আমাদেরকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে…..

কাকলী তালুকদার: ৫২,৬৯,৭১ কে ধারণ করে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে! মানব বন্ধন, ফেস্টুন আর মশাল মিছিলে কাজ হবে না আর! এখন সময় চূড়ান্ত কিছুর, খুব দেরি হয়ে যাচ্ছে আমাদের! এখনই রুখতে হবে, শত্রুদের আবার চিহ্নিত করতে হবে!  সরকারের বিচারহীনতা, এবং অন্যায় প্রশ্রয়ের বিরুদ্ধেও আমাদেরই কথা বলতে হবে, হবেই!

kakoliপাড়ায়, মহল্লায় সবখানে আমাদের ছড়িয়ে পড়তে হবে! যার যা আছে, প্রয়োজনে আরো কিছু সংগ্রহ করে নামতে হবে। আমাদের অপেক্ষা করার সময়টুকুও এখন অবশিষ্ট নেই! মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বলেই আওয়ামী লীগের উপর পূর্ণ ভরসা নিয়ে বসে থাকার সময় নেই! তারাও ভুল করছে একের পর এক! তারাও ধর্মকে পুঁজি করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছে!

জনগণের ক্ষমতার লোভ নেই,  তাদের আছে দেশ, আছে মানুষ, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন ধর্মের! বিভিন্ন বর্ণের! এটাই একটি রাষ্ট্রের মূল চেহারা! তাই প্ৰকৃতপক্ষে জনগণই দেশের মালিক। সরকার যদি জনগণের নিরাপত্তা না দিতে পারে সেই সরকার ব্যর্থ! এই ব্যর্থতার দায় আমাদের, আমরা সরকার বানিয়েছি ভোট দিয়ে! তাই সরকারের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে আমাদেরই দাঁড়াতে হবে! আজ বাংলাদেশে যদি আর কোনো রাজনৈতিক দলের সত্যিই ক্ষমতা না থাকে, একমাত্র আওয়ামীলীগকেই যোগ্য মনে হয় তবে এই সরকারকে শুধরাবার ব্যবস্থা আমাদেরকে দায়িত্ব নিয়েই করতে হবে!
আমাদের জনজীবন আজ বিপর্যস্ত! এই দায় আমাদের, রাষ্ট্রের এবং সরকারের!

রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যই সরকারকে নির্বাচিত করা হয়! আজকে ক্ষমতায় বসে সরকার জনগণের নিরাপত্তার কথা এড়িয়ে কিংবা অনিরাপত্তার দিকে ঠেলে যে উন্নয়নের কথা বলছে এগুলো সরকারের ব্যক্তিগত লাভ- লোকসানের হিসাব! সত্যিকারের দায়িত্বশীল সরকার প্রথমেই, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দেবে, তারপর উন্নয়নের চিন্তা করবে!

অথচ আমাদের সরকার প্রথমেই উন্নয়নের কথা বলে জনগণের বিপক্ষে নিজের অবস্থান দাঁড় করাচ্ছে! নাস্তিক-আস্তিক বিষয়টি ধর্মান্ধদের চিন্তার খোরাক হতে পারে, কিন্তু একটি রাষ্ট্রের চিন্তা এতো নগণ্য হওয়া খুবই লজ্জাজনক এবং হতাশাজনক! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  খুব দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন এই কথাটি বলে, যারা ধর্মের বিরুদ্ধে বলবেন বা লিখবেন তাদের মৃত্যু নিয়ে রাষ্ট্রের কোনো দায়িত্ব নেই! একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এই রকম কথা বলা মানে সরকারের অনেক বড় দুর্বলতা এবং ব্যর্থতা!
এই দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে রাজপথে নামতে হবে আমাদেরকেই, এবং এখনই!

Flag 4আমরা বহু কষ্টে ৭১ এ স্বাধীনতা ঘরে এনেছিলাম অথচ আমাদের পরবর্তী সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে আজ আমরা আবার সেই একই অবস্থানে ফিরে গেছি! আমি ৭১ দেখিনি, তবে ইতিহাস বলে ৭১ পূর্ববর্তী আর এখনকার পরিস্থিতি একই রকম! প্রতিদিন খুন হচ্ছে সেই মানুষগুলো যারা সমাজে কথা বলে, ক্ষমতার লোভে নয়, তারা কথা বলে নিজের দেশকে ভালবাসে বলে, দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে বলে! তারা ৫২ কে, ৭১ কে ভালবাসে বলে! তারা দেশের আপামর জনতাকে ভালোবাসে বলে মুখ খোলে, চিৎকার করে! মৃত্যুকে ভয় পায় না, তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা সবার আগে!

রাষ্ট্রের কিছুই যায় আসে না আজ, লাশ পরে থাকে এখানে, ওখানে! রাষ্ট্র সেই হত্যার বৈধতা দিয়ে দেয়! তবে আজ রাষ্ট্র যে অন্যায় প্রশ্রয় দিয়েছে হত্যার বৈধতা দিয়ে সেই প্রশ্রয়েই একদিন আজকের শাসকগণ লাশ হবে এই বাংলায়! যদি  আমরা আজ রুখে না দাঁড়াই এই চাপাতির অপ- সংস্কৃতিকে!
আস্তিক, নাস্তিক বিবেচনা নয়, আমরা প্রতিটি নাগরিক জীবনের নিশ্চয়তা চাই! আমরা প্রত্যেকের চিন্তাকে সম্মানের সাথে বিবেচনা করে পথ চলতে চাই! যে বিষয়টি প্রতিটি নাগরিক জীবনকে সুস্থ রাখবে তা  বিবেচনা করে হবে আমাদের রাষ্ট্রের পথ!

এখানে উন্নয়নের কথা বলে অন্যদিকে নাগরিক জীবন হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ার উন্নয়ন আমাদের প্রয়োজন নেই! আর  আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কখনোই এটা ভাবা উচিত নয় ঊনিই কেবল দেশের মূল চাবিকাঠি! ঊনাকে জনগণের মতামতকে বিবেচনায় নিতেই হবে, ভাবতে হবে সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা! প্রতিটি অন্যায়, অপরাধ, হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবেই!

আজ যদি এসব হত্যার বিচার না হয় তবে যেদিন একটি একটি করে শোষকের লাশ পড়ে থাকবে রাস্তায়, আমরাও কথা বলবো না সেই লাশ দেখে, না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যাব! দায়িত্ব নেবো না দেশ রক্ষার। আমাদের  মানবিকতা যদি আজকের মতো সেদিনও কেঁদে উঠে শোষকের লাশ দেখে! দিব্যি দিয়ে বলছি, নিজ হাতে সেদিন আমার মানবিকতাকে হত্যা করব!

আজ যে লাশকে নাস্তিক বলে রাষ্ট্র নাগরিক জীবনকে অস্বীকার করছে! হত্যা করছে শিক্ষক,শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, সাধারণ মানুষকে! হত্যার পর নাস্তিক নামক ইউনিফর্ম পরিয়ে দিচ্ছে লাশের গায়ে! সেই হত্যাকে রাষ্ট্র বৈধতা দিচ্ছে, নিজের ক্ষমতা বাঁচানোর জন্য! তার প্রতিকার এখনই করতে হবে!
আর আমরা সাধারণ জনগণ সরকারের দেশ মনে করে নিজের দেশকে ছেড়ে দিয়ে দিব্যি বসে আছি! একটি স্কুলের সকল কিছু বিবেচনার জন্য স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি থাকে! এতে স্কুলের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের সকল সমস্যা চিহ্নিত করা হয়, এক ধরনের জবাবদিহিতা কাজ করে এখানে!
আমাদের নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং উন্নয়নের নামে জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে কিনা তার কোন জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নেই! যার ফলে সরকার কার সাথে কি চুক্তি করছে, কার সাথে হাত মিলাচ্ছে সেই সুস্পষ্ট চিত্র আমরা দেখতে পাই না! আমরা যখন দেখতে পাচ্ছি সরকারের কার্যক্রম, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে!

যা একটি গণতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্য খুব ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে নাগরিক জীবনে! আমাদের এখনই ঘুরে দাঁড়াতে হবে, বুঝতে হবে দেশ আমাদের! সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধি মাত্র! তার ভুলগুলো আমাদের দেখিয়ে দিতে হবে! না হলে রাজপথ দখল করেই দাঁড়াতে হবে! মনে রাখতে হবে এই দেশ এখনও সাধারণ মানুষের রক্ত- ঘামের টাকায় চলে!  এই রাষ্ট্র নামক যন্ত্রটি সাধারণ মানুষের নিঃশ্বাস দিয়ে ঘুরছে প্রতিদিন!
আমাদের ইতিহাসগুলোই আমাদের অনুপ্রেরণা এখনও! সুতরাং আমরা ঘুরে দাঁড়াবোই, এবং এখনই!

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যে জাতি যত বিভক্ত, সে জাতির তত দ্রুত পতন ঘটে। একমাত্র ঐক্যবদ্ধ জাতিই পারে সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিজয়ী হতে। কেউ একজন জাতির সর্বেসর্বা হয়ে উঠলে জাতির সর্বনাশ ঠেকানো অসম্ভব হয়।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.