ফিলিস্তিনি শিশু- আগামীর তরুণ প্রজন্ম

Suhad-and-Core-Groupউইমেন চ্যাপ্টার: ফিলিস্তিনের নাবলুসে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে উঠা, পাশাপাশি নিজের তিনটি সন্তানকে এখানে গড়ে তোলা চাট্টিখানি কথা না। অনেক না-পাওয়া আর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে হঠাৎই অনুভব করলাম, আমাদের এখানে কোন ভাল মানের কমিউনিটি সেন্টার নেই। ২০০৭ সালে শহরের একটি ক্যাফেতে দুজন তরুণী মার্কিন নাগরিকের দেখা পাই। তারা আমাকে নাবলুসের বাচ্চাদের কথা জিজ্ঞাসা করে এবং একজন মনোচিকিৎসক হিসেবে বাচ্চাদের নিয়ে আমার ভাবনার কথা জানতে চান। তখন তারা আমাকে টুমরো’স ইয়ূথ অর্গানাইজেশন (টিওয়াইও) এর লক্ষ্য সম্পর্কে জানান। আমার মন তখন দ্রুত চলছিল, ভাবনাগুলো এলোমেলো হয়ে গেল। আমি জানতাম, যে প্রোগ্রামের কথা তারা বলছেন, এতে করে উপকৃত হবে হাজার হাজার শিশু। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। ২০০৮ সালে আমরা আমাদের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিই। আর এবছর এপ্রিলে একজন মনোসামাজিক প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে আমি আমার পাঁচ বছর পূর্তি উদযাপন করি।

টিওয়াইও মধ্যপ্রাচ্যের সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে শিশু, তরুণ এবং পিতামাতাকে নিয়ে কাজ করে। লক্ষ্য একটাই, তাদের সুস্থ, সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল পরিবার এবং কমিউনিটি সদস্য হিসেবে গড়ে তোলা। একজন সংগঠক হিসেবে আমার কাজ হচ্ছে আমাদের সেন্টারের সবগুলো শ্রেণীকক্ষে মনোবিজ্ঞানসম্মত ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিটি শিশু, তরুণ, স্বেচ্ছাসেবী, নারী এবং পিতামাতা এখান থেকে মনোসামাজিকভাবে সমৃদ্ধ ধারণা লাভ করছেন।

টিওয়াইও বিশ্বাস করে যে, শিশুদের সাথে কাজ করা জীবনের সবচেয়ে বড় এক বিনিয়োগ। টিওয়াইও এর মূল প্রোগ্রাম কাজ করে চার থেকে আট বছরের শিশুদের সাথে এবং খেলা ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেকে আবিষ্কারের পথ খুলে দেয়। একজন মনোবিজ্ঞানীর দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা চাই শিশুরা তাদের গণ্ডির বাইরে গিয়ে চিন্তা করুক এবং তাদের জীবনের বিভিন্ন বিকল্প উপায়গুলো চিনতে পারুক। আমরা এই শিশুদের চারপাশে ইতিবাচক রোল মডেল গড়ে তুলি, আর এ কাজটি করছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বয়সীদের নিয়ে গড়ে তোলা ইয়ূথ সার্ভিস লার্নিং প্রোগ্রাম। শিশুরা যখন এসব স্বেচ্ছাসেবীদের দেখে, জানে যে, এরা এসেছে শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে এবং এরা সক্রিয় কমিউনিটি সদস্য উচ্চশিক্ষা আদায় করে নিচ্ছে, শিশুরাও তখন নিজেদের সেই পর্যায়ে ভাবতে শেখে।

নাবলুসের চারটি শরণার্থী শিবির থেকে যেসব শিশু আসে, তাদের অধিকাংশই বেড়ে উঠেছে মায়েদের সান্নিধ্যে। আর এসব মায়ের বেশিরভাগই জীবনে ভয়াবহ রকমের মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে পার করেছেন। অধিকাংশ মা’ই খুব কম বয়সে স্কুল ছেড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে, অধিকাংশেরই বয়স ছিল ১৪ বছর। তারা যখন নিজেরাই শিশু, এবং বড় করছেন অন্য শিশুদের। এদের প্রয়োজন হয় অনেক বেশি সহায়তার। শুধুমাত্র শিশুদের সহায়তা দিয়ে নাবলুসের তরুণ প্রজন্মের জীবনে কোন পরিবর্তন আনা সম্ভব না। একথাটি ভেবেই আমরা গড়ে তুলেছি দ্য উইমেন’স গ্রুপ-আমাদের শিক্ষার্থীদের মায়েদের জন্য সহায়ক প্রোগ্রাম। অযাচিত হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে এটি একটি পদক্ষেপ বলতে পারেন। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে টিওয়াইও এর কার্যক্রমকে আমরা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আগামী প্রজন্মের সাথে প্রতিদিন কাজ করা একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা।

লেখক পরিচিতি: সুহাদ জাবি, মনোসামাজিক প্রোগ্রাম ম্যানেজার, নাবলুস, ফিলিস্তিন

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.