টেক দ্য রিভেঞ্জ, শো নো মার্সি

সুমন্দভাষিণী: আজ একজন পুলিশ সুপারের স্ত্রীকে চট্টগ্রামে ছয় বছরের শিশু সন্তানের সামনে ছুরিকাঘাত ও মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কী বলবো? পুলিশ সুপারকে শাস্তি দিতেই এই হত্যাকাণ্ড? নাকি এতোদিন যা বাকি ছিল, সেই নারী হত্যা শুরু হলো এর মধ্য দিয়ে? যেই হত্যা করুক না কেন, এর মধ্য দিয়ে তারা একটা মেসেজ দিয়ে গেল যে, কেউ বাকি থাকবে না।

Babul Akhter Policeশুনেছি ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার ‘সৎ’ হিসেবে বেশ নাম কুড়িয়েছিলেন। একাধিকবার সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্টস মেডেল পেয়েছেন। বাবুল আক্তারের স্বপ্ন ছিলো ছোট্ট একটা জেলায় এসপি হয়ে যাওয়া, যেখানে মানুষ দরজা জানালা খুলে ঘুমাবে। আহ্, এখন ঊনি যদি দমে যান, এমনকি পীর-আউলিয়াও হয়ে যান, আমরা কি খুব একটা দোষ দিতে পারবো?

খবরে জানা গেছে, অসংখ্যবার নিজের জীবন বিপন্ন করে অপরাধীদের ধরেছেন, জঙ্গী দমন করেছেন। হয়তো তারই বলী হতে হলো তার স্ত্রীকে, তাও আবার খোদ সন্তানের সামনে।

টেরোরিস্টদের কাছে মুর্তিমান আতঙ্কের নাম বাবুল আক্তার্। তিনি একজন লিজেন্ড। শিক্ষিকা তানিয়া হত্যারহস্য উদ্ঘাটন; ১৪ বছরের কিশোর জাভেদকে অহরণকারীদের হাত থেকে অক্ষত উদ্ধার ও অপহরণরহস্য উদ্ঘাটন; গৃহকর্মী রুমাকে হত্যার পর পুড়িয়ে সব আলামত নষ্টের পরও সূত্রহীন সেই হত্যাকাণ্ডের সূত্র উদ্ঘাটন করে আসামিদের গ্রেপ্তার; রাউজানের বেসরকারি ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৩৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা চুরির হোতা গ্র্যাজুয়েট চোরচক্রকে গ্রেপ্তার; চট্টগ্রামের ভয়ংকর ডাকাত সর্দার খলিলকে ৯ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার, অজ্ঞান-মলমপার্টি-মোটর সাইকেল চোরচক্র গ্রেপ্তার, ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রকেট লঞ্চার, ছয় অস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার, দুর্ধর্ষ ক্যাডার বিধান বড়ুয়ার কাছ থেকে জি-থ্রি রাইফেল উদ্ধার; চট্টগ্রামের কাদের ডাকাত ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ত্রাস কিলার ওসমানকে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করেছেন বাবুল আক্তার।

সুতরাং তার প্রতি বিরাগভাজন না হওয়ার কোনোই কারণ নেই, সে চোর-ডাকাতই হোক বা প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজই হোক।

এইদেশে সততার যে কোনো মূল্য নেই, তা আবারও প্রমাণিত হলো। খুনিরা কাউকে ছাড় দিচ্ছে না, আপনাকে না পেলে আপনার স্ত্রী/স্বামী অথবা সন্তানকেই ওরা ধরবে। এর আগে পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রিজওয়ানা হাসানকে চুপ করিয়ে দিতে দেখেছি তার স্বামীকে অপহরণের মাধ্যমে। একে একে আমরা সবাই চুপ হয়ে যাবো একদিন, সরকার সেইদিনের অপেক্ষাতেই আছে।

23160এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রাথমিকভাবে ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’কে দায়ী করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল। এটাকে আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলবেন না নিশ্চয়ই।

একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনার বিচার তো হয়ই না, বরং মৃত ব্যক্তিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। এ এক নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি কেন খুন হলেন তার পক্ষে সাফাই গাইবার জন্য উঠেপড়ে লাগে রাষ্ট্র, তার লেখালেখি খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়, মৃত যদি লেখক হন, তবে তো কথাই নেই।  

এখন পুলিশ সুপারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের কোন লেখাটা খতিয়ে দেখা হবে? তার ফেসবুক, টুইটার অ্যাকাউন্ট?

সিলেটটুডে’র সম্পাদক কবির য়াহমদ ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, মাহমুদা আক্তারের লেখালেখি খতিয়ে দেখে কোন কিছু পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর স্বামীর পেশাগত জীবনে জঙ্গিবিরোধী অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া গেছে, এবং সেটা একাধিকবার। ফলে সেটা একপ্রকার “সীমা লঙ্ঘন” এবং অতি অবশ্যই “বিচ্ছিন্ন ঘটনা”।

আমরা এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে পার করছি জীবন, যেখানে ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা ছাড়া আর কিছুই ঘটছে না। রাষ্ট্র তার নাগরিকের নিরাপত্তার দায় এড়াতে চাইছে, সরকার প্রধান নিজের গদি অটুট রাখতে মরীয়া, যে কারও সাথে আঁতাতে অগ্রগামী।

আমরা সাধারণ পাবলিক কোন ছাইপাশ, ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হয়ে কেবলই লাফাই।

মাহমুদা আক্তারকেও চিনি না, বাবুল আক্তারকেও না। শুধু জানি একজন মানুষ খুন হয়েছে, একজন স্ত্রী খুন হয়েছে, একজন মা তার ছোট্ট সন্তানের চোখের সামনে নির্মমভাবে খুন হয়েছে। ছবিতে দেখছি, এসপি বাবুল সাহেব তার দুই সন্তানকে বুকে চেপে নির্বিকার হয়ে আছেন। মেয়েটির এখনও বোঝার বয়স হয়নি, ছেলেটি তার বাবাকে ধরে কাঁদছে।

এই ছেলেটি কী ধরনের মানসিক বিভীষিকার মধ্য দিয়ে বড় হবে? যে রাষ্ট্রে সাধারণ চিকিৎসাই নেই, সেখানে মানসিক চিকিৎসার দাবিই বা করবো কোন মুখে? এই ছেলেটি কি আদৌ ‘বড়’ হবে?

অন্য একজনের স্ট্যাটাস থেকে ধার করে এটাই বলতে পারি, প্রতিশোধ নেয়া হোক। মার্সিলেস রিভেঞ্জ। শুট টু কিল। এটা পুলিশ বাহিনীর প্রতি আঘাত। সমগ্র পুলিশ ডিপার্টমেন্ট মাঠে নামুক। নিষ্ঠুরতা কাকে বলে দেখানো হোক। মানবতার গুষ্ঠি কিলাই।

গো ফাইন্ড দা বাস্টার্ডস

টেক দা রিভেঞ্জ

শো নো মার্সি

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.