দেশটা আসলে চালাচ্ছে কারা?

উইমেন চ্যাপ্টার: একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে তাঁর জায়গা-জমি থেকে উৎখাতের চেষ্টা করছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বা চেতনাধারী লোকজনই। কথাটা শুনতে কানে লাগলেও এই বাংলাদেশে এখন এটাই নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চেতনা যে সেরদরে বিলোচ্ছে, এতেই প্রমাণ মেলে।

ঘটনা অব্যাহত আছে। মুক্তিযোদ্ধার কন্যাকে মেরে আহত করে হাসপাতাল পর্যন্ত পাঠিয়েছে প্রভাবশালীরা। আর সেই মেয়ে হাসপাতালে বেড না পেয়ে মেঝেতে পড়ে আছেন। এইদেশের গুটিকয় যখন মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য ভোগ করছে নানাভাবে, আর দেশের লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা অসহায়-দুস্থ জীবনযাপন করছে, তখন সেই দেশটির ভারসাম্যহীনতা, নৈতিকতাবর্জিত আদর্শ নিয়ে আর প্রশ্ন থাকে না।

Daughter of Freedom fighterজানা গেছে, চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেলুর রহমানের কেনা এক টুকরো জমি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামি লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুর প্রশ্রয়ে দখলের পাঁয়তারা করছে তার দারোয়ান আবু সিদ্দিক এবং তার সংগীরা।

এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে এর আগে নাকি বহুবার মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেলুর রহমানের পরিবারকে লাঞ্ছিত হতে হয়। পর্যায়ক্রমে তার প্রবাসী ছেলে এমনকি মেয়ের জামাইয়ের গায়ে হাত তুলেছে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুর লোকজন; প্রশাসনের কাছে একাধিকবার সাহায্য চেয়েও কোন প্রতিকার মেলেনি।  উপরন্তু সবার সামনেই প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর কাছে বিচার চাইলে তিনি তার দারোয়ান আবু সিদ্দিক আর উপদ্রব করবে না এই শর্তে পরোক্ষভাবে আড়াই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে মামলার খরচের নামে,- এমন অভিযোগও আছে। যা দিতে অস্বীকৃতি জানায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি।

সর্বশেষ ঘটনা হচ্ছে, ওই মুক্তিযোদ্ধার বড় মেয়ে ওই জমিতে বসবাসকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল আনতে গেলে আবু সিদ্দিক ও তার স্ত্রী ঘরে ঢুকে তার উপর হামলা চালায়, রড ও ইট দিয়ে উপুর্যপরি আঘাত করে। এসময় আশেপাশের লোকজনের সহায়তায় মেয়েটি উদ্ধার পেয়ে ডাবলমুড়িং থানায় গেলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পাঠানো হয়। অতঃপর প্রাথমিক চিকিৎসা সেরে তিনি থানায় ফিরে একটি মামলা দায়ের করেন।

বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। দায়ের করা মামলায় ফারজানা কুলসুমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আবু সিদ্দিক তাদের জায়গা দখলে নিতে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। আবু সিদ্দিক নিজেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুর নাম ভাঙ্গিয়ে এ হামলা হয় অভিযোগ করে ফারজানা  বলেন, “বাবা-মা দুজনই শয্যাশায়ী। বড় ভাইও থাকেন বাইরে। ছোটবোনকে নিয়ে আমি বাবার সঙ্গে থাকি।

“প্রতিবেশী আবু সিদ্দিকের মামার কাছ থেকে আমার বাবা আড়াই কড়া জায়গা কেনেন কয়েক বছর আগে। সেটি দখলে নিতে আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চুর নাম ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আবু সিদ্দিক।”

ফারজানা আরও বলেন, নগরীর ডবলমুরিং থানার আবিদার পাড়া এলাকায় তার বাবার কেনা প্রায় এক গণ্ডার কিছু কম একটি জমি রয়েছে। সেখানে একটি সেমি পাকা ঘর তৈরি করে তার চাচাতো বোনের জামাই থাকেন। তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। তার মা ক্যান্সার আক্রান্ত।  স্বামী এবং একমাত্র ভাই মিশুও সুইডেন থাকেন।  

তিনি আরো বলেন, ‘এর আগেও তারা আমার ওপর হমলা করে বলেছিলো, আমি তার কিছুই করতে পারবো না। এবারও হামলার পর একই কথা বলেছে। আগেও একাধিক জিডি করা হয়েছে, কোনও প্রতিকার পাইনি।’

এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মানিক বলেন, “আমরা উভয়পক্ষকে থানায় আসতে অনুরোধ করেছি।”

আগেও কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটে জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত জেনে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিব।”

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে আবু সিদ্দিক প্রকাশ্যে উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটিকে হুমকি ধুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সমর্থন তার উপর আছে তাই প্রশাসন এই ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না।

মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেলুর রহমান-এর সন্তান সাইফুর রহমান মিশু তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সরকার ও প্রশাসনের কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছেন।

Human Chainদারোয়ান আবু সিদ্দিক এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, ধর্ষণের চেষ্টা মামলার আসামী, হত্যা মামলায় দীর্ঘসময় কারাভুক্ত একজন আসামী।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৫ মে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি একটাই, স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের উপরে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা হোক অতি দ্রুত।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.