সন্তান জন্মের পর মানসিক বিষাদে চাই ভালবাসা

শারমিন জোহরা সিমি: বেবি ব্লু বিষয়টির সাথে আমরা কতজন পরিচিত? আমি বিদেশে আসার আগে জানতাম না। শিশু জন্মের পর মায়ের মানসিক বিপর্যয় যে একটা স্বাভাবিক ঘটনা এটা আমাদের ডাক্তাররা বলে দিলে অনেক সুবিধে হতো যেটা উন্নত দেশে বলে দেয়া হয় যা একজন সদ্যপ্রসূত মায়ের জন্য নীল সময় এবং আরো অনেক নামে পরিচিত

Sharmin Shimiএকজন নারী যখন মা হোন তাদের জীবনে হঠাৎ একটা বড় পরিবর্তন আসে, যা আগে কখনই সে প্রত্যক্ষ করেনি তার জীবনের ছক রাতারাতি পালটে যায় ঘুম, খাওয়া, বিশ্রাম কোনকিছুরই ঠিক নেই যেন ঘন্টায় পাঁচ-ছয়বার বাচ্চাকে পরিস্কার করানো, সেই সাথে কাপড় বদলানো, বারে বারে খাওয়ানো আর স্বাভাবিক কাজকর্ম-এসব করতে করতে মা যেন নিজের জীবনকেই হারিয়ে ফেলে এ থেকে কবে পরিত্রাণ পাবে সেজন্যে মনে মনে অপেক্ষা করতে থাকে আস্তে আস্তে তার মধ্যে একঘেয়েমি আর হতাশা চলে আসে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সবাইকে অসহ্য লাগে। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পরপরই অনেক মা কাঁদতে শুরু করেন, কখনও জোরে, কখনও বা ফুপিয়ে ফুপিয়ে। এসবই অবসাদের লক্ষ্মণ।

এ সময় শরীরে হরমোনেরও পরিবর্তন হয়। মেয়ে থেকে হঠাৎ মা হয়ে যান, স্তন নতুন আকার নেয়, সেখানে দুধ আসে। সবমিলিয়ে শারীরিক ও মানসিক ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।

আমার বেবি দীর্ঘ সময় নিয়ে খেত, ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম কোমর ধরে যেত রাতে ঘুমের মধ্যে উঠে যখন খাওয়াতাম কী যে ক্লান্তি লাগতো! একটু ঘুমোবার জন্যে অপেক্ষা করতাম, কিন্তু চাইলেই পারতাম না কিছু প্রয়োজন হলে কাউকে না পেলে খুব বিরক্ত হতাম নিজের মা কাছে থাকতো, তার উপরে রাগ ঝাড়তাম!

একঘর থেকে অন্য ঘরে যাবার সুযোগ কম হতো ড্রয়িং রুমে গেলে মনে হতো, পৃথিবী এতো বড়, এতো আলো-বাতাস, এতো কিছু!!

এই একঘেয়ে জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে যখন সাহায্যের জন্য, মনে ভরসা দেবার জন্য পাশে কাউকে না পাওয়া যায়।

কিছুদিন আগে জানলাম এক মা তার নবজাতককে নিজেই হত্যা করেছে, তার কিছুদিন পর অস্ট্রেলিয়ার এক মা তার বাচ্চাকে… মানসিক অবস্থা কোন পরিস্থিতিতে গেলে সে এমন অসুস্থ আচরণের শিকার হোন! আমরা কেবল সমালোচনায় পারদর্শী, কর্মে নই কিংবা উপদেশে- “এই করো সেই করো, এটা এভাবে করলে কেন? মা কি আর কেউ হয় না নাকি!!”

অথচ “যেকোন সাহায্যের জন্যে আমি তোমার পাশে আছি”এমন কথা কয়জনে বলে? অথবা, “ও ঘুমাচ্ছে তুমিও ঘুমিয়ে নাও; ওর কাপড় আমি ভাঁজ করে রাখব” এমন ছোট ছোট কথা কতোই না ভরসার জায়গা করে দিতে পারে!

আমাদের টিপিক্যাল মায়েরা তাদের মেয়েদের সংবেদনশীল বিষয়গুলো উপলব্ধি করলেও শ্বাশুড়ি হলে তিনিই কেন যেন তা আর বোঝেন না, বা বুঝবার প্রয়োজন মনে করেন না! ওদিকে একক পরিবারে একজন মা সাপোর্ট পাবার লোক পান কম

এসময় কোনো চিকিৎসার বিশেষ প্রয়োজন পড়ে না। সবার সহযোগিতাই এই পরিবর্তনের প্রধান উপশম। আর কেবল স্বামী যদি পূর্ণ ভালবাসা নিয়ে পাশে থাকেন, তবেই যথেষ্ট কেবল একজন মানুষের ভালবাসা সহযোগিতাই কখনও কখনও এক পৃথিবী সৌরভ দিয়ে আগলে রাখতে পারে একটি পরিবার, তা সে যৌথ পরিবারেই হোক বা ক্ষুদ্র পরিবারে

 

শেয়ার করুন:
  • 94
  •  
  •  
  •  
  •  
    94
    Shares

Yes, I agree with you. Who does not know that killing is unacceptable! Surely a killer should be punushed!
I did not tell it, I did not encourage to kill anyone.
Actually I was focused on my topic, and don’t want to say other legal matters then. So that killing point can’t raised.

And if we understand the new moms mind, condition, then we will be able to keep away the topic of killing a baby!
Hope you understand the matter what I said.

your motive is correct , may be i can not understand what a great straggle a women usually faced during this period , to be a mom it is so many difficult to a new young women … You cant say that to kill a baby is correct. Its never be a solution . Don’t be emotional and don’t write like this line , then others young women will be miss-leaded . What ever happened in your life , that is not a solution to kill a child. She have to be punished.
If she cant then no need to take baby.

Remember killing is not a solution..

মানসিক সুস্থতা থেকে সুস্থ সল্যুশন আশা করা যায়। অসুস্থ মস্তিষ্ক অসুস্থ ব্যাপার ঘটায়। আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়, তেমনি সন্তান হত্যাও নয়। এসব মানসিক বিপর্যয়ের চরম নমুনা। যেটা সমাজে ঘটছে আর লেখক শুধু তুলে ধরেছেন। । বেবি ব্লুজ কে আমাদের সমাজে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয় না বলেই এই উদাহরন গুলো এসেছে বলে মনে হয়। এই উদাহরনে তরুণী মায়েদের দিক ভ্রান্ত হবার কারন দেখছি না। জৈবিক ভাবেই মায়েদের ভেতর মাতৃত্ব নামক হরমোন বয়। তারপরও যদি কোন অস্বাভাবিক কাণ্ড তিনি ঘটান, তার শাস্তি দেবেন বইকি, কিন্তু কেন ঘটালেন তা জেনে নিতে ভুলবেন না। লেখকের মন্তব্য কামনা করছি।

আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার সাথে অবশ্যই একমত, হত্যা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। বরং সর্বোচ্চ শাস্তি যোগ্য অপরাধ।

আমি কোথাও বলিনি- শিশুকে মেরে ফেলতে, যদি কখনো বলে থাকি অবশ্যই শাস্তি পাওয়ার দাবি থাকে। লিগ্যাল বিষয় বিশ্লেষণে যাইনি। আমার বিষয় সেটি নয়, বরং যা বলতে চাইছি সেটিতে ফোকাসের চেষ্টা করেছি। শিশু হত্যায় উত’সাহ মুলক কিছু কি বলেছি? হয়তো বোঝাতে পারিনি বলে আপনার এ ভ্রান্ত ধারনা তৈরী হয়েছে।

প্রতিটা নারীর নাড়ী-ছেঁড়া সম্পদ তার সন্তান। তার বিন্দুমাত্র কষ্টে মা নিজেই কেঁদে ফেলে। আর নয় মাসের দীর্ঘ কষ্টটা কি তা মা-ই জানেন, কেবল একটি সন্তান লাভের স্বপ্ন সেই কষ্টকে সুখে পরিণত করে।
কিন্তু সন্তান জন্মের পর, সে প্রথম কি দ্বিতীয়- অল্প বা বেশী বয়সী মা যে কারো ক্ষেত্রে সহমর্মিতা- সহযোগিতার অভাবে বিষাদ ভর করে। আর এটি প্রকৃতি প্রদত্ত, যা আমরা অনেকেই জানিনা। উল্টে প্রসূতি মায়ের সাথে বরূপ আচরণ করি। আর এটিই বলতে চেয়েছি লেখায়।

এই বিষাদ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন মাত্রার হয়। আমারটি ছিল খুবই সামান্য, কেবল আমার মা ছাড়া (তাও সব সময় নয়) কারো উপর তার আঁচ পড়েনি।

আর এই বিষাদ উপেক্ষা করার মত বিষয় নয়, কখনো কখনো এতই ভয়াবহ হতে পারে যে নিজ সন্তানকে খুন করে ফেলার মত ঘটনাও ঘটেছে।এটি প্রসব পরবর্তী মানসিক অবস্থা, পরিকল্পিত নয়, বেবি প্ল্যানের মত। এতটা ভয়াবহ হবে জানলে হয়তো সেই মায়েরা মা হতেই চাইত না।যাহোক, সেটি তারাই ভাল বলতে পারবে।
আমি কেবল এর চুড়ান্ত ভয়ঙ্কর পরিনতির কথা বোঝাতে দুটি হত্যা কান্ডের উদাহরণ টেনেছি। বলিনি যে এটিই সমাধান। তা কখনোই হতে পারে না। বরং হত্যা তো দূরে থাক মা ও তার পরিবার বিষাদ মুক্ত হয়ে পুরোপুরি ভাল থাকতে পারেন, যদি নিকটজনের সাহায্য পান। আর এটিই একমাত্র সমাধান।
আশা করি বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.