তনু হত্যার বিচার আদায়ে চাই জনজোয়ার

বাকি বিল্লাহ: সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচার চেয়েছিলাম আমরা সবাই- সেই বিচারের দাবি আদায়ের মাহেন্দ্রক্ষণ হাজির হয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে আন্দোলনের গতি বা ইস্যুর প্রতি জাতীয় মনোযোগ কোনোটাই নেই, তার বাস্তব কারণও রয়েছে।

Tonu 2একটা প্রভাবশালী গোষ্ঠী তনু’র খুনীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে- তা ছিল দিনের আলোর মত মত স্পষ্ট। সেই গোষ্ঠীর শক্তি অসীম। তারা স্বয়ং রাষ্ট্র অথবা রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। তারপরেও আশা আছে- জনতার শক্তি দিয়ে আমরা তাদের পরাস্ত করবো।

প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ধামাচাপা দেয়ার প্রচেষ্টার পাশাপাশি এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি কুমিল্লার একটা ইতিবাচক প্রচেষ্টাও দেখা যাচ্ছে। বিভাজনটা একটু একটু করে দেখা যাচ্ছিল, এখন পুরোটাই স্পষ্ট হয়েছে। গত তিনদিনের পত্রিকার রিপোর্টগুলো এই বিভাজনকে একেবারেই প্রকাশ্য করে দিয়েছে। প্রথম ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ছিল একটি মনগড়া প্রহসন। সেখানে তারা ধর্ষণের আলামত পাননি। মাথার পেছনের জখমের কথা বেমালুম চেপে গেছেন তারা। এবং ঘাড়ে নখের আঁচড়কে পোকার কামড় বলে চালিয়ে দিয়েছেন। ব্যাপারটা এমন যে তনু খুনই হয়নি- অকস্মাৎ তার লাশ আবিস্কৃত হয়েছে ক্যান্টনমেন্টে।

ফরেনসিক বিভাগের কাছে সিআইডির পক্ষ থেকে আলামত চাওয়া হলে তারা বলেছেন- যেহেতু আলামতে বিশেষ কিছু পাওয়া যায়নি তাই তারা ওই আলামত সংরক্ষণ করেননি। কী তামাশা! পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ দ্বিতীয়বার কবর থেকে তুলে আবারো ময়না তদন্ত করা হয়েছে। সেই প্রতিবেদন এখনো পর্যন্ত দেয়া হয়নি। এর মধ্যে সিআইডির বরাতে আমরা জেনেছি- তনুর জামাকাপড় থেকে তিনজনের ডিএনএ সনাক্ত করা হয়েছে, স্পার্মের আলামতও মিলেছে।

এখন আবারো জনতার ব্যারিকেড দরকার। নাহলে এইসব আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রভাবশালীদের বিশালাকায় ধামার নীচে আবারো চাপা পড়ে যাবে। অবিলম্বে পরবর্তী ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশের জন্যে তীব্র চাপ সৃষ্টি করা দরকার। সনাক্তকারী ডিএনএ তনুর মায়ের অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে মিলিয়ে দেখা দরকার- প্রভাবশালীরা সেটা করতে বাধা দেবে। সব বাধা গুড়িয়ে দিতে আবার একটা উত্তাল প্লাবন দরকার।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.