খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আমরা

ইশরাত জাহান ঊর্মি: He chose to live in seclusion in a remote temple to attain Buddhist wisdom. Most of his time was devoted to religious rites, prayers and meditation. His family member and locals say it’s out of question that he had any enmity with anyone. ” May all beings to happy” this was what the monk wanted like any other Bouddha Bhikkhu…

Urmiযারা বলছেন তার কোন শত্রু ছিলনা, তারা ভুল বলছেন। কিংবা এভাবে বলা যায়, তিনি হয়তো কাউকে শত্রু ভাবতেন না, কিন্তু তাঁর তো শত্রু ছিল। ইসলাম ধর্মের নন তিনি, এইটাই তো যথেষ্ট তাকে কোপানোর জন্য।

কদিন আগেই নাইখ্যংছড়িতে কাটিয়েছি একটা বিকেল। কী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য! আর শান্ত চারপাশ। আমি একটা পরিত্যক্ত ঘরের দাওয়ায় কাঠের গুড়ির বেঞ্চিতে বসলাম।

মনে হচ্ছিল, সারাটা বিকেল, সারাটা সন্ধ্যা যদি কাটিয়ে দিতে পারতাম ঐ ঘরের দাওয়ায়। নগর থেকে জমা মনের টক্সিন হয়তো কিছুটা কমতো! বসে বসে বিকেল দেখছিলাম। মানুষ দেখছিলাম। দুটো শিশু ঝুড়িভর্তি লিচু নিয়ে যাচ্ছিল, একটু অপুষ্ট, ছোট লিচু।

জানতে চাইলাম, কোথা থেকে আনলে? বাচ্চাগুলো কী যেন বললোও, বুঝতে পারিনি ওদের ভাষা। দ্বিতীয়বার জানতেও চাইনি। কবে কবে যেন আগ্রহী অনুসন্ধিৎসু মনটাও মরে গেছে।

কয়েকটা মেয়েকে দেখলাম, আপাদমস্তক বোরখায় ঢাকা। আমি ওদেরকে দেখি, ওরা আমার থ্রি কোয়ার্টার জিন্সের দিকে তাকিয়ে নিজেদের মধ্যে কী যেন বলাবলি করে।

নাইখ্যংছড়ির লেকটার ওপাড়ে একটা আদিবাসী গ্রাম। সন্ধ্যা হয়ে আসছিল, ফিরতে হবে জঙ্গুলে পথ ধরে, তাই আর ওপাশটায় যাওয়া হয়নি। বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার খবরটা পড়ার পর থেকেই মনে হচ্ছে, ওই মানুষটি নিশ্চয়ই কোথাও বসে মেডিটেশন করছিলেন, নিরালায়। তাকে গলা কেটে খুন করা হয়েছে।

আর রাষ্ট্র বলেছে, মৃত্যুর জন্য স্বজনরাই দায়ী। নিস্তব্ধ পাহাড়ী গ্রাম হতবাক পড়ে থাকে। খুনোখুনি এখন রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মাথায় হিজাব পড়া তনু থেকে শুরু করে পাহাড়ী গ্রামের ভান্তে। বাদ যাবে না কেউ।
আর চুপ করে থাকেন অনুভূতিওয়ালা প্রধানমন্ত্রী। চেলারা বলেন, আস্থা রাখুন। আস্থা রাখতে রাখতে আরেকটি লাশ পড়ে। লাশের পাহাড় জমে। তারপর এক সময় সমস্ত শান্ত হয়ে আসে।

আমরা যারা থাকি লাল লাল নীল নীল বাতি জ্বলা ঢাকার শহরে তারা একসময় আবারও নিজেদের স্বচ্ছন্দ আর ভালো থাকার জন্য অন্য কোনো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাই। এরই মধ্যে কেউ কেউ চুপ হয়ে যান। কাউকে কাউকে চুপ করিয়েও দেওয়া হয় বিচারহীনতার প্রতিবাদ করলে।
আর শ্যামলকান্তি ভক্তর চেহারার দিকে তাকালে আমি জোরে জোরে শ্বাস টানতে থাকি। লিটারালি আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।

আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে। শিক্ষক পিতা। তিনি বৃদ্ধ হলেন, বনস্পতির ছায়া দিলেন সারাজীবন। এই যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সন্ত্রাসী পরিবারের এমপির শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানো, এতে আমি অবাক হই না। আরে শিক্ষকদের তো মার খেয়ে অভ্যাস আছে।

তারা শহীদ মিনারে মার খান, ছাত্রদের কাছে মার খান, ম্যাজিস্ট্রেট, এমপির কাছে মার খান। শিক্ষকদের সম্মান এই দেশ কখনও দ্যায়নি। কালে কালে তারাও পাল্টেছেন। রাজনীতি করেছেন, যাদের সুযোগ আছে ছাত্র পড়ানো থেকে টাকার পেছনে ছোটাটাকে রুটিন আর নিয়মনীতি করে ফেলেছেন।

কিন্তু আমি ভাবি, একজন ছাত্রও কি ডুকরে কেঁদে ওঠার মতো ছিলো না ঐ স্কুলে? আমি আসলেই, রাষ্ট্র, সরকার বা ঐ এমপি নিয়ে কনসার্ন না, আমি কনসার্ন আমাদের নিয়েই।
আমাদের ঝা চকচকে গাড়ি, ব্যাংকক-কুয়ালালামপুর ট্যুর, শাড়ি-গয়না-পারফ্যূমের আদিখ্যেতা সব সবকিছু নিয়ে আমরা যে দিন দিন পরিণত হচ্ছি অসভ্য, বোধশক্তিহীন, আত্নসম্মানজ্ঞানহীন জাতিতে-তার কি হবে? আমাদের কে বাঁচাবে? কোনো প্রধানমন্ত্রী এসে বাঁচাবেন সেই আশায় থাকবো, নাকি নিজেদেরই বাঁচাবো নিজেরা?

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.