হ্যাট্রিক শিরোপা জিতলো ব্রাজিল

0

M_Id_397977_Brazil_confederation_cupউইমেন চ্যাপ্টার (জুলাই ১): কথায় আছে পরিসংখ্যান মিথ্যা বলেনা। তবুও ব্যাপারটি যখন ফুটবল তখন ওই ৯০ মিনিটই সব। তার উপরে খেলার জগতে ‘রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙ্গার জন্য’ এমন কথা তো চালু আছেই।

এই দিনে বিপক্ষের সকল হিসাব নিকাশ বদলে দিয়েছে স্কলারির তরুণ ছাত্ররা। ম্যাচের আগে অনেকেই একপেশে খেলা দেখে ফেললেও খেলাটি ঠিকই একপেশেই হয়েছে বলতে গেলে। কিন্তু হয়েছে সবার ধারণার উল্টো দিকে।
স্পেনকে অনেকেই প্রথমবারের মত কনফেডারেশান্স কাপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখে ফেললেও নেইমার, অস্কার, ফ্রেদরা মাঠে নামার সাথে সাথেই হিসাব উলটে যায়। দেড় মিনিটের মাথায় ফ্রেডের দেয়া গোল থেকেই শুরু হয় ব্রাজিলের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
এক গোল পিছিয়ে গোল পাওয়ার জন্য যখন স্পেন মরিয়া, তখনই ব্রাজিল দেখায় রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক খেলার অসাধারণ প্রদর্শনী।
ইনিয়েস্তা, তরেস, জাভিরা একের পর এক সাজানো আক্রমণের চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের ডি-বক্সের সামনে এসেই খেই হারিয়ে ফেলছিলো। ব্রাজিলের অসাধারণ রক্ষণভাগ খুবই দক্ষতার সাথে নিজেদের জালকে রক্ষা করছিলেন। একবার তো লুইস রীতিমত নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন সিজারের হয়ে।
তার কিছুক্ষণ পরেই ৪৪ মিনিটের মাথায় আক্রমণে ব্রাজিল, বল নেইমারের পায়ে। ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকেই বল পাস করেন অস্কারের কাছে। অস্কার কিছুক্ষণ সময় নিয়ে আবার নেইমারকে দিলে নেইমারের জোরালো শর্টে ব্যাবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২-০ তে।
নেইমার, সেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ পুরষ্কার বিজয়ীকে স্পেনের খেলোয়াড়রা প্রতিহত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলো। নেইমারকে অবৈধভাবে ট্যাকল দিয়ে রামোস হলুদ কার্ড পেয়ে বসেন।
নেইমারকে আটকে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো স্পেনের জন্য। ৬৮ মিনিটের মাথায় নেইমারকে আটকাতে গিয়ে ভয়ানক এক ফাউল করে বসেন স্পেনের ডিফেন্ডার পিকে, ফলাফল হিসেবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
এদিকে ততক্ষণে ৪৭ মিনিটের মাথায় নেইমারের ক্রস থেকে ফ্রেড একটি অসাধারণ গোল ব্রাজিলের জয়কে অবশ্যম্ভাবি করে দেয়।
প্রথম গোল হওয়ার পর থেকে স্পেনের খেলা ছিলো একেবারেই বিক্ষিপ্ত। তবুও ব্যবধান কমানোর সুযোগ যে একেবারেই আসেনি তা কিন্তু নয়। একটি পেনাল্টিও পায় স্পেন। রামোসের করা পেনালটি শর্টটি সাইডবারের বাইরে দিয়ে যায়। এ ছাড়াও স্পেনের অনেক সম্ভাবনাময় আক্রমণ খুবই দক্ষতার সাথে অকৃতকার্য করে দিয়েছে ব্রাজিলের গোলরক্ষক সিজার।

এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত কনফেডারেশান্স কাপ নিজেদের করে নিলো ব্রাজিল। ১৯৭৫ সালের পর থেকে ব্রাজিল নিজের মাটিতে কখনো হারেনি। এটাই ছিল এই জয়ের পিছনের মূলমন্ত্র। স্কলারির বিশ্বাস যেন আরও বেড়েই গেল ২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে।
চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে অভিনন্দন…

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ২,১০৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.