জাত চিনতে কি পৈতা লাগে?

শারমিন সারাহ: মাহিয়া মাহীর বিয়ের খবরের মাধ্যমে তাকে চিনলাম। দুঃখিত আমি ঊনাকে আগে চিনতাম না, আমি ক্ষ্যাত। মাহির ফুপাতো শ্বশুর মারা গেছে, তার আগের বিয়ে, স্বামীর বাবার কয়লার ব্যবসা সব জেনে ফেললাম।

ভারতের রত্ন অ্যাশের বেগুনি ঠোঁটের ইতিকথা, মুস্তাফিজের কাছে বাংলা শিখতে চাওয়া, এই খবরগুলো ওদের আসল প্রতিভাকে ভুলিয়ে ওদের শুধুই সেলিব্রেটি বানিয়ে রাখে।

Sharmin Sarahআমাদের দেশের সাংবাদিকদেরও আসল কাজটি বাদ দিয়ে একেকজনের সেলিব্রেটি হবার চেষ্টা বহাল থাকে। সেই একুশে টিভি থেকে ওদের এই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল, এর আগে সাংবাদিকরা নিজের পেশা ও অবস্থান পোক্ত করা নিয়ে বছরের পর বছর লড়াই করতেন। যত টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা বা অনলাইন, ততো যোগ্য সাংবাদিক নি:সন্দেহে নেই।

দেশে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হন সরকারি মেডিকেল থেকে পাশ করা সদ্য গ্র্যাজুয়েটরা। একইভাবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে কিছু নামী দামী প্রতিষ্ঠানে হয় বিদেশ থেকে এক খানা মাস্টার্স অথবা আপাতদৃষ্টিতে একটু সাধারণ লেভেলের প্রতিষ্ঠান হলে দেশের মাস্টার্স করলেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর যোগ্যতা হয়ে যায়। সদ্য গ্র্যাজুয়েটরা সবাই প্রথম শ্রেণীতে প্রথম নন। তারা কী শিখাচ্ছেন আর এর পরিণতি কী হচ্ছে তা নিয়ে আমাদের কারো মাথা ব্যথা নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করছে আর আমাদের ছেলেমেয়েরা গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে, এতেই সবদিকের সবাই খুশি।

যে ছেলেমেয়ে চার বছরের কোর্স করে গ্র্যাজুয়েট হবার ঠিক যোগ্য না, সেও পড়া শেষে ব্যাঙ্ক বা অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জব পেয়ে যাচ্ছে, টাকা ও ক্ষমতা যার পরিবার নিশ্চিত করতে পারে তার পিছনে ফিরে থাকানোর তেমন দরকার হয় না। কথা হলো এরা যে জব করে যাচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠানের কাজের মান কোন লেভেলের, হোক তা মাল্টিন্যাশনাল।

সবাইকে যখন মাস্টার্স বা এমবিএ হতে হবে শিক্ষিত হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য, তখন শিক্ষক আর শিক্ষার্থীর মান ঠিক থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। সবাই কি মাস্টার্স হবার যোগ্য? সবার কেনই বা এমবি এ হতে হবে এন্ট্রি লেভেলের কাজের জন্য?

এজন্যই মাস্টার্স পাশ করে সরকারি পিয়নের কাজের এপ্লিকেশন পাওয়া যায়। এতে করে যারা এতোদূর পড়াশোনা করতে পারেনি তাদের ভাগ্যকে আরেকবার চালেঞ্জ করা হয়। সবাই যেখানে এম এ পাশ, সেখানে এম এ পাশ না করলে সেই ব্যক্তি শিক্ষিত বলেই বিবেচিত হন না। চাকরি, বিয়ে দুক্ষেত্রেই পড়াশোনা শেষ করা পাত্র খুঁজেন সবাই, পড়াশোনা শেষ মানে ওই মাস্টার্স করা।

রত্নগর্ভা নামের যে পুরস্কার দেশের অনেক মা পেয়েছেন তাদের নিয়ম অনুযায়ী তিনের অধিক সন্তান হলে সর্বনিম্ন তিনজন গ্রাজুয়েট ছেলেমেয়ে থাকতে হবে। বাকি মায়েরা যারা অর্থের বা সুযোগের অভাবে তিনজন বা সকল ছেলেমেয়েকে গ্রাজুয়েট বানাতে পারেননি, তারা কেউই রত্নগর্ভা নন।

ওই নন-গ্রাজুয়েট ছেলেমেয়ে হতে পারে সৎ, নিরীহ ও দেশের জন্য খেটে মরা চাষী, ব্যবসায়ী, হকার, ফেরিওয়ালা কেউ। আর রত্নগর্ভার সার্টিফিকেট পাওয়া মায়ের গ্রাজুয়েট সন্তানেরা হতে পারে দুর্নীতিবাজ, চোর, ডাকাত, সন্ত্রাসী, কিন্তু সমাজে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। গর্ভ নিয়েও যোগ্যতার প্রমাণের ক্যাটাগরি গ্রাজুয়েট সন্তান!

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.