প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জাতীয় মাতা হয়ে যান

0

মলি জেনান: মননশীল মানুষ হবার চর্চাটা ক্রমশ বৃত্ত বন্দি হয়ে যাচ্ছে। চারদিকে মেরুদণ্ডহীন বা ভাঙ্গাচোরা মেরুদণ্ডসমৃদ্ধ(!) মানুষ বাড়ছে দ্রুতগতিতে। চাপাতি/ছুরি/পিস্তল/বন্দুক অদৃশ্য থেকে মানুষের ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে আর বেঘোরে খুন হওয়া অধমরা মরেও মানুষ হতে পারছে না!

PM 1খুনকে বৈধতা দিতে তাতে লাগানো হচ্ছে নাস্তিক, ব্লগার, ধর্মবিদ্বেষী, আদিবাসি, লাল-নীল দলভুক্ত, এবং হালের সেতার বাদক ও সমকামী ট্যাগ!!! বিবৃতি ‍দিয়ে হোক বা না দিয়ে হোক এই বিচ্ছিন্ন(!) ঘটনা গুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে যাচ্ছেন স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্র; এদিকে খুনের সাজা না পেয়ে খুনীরা পরবর্তী টার্গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে।

আর ধর্ষণ! প্রতিদিন সকালের চা-নাস্তার সাথে আজকাল দুই/চারটা ধর্ষণের সংবাদও প্রতিনিয়ত নিয়ম করে হজম করে যাচ্ছি। তার বহু ব্যবহার দেখে আজকাল আর স্তম্ভিত বা লজ্জিত হই না বরং হাততালি দিতে ইচ্ছা করে!

একটা বিষয়ের এত বহুবিধ ব্যবহার দেখে মুগ্ধ না হয়ে কি উপায় আছে, বলুন? কোন মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন রাজি হচ্ছে না কী আর করা, ধর্ষণ, প্রেম তো অনেক দীর্ঘ ব্যপার সাহস করে একঘন্টার একটা প্রস্তাব দিয়েছেন তাতেও রাজি না, তো- ধর্ষণ, কোন মেয়ে দেখতে সুন্দর, প্রতিদিন আপনার সামনে দিয়েই চলাচল করছে আপনি তো বাঙ্গালী পুঙ্গব এত সহ্য হবে কেন, সুতরাং ধর্ষণ।

মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, মা লজ্জায় মুখ না লুকিয়ে তার বিচার চাইছে, ফলাফল মা হোক সেও তো নারী, কাজেই তাকেও ধর্ষণ, জমিজমা নিয়ে বিরোধ-প্রতিপক্ষের মেয়ে না হোক বউ তো আছে, ঘায়েল করার একটাই উপায়, ধর্ষণ, একে তো সংখ্যালঘু তার উপর বেশ সম্পত্তি!  আরে এদেশে থাকার দরকার কি? তাড়ানোর একটাই উপায় বৌ-ঝিকে ধর্ষণ, সরকার তো বলেই দিয়েছে এদেশে আদিবাসি নেই তো তোদের থাকার দরকার কি? সমাধান একটাই, ধর্ষণ, স্বয়ং সৌদিতেই দাসী’রা সব যৌনদাসী, তো বাঙ্গালী পুঙ্গবদের আর দোষ কোথায় তো এখানেও সেই একই বিষয়। আর কোন বিষয়ের এত বহুবিধ ব্যবহার কেউ দেখেছেন?

মানবিকতার মশাল জ্বালবার প্রয়োজনে নিজ গর্ভে আমি যে কন্যাটিকে তিল তিল ধারণ করে বহু প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে পৃথিবীতে আনতে পেরেছি বলে গর্ববোধ করতাম তাকে নিয়ে আজ দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। প্রতিনিয়ত দুঃসংবাদ আর শঙ্কায় লুট হয়ে যাচ্ছে আমার মনন আর ঘর-গেরস্থালী! কন্যা না হয়ে পুত্র হলেই যে স্বস্তিবোধ করতাম তাও নয়- হয় সে চাপাতির আঘাতে পৃথিবী ত্যাগ করতো, না হয় চাপাতিওয়ালা হতো, হয় সে ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের বাড়ি খেত, না হয় ধর্ষক হতো, মুক্তমনা হলে তো নাস্তিকতার ট্যাগ বাধ্যতামূলক না হলেও ইস্ত্রির ভাঁজ ভাঙ্গা পাঞ্জাবী পরিহিত সুশীল বা বুদ্ধি ব্যবসায়ী হতো।

তাই সব দেখে-শুনে সত্যিই আজ ভাবছি “মাননীয় প্রধান মন্ত্রী” দয়াকরে আপনি জাতীয় মাতা হয়ে যান; ইংরেজি ছবি “দ্যা চেঞ্জ আপ” বা পরমব্রত চট্রোপাধ্যায়ের “হাওয়া বদল” ছবির মত কোন এক জাদু-মন্ত্রবলে আমাদের সবার সন্তান আপনার সন্তান হয়ে উঠুক। তবেই ওরা বেচেঁ যাবে, ওদের গায়ে কোন ট্যাগ লাগবেনা, কোন চাপাতি/ছুরি/বন্দুক ওদের দিকে ধেয়ে আসবার আগেই পরিকল্পনাকারীর দেশে-বিদেশে শাস্তি হবে আর ধর্ষিত হবার কোন আশঙ্কাও নিশ্চয় থাকবে না। এদিকে আমরাও  বাকি জীবনটা নিশ্চিন্তে পার করে ‍দিব!!

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ২১৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.