জীবনের টুকরো গল্প- ১

সাকিনা হুদা: হঠাৎ করেই আরণ্যর সাথে দেখা হয়ে গেল শর্মির। নিউমার্কেটের গেটে। খালাম্মা ডাক শুনে তাকালো শর্মি। আরণ্য। শর্মি বললো, কী রে তোর মা আসেনি? তুই একা?

-না মা আসেনি। কাছে এলো আরণ্য। কেমন আছো খালামণি?

Sakina Hudaশর্মির প্রিয় বান্ধবী তমালিকার মেয়ে আরণ্য। তমালিকা আর শর্মি একসঙ্গে পড়ালেখা করত। শর্মির তিন ছেলে। আর তমালিকার ওই একটি মাত্র মেয়ে আরণ্য। দেখতে সুন্দর, ভালো চাকরি করে, ওর বিয়েতে শর্মি উপস্থিত ছিল। ছেলেও ভালো চাকরি করে, শুনেছিল শর্মি। তারপর বছর না পেরোতেই ডিভোর্স হয়ে গেল আরণ্যর।

ছেলের এমন কিছু বদগুন আছে, আরণ্যর মতো মেয়ে সেটা মেনে নিতে পারে না। আরণ্যর মায়ের কথা এ মুহুর্তে মনে পড়ে শর্মির। তমালিকারও ডিভোর্স হয়ে যেতে পারতো। শর্মি জানে তমালিকার স্বামী কতটা চরিত্রহীন। তমালিকা মানতে চায়নি। কিন্তু সমাজ সংসার ওকে মানতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু বুকের ভিতরে নিঃশব্দ আতর্নাদ শুধু নিজেই কান পেতে শুনেছে আর মেয়েটিকে মানুষ করেছে। লড়াই করতে শিখিয়েছে জীবনের সঙ্গে, মিথ্যার বিরুদ্ধে।

আরণ্য কাছে এলো শর্মির।

-খালামণি, আমি তো বাসা নিয়েছি ইস্কাটনে। এই যে আমার কার্ড। ফোন নাম্বার আছে এখানে। মা আছে আমার কাছে। চলে আসুন না খালামণি, মা খুব খুশি হবে।

দু’দিন পরই আরণ্যর বাসায় গেল শর্মি। দুই বান্ধবীর প্রায় বছর দুই পরে দেখা হলো। আরণ্য অফিসে, তমালিকা একা। শর্মিকে পেয়ে বিহ্বল তমালিকা। কত কথা জমে আছে দুই বান্ধবীর মনে। শর্মি জানতে চাইল, কেমন আছিস তমালিকা?

তমালিকার উত্তর, ভালো আছি। আরণ্যর কাছে চলে এসেছি। একেবারে, চিরকালের জন্য। আসলে আরণ্যই আমাকে ওই নোংরা শৃংখল থেকে মুক্ত করে এনেছে। ও আমাকে চিনিয়েছে স্বাধীনতা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমার সন্তানের স্বাধীনতা আমাকেও ছুঁয়ে গেছে।

শর্মির দু’চোখে পানি। বুকের মধ্যে কিসের যেন আর্তনাদ, হাহাকার। শর্মি ভাবে, তমালিকা জানেনা ওর বুকের ভিতরের ক্ষতের কথা। একটি জায়গায় শর্মি আর তমালিকার অবস্থান একই। শুধু শর্মি তিন পুত্র সন্তানের মা। আর তমালিকা মাত্র একটি কন্যা সন্তানের জননী। তবুও শর্মি একা। শর্মি ইচ্ছে করলেই বন্ধন ছিন্ন করে একা চলতে পারেনা। শর্মির মনে হয়, ওর যদি তিনটি মেয়ে সন্তান থাকতো, অথবা আরণ্যর মতো শুধু একটি মাত্র মেয়ে…..!  

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.