প্যাডের প্রতিবাদ এখন খোদ লাহোরেও

উইমেন চ্যাপ্টার: মাত্র গেল বছরের ঘটনা। দিল্লীর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা স্যানিটারি প্যাডে নারীবাদী বার্তা লিখে ভরে ফেলেছিল পুরো ক্যাম্পাস এলাকা। ধর্ষণ আর লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে এ ছিল এক অভিনব প্রতিবাদ।

একজন জার্মান শিল্পীর অভিনব এই ধরনের প্রতিবাদ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এভাবে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছিল তারা, যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খুব একটা ভালো চোখে দেখেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বার্তা লেখা স্যানিটারি প্যাডগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলে। কিন্তু প্রতিবাদের এই অভিনব পন্থা এরপর ছড়িয়ে পড়তে থাকে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও।

এবারের ঘটনা এ বছরের চলতি মাসের, এপ্রিলের। ভারতের সীমারেখা পেরিয়ে এবার পাকিস্তানের লাহোরে, ১৩ বছর বয়সী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিকনহাউজ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। ভাবা যায়, পাকিস্তানের মতো একটা কট্টর ইসলামপন্থী দেশে এ ধরনের প্রতিবাদ! সেখানকার শিক্ষার্থীরা এটাই করে দেখিয়েছে।

Pad Lahoreএখানকার শিক্ষার্থীরা খুব নান্দনিক কায়দায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্যানিটারি প্যাড দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল আর্টস ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী মাভেরা রহিম, ইমান সুলেমান, মেহসুম বাশারাত, নূর ফাতিমা আর শেরবাজ লেহরি তাদের বন্ধু, তথ্য ও প্রযক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদ শেখকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়, যা অসংখ্য নারীর জীবনে একটি বাস্তবতা।

সদ্য তরুণ এই ছেলেমেয়েরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দেয়াল পঁচিশটি স্যানিটারি প্যাড দিয়ে ভরে দেয়, যেগুলোতে পিরিয়ডকালীন লজ্জা  আর একে ঘিরে গড়ে ওঠা কলঙ্কের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে লেখা ছিল বিশেষ বার্তা। বার্তাবাহী প্যাডগুলো নারীর পিরিয়ডের প্রকৃত কারণ এবং এ নিয়ে যেসব ট্যাবু প্রচলতি, সেগুলোও তুলে ধরে।

Pad Lahore Girlএমনকি মাভেরা রহিম আর ইমান সুলেমান তাদের সাদা পোশাকে পিরিয়ডকালীন লাল রক্তের মত রং এঁকে নেয় এবং তাদের বন্ধু  মেহসুম বাশারাত আর আসাদ শেখের সাথে এ নিয়ে কথাবর্তাও বলে। তাদের ভাষ্য, ‘আমরা জানাতে চাই, এটি খুব স্বাভবিক একটি ঘটনা এবং এর মধ্যে কোন আপত্তিকর কিছু কিংবা ভুল বা অন্যায় নেই’।

তারা তাদের প্রতিবাদী কর্মকাণ্ডের ছবিও তুলে রাখে। শেরবাজ লেহরি বলেন, হয়তো এ ধরনের প্রতিবাদের অনুমোদন নেই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এতটা প্রতিক্রিয়া পাবো এটাও ভাবিনি।

প্রতিক্রিয়া দু’রকমই ছিল। কেউ আমাদের ধন্যবাদ দিয়েছে এরকম একটি ইস্যু তুলে ধরার জন্য। আবার কেউ কেউ আমাদের বেহায়া, বেশরম, এমনকি দুশ্চরিত্রা বলে আখ্যায়িত করেছে। কিছু মানুষ পিরিয়ডের রক্তকে অপবিত্র ভাবে।

রহিম জানায়, বহু নারী পুরুষ পিরিয়ড নিয়ে এইসব ট্যাবু ভাঙ্গতে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি আমার ভাইবোনেরাও আমাদের সমর্থন যুগিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেরও বড় সমর্থন পেয়েছি। সবাইকে ধন্যবাদ।

সুলেমান বলেন, ‘এরকম একটি ইস্যু, যেটা নিয়ে মেয়েরা বিব্রত থাকে, সেটি তুলে ধরার গুরুত্ব অনেক বেশি। দেহের সুস্থ স্বাভাবিক এই প্রক্রিয়াকে বিব্রতকর আর ঘৃণার চোখে দেখার এই মানসিকতা ভুলতে সময় লাগবে। পুরুষতন্ত্র অনকে গভীরে বহমান। আমরা এখনও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি’।

এই এপ্রিলের সাত আর আট – এই দুই দিন স্যানিটারি প্যাডগুলো দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের মনে আশঙ্কা ছিল, হয়তো তাদের বলা হবে প্যাডগুলো নামিয়ে নেয়ার জন্য। কিন্তু এরকম কিছু ঘটেনি।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.