মধ্যে মাকেই খুঁজছে। খুব জানতে ইচ্ছে করছে এসব কিছুই।

আমিও যে মা, এক মূহূর্ত নিজেকে পুলিশ সুপারের স্ত্রী মিতুর স্থানে বসিয়ে দেখলাম, খুব, খুউব কষ্ট হচ্ছে ভেবেই।
ঠিক এই প্রসঙ্গে মনে পড়ছে বহু বছর আগে এক বোন তার শিশু ভাইটিকে হারিয়েছিল আততায়ীদের হাতে, হারিয়েছিল বাবা-মা সহ সবাইকে। তারপর কেটে গেছে বহু বছর, এখনও সেই কান্না শেষ হয়নি।

তিনি, তার সাথে অনেকে এখনও কেঁদে চলেছেন। সেসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছেন, করবেন। সেসব হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণে আমাদের প্রাণ এখন ওষ্ঠাগত। তাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপত্তায় আইশৃংখলা বাহিনীর জীবন জেরবার হয়ে যাচ্ছে।  

তারপর সেই রক্তের দাগের স্মৃতি মনে করে কদিন পর পর কাইন্দা ভাসাই। অতি চোখের পানিতে মহান মানুষটিকেও বানিয়ে ফেলেছি ত্যানা ত্যানা।
এ সমস্ত কাদুনীতে আমরা যখন ব্যস্ত, তখন দেশজুড়ে চলছে আরেক হত্যাযজ্ঞ। আমরা অধমরা শুধু আবেদন-নিবেদন জানিয়ে যাচ্ছি, ‘বিচার কর’ ‘বিচার কর’।  ঊনারা দাঁতের বিজ্ঞাপন করে বোকা বাক্সে মুখ চোখা করে বাণী অাওড়াচ্ছেন।
আজ পর্যন্ত এ সমস্ত কোনও হত্যাযজ্ঞের যখন কোনও লেজও ছোঁয়া যায়নি, তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করছেন ৭০ শতাংশ সফলতার।

এতো মিথ্যাচার কী করে সম্ভব! এই মিথ্যাচারের কারণে বার বার সুযোগ পায় তারা। খালি হচ্ছে ভালোবাসার কোলগুলো। কিন্তু তাদের চেতনায় বোধ জাগে না। অব্যাহত আছে শেয়াল পণ্ডিতের কুমিরের বাচ্চা প্রদর্শন।
হাসিনা আপাগো, এই যদি চলতে থাকে, আপনাদের মধ্যম আয়ের দেশ, প্রবৃদ্ধি, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, পদ্মাসেতু কোনও কিছুই পানি পাবে না, যদি না আপনারা আমাদের প্রাণ রক্ষা করতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, আর কতো হত্যাকাণ্ড ঘটলে আপনারা নড়েচড়ে বসবেন? আর কবে আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের অকর্মণ্যতার মিথ্যাচার বন্ধ করবেন? আপনাদের দুর্বলতার শিকার কেন বার বার আমরা হবো? কোনওভাবেই এসব আর সহ্য হচ্ছে না।

বারবার নিজের সন্তানের মুখ ভেসে উঠছে। যেকোনও দিন কী আমার শিশুটিও গণমাধ্যমের খবর হবে? আপনি, আপনারা নিরাপত্তা দিতে না পারলে বলেন, আমরা এই দেশ থেকে চলে যাই।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.