কুম্ভিরাশ্রু….

0

শাশ্বতী বিপ্লব: পাকিস্তানে মাতম উঠেছে শোকের, প্রচণ্ড চিৎকার আর হাহাকারে ভারী হয়ে আছে বাতাস। নাওয়া খাওয়া ভুলেছে সবাই। চোখ থেকে এতো পানি পড়ছে যে শুনেছি এবছর পাকিস্তানে বন্যা হবে। কাঁদছে অনলাইন ও অফলাইনে।কাঁদছে পেয়ারা পাকিস্তান তার পেয়ারের বান্দার জন্য – বুক ফাটিয়ে, আহাজারি করে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে, নাকি সুরে, হাউ মাউ করে, নীরবে, সরবে। আহ্, বাংলাদেশ, তুমি এত্তোগুলা পচা!

Nizami 1সেই কান্না দেখে পাষাণ হৃদয়ও গলে যায় বুঝি, বালুচর কেঁদে ভাসায় কুমিরের দল। বিশ্বজুড়ে শত নির্বিচার গণহত্যার দিকে চোখ বুঁজে থাকা বিশ্ববিবেক ডুকরে কেঁদে ওঠে এক হায়েনার মৃত্যুতে। সরব হয়ে ওঠে বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স, এএফপি, গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা গং। মানবিক অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের। তারাও কাঁদছে।

কাঁদছে বাংলাদেশের কিছু মানুষও – ভুল বানানে, ভুল ভাষায়, ভুল উচ্চারণে। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো “ভুল বিশ্বাসে”। কেনো কাঁদো তুমি? এই দেশ, এই মাটির সন্তান হয়ে কার জন্য চোখের পানি ফেলো? যাঁরা বেইমানী করেছে এই মাটির সাথে, তোমার মায়ের সাথে, তোমার ভাইয়ের সাথে তার জন্য কাঁদো?

ভুল কারণে না কেঁদে বরং নিজের আত্মপরিচয় খোঁজো মুমিন বাংলাদেশ, জানো তোমার গর্বের সঠিক ইতিহাস। বিস্ময় লাগে যখন নিউজফিডে ঘুরে ফিরে আসে মৃত্যুর আগে নিজামীর যাপিত জীবনের সকরুণ বর্ণনা। মিডিয়ার ভূমিকা এখন উল্লেখ করা মতোন।

একজন নরখাদক মৃত্যুর আগে কী খেয়েছে, কী বলেছে, কীভাবে মোনাজাত করেছে, কতবার আল্লাহর নামে জিকির করেছে তার বিস্তারিত বিবরণ। সযতনে বেদনা এঁকে দেয়ার চেষ্টা রয়েছে এসব বর্ণনায়। কোন সে সমবেদনা যা আদায় করতে চায় এই সংবাদপত্রগুলো, কেনই বা চায়! কি স্বার্থ তাদের!!

জানি, জানি, সাংঘাতিক সাংবাদিক ভায়েরা আমার, কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারি। আপনারা বিবেক বন্ধক রেখেছেন টাকশালে, আপনাদের কলমের কালি হয়ে কথা বলে ঘাতকের কণ্ঠস্বর। তবুও সাংবাদিক হয়েছেন বলেই আপনাদের ক্ষমতা অসীম। আপনাদের সাত খুন মাফ। কেউ আপনাদের কিচ্ছুটি বলতে পারবে না।

তা আপনারা রাঘব বোয়াল বা চুনোপুঁটি যে সংবাদপত্রই হোন না কেনো। কাক কাকের মাংস যেমন খায়না, তেমনি আদর্শ যতই ভিন্ন হোক না কেনো, এক সংবাদমাধ্যম অন্য সংবাদমাধ্যমের ভুল আচরণের, ভুল নীতির সমালোচনা করে না। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বলে কথা।

হতাশ হয়েছি প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের শিরোনামেও। নিজামীর প্রধান পরিচয় কি? তার কোন অপরাধের বিচার হলো? নিশ্চই জামায়েতের আমীর হওয়ার বিচার নয়। তবে শিরোনামে কেন আমীর পদবীকে হাইলাইট করেছে পত্রিকাগুলো? কেন শিরোনামে বড় বড় অক্ষরে লেখা হলো না তার রাজাকার পরিচয়? ভেতরে বিস্তারিত লিখলেও শিরোনাম গুলোতে কেন তার প্রতিফলন নেই?

সব সংবাদপত্র দেখার সুযোগ হয়নি, তবে যতগুলো পড়েছি একমাত্র আমাদের সময় ডট কম এ একটা মনমতো শিরোনাম পেলাম “সর্বঘৃণ্য রাজাকার আলবদরের প্রতিষ্ঠাতা নিজামীর ফাঁসি হয়েছে”। আলবদর পরিচয়টা শিরোনাম করেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনও। আপনাদের ধন্যবাদ।

নিজামী বন্দনা করতে এগিয়ে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সেলিব্রিটি শিক্ষকও। তার বিপক্ষে দেশপ্রেমিক শিক্ষক সমাজের প্রতিক্রিয়াও চোখে পড়ে না। কাকের মাংস না খাওয়ার সূত্র কাজ করে এখানেও। এই পোড়া দেশে সৎ, সাহসী উচ্চারণে আক্রান্ত হয় মানুষ। কিন্তু এই পাকিপ্রেমীরা রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

হে পাকিপ্রেমী সুশীল সমাজ, আপনাদের নীতিহীন নষ্টামীতে বাংলা মায়ের কত ক্ষতি হয়, তার কত সন্তান বিভ্রান্ত হয়, তার হিসাব কি করেছেন কখনো? মনে রাইখেন, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। রাজাকারদের ফাঁসিই তার প্রমাণ। নিশ্চই ধর্মের কল আপনাদের জন্যও বাতাসে নড়বে একদিন, জবাবদিহি করতে হবে আপনাদেরও। সেই অপেক্ষায় রইলাম। জয় বাংলা।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.