‘বহুগামিতা; বনাম নারীর ‘সতীত্ব’

নাদিয়া ইসলাম: স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মাত্র ৩% প্রাণী সামাজিকভাবে মনোগ্যামাস। অর্থাৎ, ১০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে তিন প্রজাতির প্রাণী মাত্র একজন সঙ্গী নিয়া সারাজীবন কাটাইয়া দিতে পারেন। মানুষ, যথারীতি- সেই ৩% এর ভিতরে পড়েন না।

Feminism 2মানুষ বলতে আমি খালি পুরুষের কথা কইতেছি না, মানুষ অর্থাৎ, হেটারোসেক্সুয়াল নারী, পুরুষ, হোমোসেক্সুয়াল, বাইসেক্সুয়াল, পলিসেক্সুয়াল, প্যানসেক্সুয়াল, ট্রান্সসেক্সুয়াল সব ধরণের মানুষই তার মধ্যে আছেন। পৃথিবীতে এই মূহুর্তে নারী-পুরুষের সেক্স রেশিওঃ ১-১। অর্থাৎ, প্রতি একজন নারীর বিপরীতে একজন পুরুষ আছেন, এবং ভাইস-ভার্সা। ঠিক এই মূহুর্তে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা হিসাব করলে ১০১ জন পুরুষের বিপরীতে নারী আছেন ১০০ জন।

এখন ধর্ম মারফত বহুগামিতা দেখা যাক। পৃথিবীর প্রায় সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক এবং প্রায় সকল ধর্মই পুরুষের বহুগামিতারে খুব আদর এবং আহ্লাদের চোখে দেইখা এরে আইনসিদ্ধ করছেন এই বইলা যে- পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা নাকি অধিক!

ইসলাম একজন পুরুষরে চার বিয়ার অধিকার দিছেন। ওল্ড টেস্টামেন্ট অর্থাৎ তাওরাতে আছে, ‘তিনি যদি নিজের জন্য আরো একজনরে বিয়া করেন, তাইলে তাঁর (স্ত্রীর) খাওয়া দাওয়া, কাপড় এবং তাঁর বৈবাহিক দায়িত্ব যেন তিনি (স্বামী) কোনোভাবে কমাইয়া না দেন।’ (সূত্রঃ এক্সোডাস-২১-১০)

ধর্ম যেইসময় তৈরি হইতেছে সেইসময় পুরুষের বহুবিবাহ হয়তো দরকার ছিলো। সেইসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিমাণ বেশি ছিলো, মেয়েদের সন্তান জন্ম না দিতে পারারে নোংরা চোখে দেখা হইতো (অর্থাৎ, পুরুষেরাও যে বন্ধ্যা হইতে পারেন, তা নিয়া কারো মাথাব্যাথা ছিলো না।) এবং চিকিৎসা পদ্ধতি থার্ডক্লাস লেভেলের ছিলো। আর তাই ‘একমাত্র’ পুরুষের ‘খাই-খাই’ ধইরা রাখার জন্য ‘চ্যাসটিটি’ বা ‘সতীত্ব’ জাতীয় ‘ধর্মীয়’ এবং ‘সামাজিক’ পুরুষতান্ত্রিক কনসেপ্টের প্রয়োজন তৈরি করা হইছিলো, যাতে একজন মেয়ে একের অধিক পুরুষের সাথে না শুইতে পারেন, যাতে তিনি বিয়ার আগে ও পরে অন্যের সাথে সম্পর্কে জড়াইয়া একগাদা পোলাপাইন জন্ম দিতে না পারেন। তখন কনডম বা অন্যান্য কন্ট্রাসেপশানের তেমন আবিষ্কার হয় নাই, হয়তো সতীত্ব সেই সময় দরকারও ছিলো।

আজকে, এইযুগে, মানে ২০১৬ সালে সতীত্ব কী কারণে দরকার? আজকের দিনে মৌলবাদী এবং মাথা খারাপরা ছাড়া কেউ বহু বিবাহের কথা চিন্তা করেন না। প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত নারী পুরুষ বিয়ার আগে এক বা একাধিক ‘সুস্থ’ যৌনসম্পর্ক করেন। তাইলে আজকে একজন মেয়ে পঞ্চাশ জনের সাথে শুইলে বেশ্যা হবেন ক্যানো? একজন মেয়ে বিয়ার আগে ক্যানো যৌনসম্পর্ক করতে পারবেন না? যেইসব পুরুষ বিয়ার আগে যৌনসম্পর্ক করতেছেন, তারা তাইলে কাদের সাথে বিয়ার আগে যৌনসম্পর্ক করতেছেন? হাওয়া বাতাসের সাথে?

যৌনসম্পর্ক কে কোথায় ক্যামনে কার সাথে কাদের সাথে করবেন, তা ব্যক্তির ইচ্ছার উপরে নির্ভর করে। সমাজ গত কয়েক হাজার বছর পুরুষের বিবাহ-পূর্ববর্তী, বিবাহ-মধ্যবর্তী, বিবাহ-পরবর্তী, ইহকাল-পরবর্তী যৌনাচারের মেলা দেইখা আসছেন। কোথাও সমাজ ভাইঙ্গা গুড়াগুড়া হইয়া যায় নাই। মেয়েরাও একমাত্র বিবাহ-মধ্যবর্তী সময় বাদে সেই সকল পুরুষের সাথে যৌনাচার করছেন, গোপনে। এখন মেয়েরা যদি সামনে আইসা যৌনাচার করতে চান, করুক না, আপনি বাধা দেওয়ার কে?

আপনি নারী হইয়া এক পুরুষের সাথে সারাজীবন ক্যান, সারামরণও থাকেন, বেহেস্তে আপনার স্বামীর ৭২ হুরের ‘অর্জি’তে আপনিও বইসা থাকেন, কেউ না করেন নাই, কিন্তু যেইসব নারী একের অধিক পুরুষের সাথে বিয়ার আগে শুইবেন, আপনি তারে আটকাইতে পারবেন না। গত কয়েক হাজার বছর কেউ আটকাইতে পারেন নাই। খালি লজ্জা-টজ্জা হয়তো দিতে পারছেন। হয়তো পুড়াইয়া মারতে পারছেন। হয়তো আপনার সাথে শোয়ার জন্য আপনিই বাকি পুরুষদের সাথে গলা মিলাইয়া মেয়েদের গায়ে পাথর ছুইড়া খুন করছেন। কেননা উনি তো একলা একলা শুইছিলেন। কেননা আপনার তাতে কোনো পার্টিসিপেশান ছিলো না হাহা!!!

সতীত্ব একটা নোংরা পুরুষতান্ত্রিক কনসেপ্ট। আমার শরীর অন্যে ধরলে বা অন্যে দেখলে আমি অপবিত্র হইয়া যাই না। আমি ধর্ষিত হইলেও অপবিত্র হই না। আমি মজসিদ-মন্দির-গীর্জা না যে আমার শরীর পবিত্র রাখতে হবে। যেই একই শরীর নিয়া পুরুষ পঞ্চাশ জনের সাথে শুইলে তার শরীর অপবিত্র হয় না, সেই শরীর আমি যার সাথে ইচ্ছা তার সাথেই শেয়ার করতে পারি, যদি আমি চাই! যদি আমি চাই! পাপ আমার একলার হবে আপনার সাথে শুইলে? পাপের কনসেপ্ট যদি এই হয়, তাইলে দরকার নাই আমার পূণ্যের!

আমি বহুগামিতা প্রমোট করতে চাই না। আমার নিজের ব্যক্তিগত জীবনে আমি এককালীন মনোগ্যামিস্ট। কিন্তু যখন ‘সতীত্ব’ কনসেপ্টের জন্য সাবিরার মত মেয়েরা আত্মহত্যা করেন, যখন এই কনসেপ্টের জন্য হ্যাপি-রুবেল নাটক হয়, যখন ১৭ বছরের ধর্ষিত লিন্ডসে আর্মস্ট্রং লজ্জায় আত্মহত্যা করেন, তখন ‘সতীত্ব’ নামক কনসেপ্টরে ছাইড়া দেওয়ার মতো কারণ আমি পাই না।

ডিয়ার পুরুষ, আপনি একগামী হন, আমি আপনার জন্য একগামী হইতে রাজি। আপনি পঞ্চাশ জনের সাথে ইহকাল-পরকালে শুইবেন, আর আমি বইসা আঙ্গুল চুষতে চুষতে আপনাদের পর্ন-মুভি দেখবো, হিসাব এতো সহজ না গো! আপনি আমার সাথে শুইলে আপনার সতীত্ব নিয়া টানাটানি হবে না, শুধু আমার সতীত্ব আসমানে উড়াল দিবে, এমন জিনিসও আমি মানি না গো!

দুনিয়া নাকি সমান অধিকারের! আপনি আমারে কিছু দিবেন না আমি জানি, কিন্তু আমি কি নিজেরটা নিজে আদায় কইরা নিতে জানি না, ডাল্লিং?

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Apnar mullayon keno biporit linger ekjon manush k die korsen. Apni apnar linger manush nie apnar mullayon shuru korun. Purush ja pare, kore sheita apni kore dekhie apnar mullayon korben. What a funny..purush keno apnar key point hobe apnake tule dorte. You have your own good activity. Kajei valo meyer gunaboli gulo nie apnake measure korun. Purusher ta nie na. khamaka dhormer dosh dien na. apnar moto dui line analysis kore dhormer kothagula ashe nai.

AMI AVIVUTO.AJANMOLALITO SONGSKARKE DURE SORIYE REKHEJUKTIBADI MON NIYE ZODI LEKIKAR KATHAGULI MANOZOG DIYE ANUDHABON KARA ZAY TAHOLE BODH HOY BAHUJUG DHORE PRATISTHITO ANEK ”CONCEPT”ER VITTI NORHE ZABE.NOT NECESSARILYZE LEKHIKAR PRATYEKTI KATHAI SAKOLER KACHE MANONIYO HABE. KINTU E KATHA 1000 BAR SATYA ZE NARI CHIROKAL ..DISCRIMINATION”ER SHIKAR.LEKHIKA ZATHARTHOI DEKHIYECHEN ZE KARONE NARIKE ASATI BOLE SHASTI DEOA HOCCHE SE KAJTI TO KONO PURUSHER SAHOZOG CHARHA SAMVOB NOY TABE SEKHANE PURUSH KI KORE CHARH PEYE ZAY !—- EI EKOBINGSHO SHATABDITE AMAR SWAPNER ATIT AKTA JINISH SEDIN KAGOJE PORHLAM : AKTA DESHER RAJA PRATI BACHOR PROKASHYE AK DONGOL NARIR SATITWER PORIKKHA NEBAR POR TADER MODHYO THEKE AKJOINKE TAR RANI KAREN. AMI STOMVITO HOYE ZAY ZE ER POREO PRITHIBIR ANYANYO RASTRO KATO SAHAJVABE SEI RAJAR SONGE TADER SAMPARKO REKHE ZACCHEN !!! NARITWER EI CHAROM ABOMANONAY AKJON PURUSH HOYE AMAR MATHA HET HOYE ZAY ——- KONO PRATIKAR KARAR MATO KKHAMOTA AMAR NEI BOLE NIJER PRATI DHIKKAR JANMAY .

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.