রাজনীতিতে নারী: এক অনিবার্য নেমেসিস

মাসকাওয়াথ আহসান: আমরা স্টার প্লাসের নাটক দেখে নাক সিটকাই। ভাবি কোত্থেকে যে এসব গল্পের প্লট পায় এরা! আসলে এসব প্লট জীবন থেকে নেয়া। ভারতীয় উপমহাদেশের গৃহ থেকে রাজগৃহ সর্বত্রই এই আত্মঘাতী গল্পের দেখা মেলে।

মারাঠি সেনাপতি বাজিরাও যিনি ইংরেজদের প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তার মা ছিলেন কট্টর হিন্দু। তিনি মুসলমানদের দু’চোখে দেখতে পারতেন না। ফলে বাজিরাও-এর মুসলমান স্ত্রী মাস্তানী তার রুদ্র রোষের স্বীকার হন। এই কট্টর হিন্দু মায়ের অত্যাচারে বাজিরাও নামের সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটে।

Maskwaith Ahsanমোঘল সম্রাট আকবরের পরমত-সহিষ্ণুতা এবং হিন্দু-মুসলমানকে বন্ধুতার বন্ধনে একসঙ্গে রাখার প্রচেষ্টার কথা সবাই জানে। এই চেষ্টা ব্যর্থ হয় আকবরের কট্টর মুসলমান ফুপুর কারণে, যিনি আকবরের হিন্দু স্ত্রী যোধাকে কখনোই মেনে নিতে পারেননি।

ভারত বিভাগের আগে পাকিস্তানের জাতির জনক জিন্নাহ এ কাজটি ঠিক হচ্ছে কীনা তা নিশ্চিত ছিলেন না। একদিকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক (সনাতনধর্মী) জানিয়ে দিয়েছিলেন ঊনার মৃত্যু সমাসন্ন। কিন্তু জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহ’র রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছিলো। ঊনি বার বার প্রভাবিত করেছেন দ্বিজাতিতত্ত্ব বাস্তবায়নে। অথচ জিন্নাহ বলেছিলেন, ‘আমি যে বোম্বেতে আমার আসল গৃহে ফিরে যেতে চাই’।

ভারতের জাতির জনক গান্ধীজীর জীবনে কোন নারীর প্রভাব ছিলো না বলে উনি অসাম্প্রদায়িক হয়ে জন্মেছিলেন, সব বিশ্বাসের মানুষের প্রতি সমান ভালোবাসা নিয়ে মারা যান। কানপড়া দেবার লোক না থাকলে আদর্শিক বিচ্যুতির আশংকা কমে আসে।

অন্যদিকে নেহেরু ছলে-বলে-কৌশলে যে কোনোভাবে প্রধানমন্ত্রী হোক এই প্রত্যাশায় লেডি মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে তার কৌশলী সখ্যকে পরিবার থেকে ওভারলুক করা হয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য হওয়া বলে কথা।

পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রীরও খুব শখ ছিলো ভোটে হেরে গেলেও ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী হোক। ফলে লারকানায় “বাংলাদেশ বিরোধী পাঞ্জাবের সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকটির” চমৎকার আয়োজন করেছিলেন তিনি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ইয়াহিয়া খানের বান্ধবী জেনারেল রাণী সারাক্ষণ ইয়াহিয়াকে “চার বোতল হুইস্কি; কাম মেরা টুইস্টকি”তে ব্যস্ত রাখেন। গণহত্যার বাস্তবতা থেকে তাকে অনেক দূরে রেখেছিলেন জেনারেল রাণী।

বাংলাদেশের জাতির জনকের জীবনটি রাজনৈতিক ব্যস্ততায় কেটেছে। ফলে সন্তানদের মাঝে নিজের আদর্শিক ঋজুতা তৈরির সময় তার ছিলো না। দায়িত্বটি যার ছিলো তিনি খুব সফল হয়েছেন কীনা সময়ই তা বলে দেবে।

নেপোলিয়ান বোনাপার্ট বলেছিলেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও; আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো’।

পাকিস্তানের সেনা শাসক জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশের সেনা শাসক জিয়াউর রহমান উভয়ের স্ত্রীই শিক্ষিত ছিলেন না। সেটি তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে নানাভাবে তিক্ত করেছে। উভয়ের স্ত্রীই পটের বিবি সেজে ফার্স্ট লেডি হয়ে ঘুরেছেন। ছেলেরা মানুষ হয়নি কারোরই।

Indiraইন্দিরা গান্ধী লৌহ মানবীর তকমা জুড়ে নিয়ে স্বর্ণমন্দির হামলা করে, শিখ হত্যা করে নিজের আসল রুপটি জানিয়ে দিয়েছিলেন। দুই ছেলের স্ত্রী’র সঙ্গে তার যে আচরণের ছবি আমরা সাংবাদিক খুশওয়ান্ত সিং-এর বর্ণনায় পাই; ওটা কলতলারই ছবি। শিক্ষা-দীক্ষা কোন কাজে আসে না ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ ক্ষমতায়িত নারীর। এইসব দেখেশুনে রাহুল গান্ধী এখন পর্যন্ত অকৃতদার থেকে গেলেন। তার ভারতীয় কোনো মেয়েকে বিয়ের ইচ্ছা এখনও দেখা যাচ্ছে না।

বেনজির ভুট্টো অনেক যোগ্য লোক ফেলে আসিফ আলী জারদারীকে বিয়ে করে পাকিস্তানের জনগণকে এক মি টেন পার্সেন্ট চোর নেতা উপহার দিয়েছেন। জারদারী গোত্রটি পেশাদার ডাকাত পরিবার; একেবারে আক্ষরিক অর্থে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পানামা লিকসের মাধ্যমে পাজামা খুলে যাবার পরও তার মেয়ে মরিয়ম নির্লজ্জের মতো বাবার অপরাধ ডিনাই ও জাস্টিফাই করে চলেছে।

বাংলাদেশে কাগুজে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ কতোটা উচ্চাভিলাষী এবং সবসময় ভিআইপি প্রোটোকল পাবার লোভে এরশাদের সঙ্গে ফেভিকলের মতো লেগে থাকায় তা বোঝা যায়; বুড়ো বানর নাচিয়ে পদ-পদবী নিতেই তিনি এতোদিন অপেক্ষা করেছেন।

নরেন্দ্র মোদী লোকটি অকৃতদার হলেও তার কান ভারী করতে বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তো রয়েছেনই।

শেখ হাসিনা, মমতা ব্যানার্জী, খালেদা জিয়ার কথা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। সবাই তাদের কার্যকলাপ দেখছেন। যাদের কথা এ লেখায় আলোচনা করেছি; সবাই প্রবীণ এবং সম্মানীয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনীতিতে “নারী” যে এক অনিবার্য নেমেসিস; আশা রাখি সমসাময়িক মুক্তভাবনার নারীরা বিষয়টিকে নৈর্ব্যক্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।

ইতালির নারী সোনিয়া গান্ধীই একমাত্র নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি ক্ষমতা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। প্রজ্ঞাবান ড. মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মান দিয়ে নিজে দল সামলেছেন।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখক কি বললেন বুঝলাম না। মোদী নিজে খারাপ না, কিন্তু মহিলার কুবুদ্ধিতে খারাপ? আকবর বিশাল সম্রাট, কিন্তু তার কুচক্রি ফুপুর কারনে নিজের বউকে সম্মান দিতে পারলেন না? গান্ধী ভাল, কারন তাকে কোন মহিলা কুবুদ্ধি দেয় নাই? সামারিঃ পলিটিক্যাল যত গ্যাঞ্জাম, সব কিছুর পেছনে মহিলাদের হাত। এই রকম জঘন্য একটা লেখা ওম্যান চ্যাপ্টার পাবলিশ করল কি ভাবে?

ইয়াহিয়ার উদাহরণটা বেস্ট। মহিলা হুইস্কি খাইয়ে গনহত্যার বাস্তবতা থেকে তাকে দূরে রেখেছিল!!! নয়তো ইয়াহিয়া ফেরেশতা হয়ে যেত মনে হয়। “এডিটরস পিক” না হয়ে এই লেখা আস্তাকুড়ের পিক হওয়া উচিৎ ছিল।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.